এগিয়ে চলাই মন্ত্র Ladyblush এর

0

কত কিছুই তো ঘটে। আমাদের চারপাশেই সব ঘটে চলেছে। জ্ঞানে-অজ্ঞানে তার প্রভাব পড়ে আমাদেরই জীবনে। রাহুল, সুনীত, নাগার্জুনের জন্য Ladyblush গড়ে ফেলা ছিল তেমনই একটি ঘটনা। তিন পুরুষ উদ্যোক্তা কখনও ভাবেননি মহিলাদের ফ্যাশন নিয়ে কিছু একটা করতে চলেছেন। কারণ ওই একটা সেক্টর নিয়ে কোনও আইডিয়াই ছিল না তিন জনের কারও। Ladyblush হল মহিলাদের ফ্যাশনের অনলাইন ডেস্টিনশন।

নির্বাচনের নয়, বরং বাতিলের মধ্যে দিয়ে Ladyblush এর আইডিয়া একটু একটু করে দিনের আলো দেখেছে। যখন আমরা কাজ শুরু করি, ততদিনে অনলাইন শপিং স্পেস নানা ভেঞ্চারের মোটা অংকের পুঁজিতে ভরে গিয়েছে। পরিস্থিতি কঠিন হতে শুরু করেছে। দক্ষতার সঙ্গে আমাদের মডেল গড়াও কষ্টসাধ্য হয়ে গিয়েছিল, বলেন রাহুল শেঠি, Ladyblush এর সিইও এবং সহ প্রতিষ্ঠাতা।

২০১২র শুরুতে রাহুল শেঠি, সুনীত মানচানদা এবং নাগার্জুন শ্রীবাস্তবের হাত ধরে Ladyblush এর প্রতিষ্ঠা। সেই সময় ব্যাঙ্ককের আলফা ফাউন্ডারের কাছ থেকে ৪০ লক্ষ ডলার পুঁজি সংগ্রহ করছিল Ladyblush। রাহুলের মতে, শুরুতে শ্রম এবং টিকে থাকার ওপর জোর দেওয়াই ভালো। যদিও বেশিরভাগ ই-কমার্স ভেঞ্চার দ্রুততার সঙ্গে বৃদ্ধি এবং ভিসি বিনিয়োগকারীদের পুঁজি শেষ করায় ব্যস্ত হয়ে ওঠে। ‘এই যুক্তির পথ ধরে অনলাইন বাজারকে আমাদের মতো সাজাতে শুরু করলাম। ভাবনাগুলিকে জড়ো করে থামলাম মহিলা এবং ফ্যাশনে’, বলেন রাহুল। Ladyblush এর আগে রাহুল এবং সুনীত ন্যাসপার এবং টেনসেন্ট নির্ভর মার্কেটপ্লেস ট্রেডাসে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন। অন্যদিকে ইউকে বেসড ট্রেন ই-ট্রেলার এবং থেট্রেনলাইন ডটকমের ভারতের অপারেশন সামলাতেন নাগার্জুন।

‘স্টার্টআপ এক্কেবারে অন্যধরনের খেলা, দূর্বলচিত্তদের জন্য নয়। স্টার্টআপ হল উত্থান-পতন, কখনও হিট, কখনও মিস’, বলেন রাহুল। তিনি স্টার্টআপকে তুলনা করেন ইন্দো-পাক ক্রিকেট ম্যাচের সঙ্গে। ‘যতবারই একই ম্যাচ দেখা হোক না কেন, প্রতিবারই সমান এক্সাইটিং। আসলে, এই খেলার কোনও শেষ নেই। সবটাই দারুণ উত্তেজনার’, রাহুলের সংযোজন। ২০১৩ সাল Ladyblush এর জন্য টার্নিং পয়েন্ট ছিল। ‘আমরা যেভাবে এই ভেঞ্চার শুরু করেছিলাম একটু ভিন্ন পথ ছিল। শুধু শ্রীবৃদ্ধির পেছনেই ছুটিনি, আমাদের নজর ছিল দামের কাঠামো নির্দিষ্ট করে দেওয়া’, বলেন রাহুল।

এই বছরও তিন উদ্যোক্তার স্টার্টআপ লিডারশিপ টিমের শূণ্যস্থান পূরণ করেছে। Ladyblush এর বোর্ডে এসেছেন সুরুচি সহনি। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মেয়েদের পোশাক তৈরি, ডিজাইন এবং রপ্তানি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সুরুচি। তিনি ASOS, টপশপ, মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার, রেনিডেরি, মাইকেলকোরসের মতো নামী ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছেন। ‘গোটা ইন্ডাস্ট্রির সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান এবং ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের জগতে তাঁর পরিচিতি আমাদের সংস্থাকে পরিবর্তিত স্টাইল, ফ্যাশন, ডিজাইনের সঙ্গে তাল রাখতে সাহায্য করে’, জানান রাহুল। ‘বর্তমানে Ladyblush মাসে কয়েক হাজার অর্ডার পায়। মাসে মাসে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ অর্ডার বাড়ছে। এই প্রথম অবস্থাতেও আমরা ২৫ শতাংশ পুরনো গ্রাহকের অর্ডার পাই। আনুষাঙ্গিক খরচের ব্যাপারেও বেশ সতর্ক থাকি’, বলেন তরুণ উদ্যোক্তা। হাতে গোনা কয়েকটা লোক। তাদিয়েই সফলভাবে সংস্থাচালিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন সুনীত, নাগার্জুনরা। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো পণ্য সরবরাহ করার জন্য অটোমেটেড প্রসেস এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়ছে।

‘তিল তিল করে Ladyblush কে গড়ে তুলছি। আমরা জানি, এখনও অনেক পথ বাকি’,বলেন রাহুল। সংস্থার চ্যালেঞ্জ এবং ফোকাস বদলাতে থাকবে ব্যবসার বৃদ্ধি এবং পরিমাপে। ‘অংকুরিত উদ্যোক্তা হিসেবে কিছু একটা শুরুর জন্য কখনই দেরি হয়ে গিয়েছে বা ভালো সময় খারাপ সময় বলে কিছু হয় না। আমার উপদেশ হল, যতক্ষণ পর্যন্ত না ভেঞ্চার গড়ে উঠছে, উদ্যোক্তাকে ক্ষুধার্থ থাকতে হবে। সিদ্ধান্তের চাইতে সিদ্ধান্ত নেওয়া বেশি কঠিন। গড়তে থাকুন, চলতে থাকুন’, যেতে যেতে বলেন রাহুল।