সুনীত-সায়ন্তনদের UrbanFeast-এ পেটপুরে খাবে নিউটাউন

6

সচরাচর ব্যবসা করার সিড ফান্ড নিয়ে মাথার চুল ছেঁড়েন নবীন উদ্যোগপতিরা। অ্যাঞ্জেলদের সাপোর্ট পাবেন কিনা, কে কবে কত শেয়ারে টাকা ঢালবেন, উদ্যোগপতিদের এই চিন্তাই সব থেকে বেশি থাকে। কিন্তু আজ আপনাদের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেব সৌভাগ্যবান দুই তরুণ উদ্যোগপতির সঙ্গে যাদের ব্যবসা করতে বিনা বন্ধকে টাকা দিয়েছে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক। নামমাত্র ভাড়ায় ব্যবসা করার জায়গা দিয়েছেন খোদ নিউটাউন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান দেবাশিস সেন। এখন শুধু সামনে অনন্ত সুযোগ। লড়াই বা প্রতিযোগিতা যে নেই তা নয় কিন্তু ওদের আত্মবিশ্বাস দেখে বিশ্বাস হয় ওরা ব্যবসা করতে এসেছেন বাজারটায় টিকে থাকবেন আর জয়ী হবেন বলেই।

সেদিন হিডকো ভবনে গিয়েছিলাম। নগরোন্নয়ন দফতরের অ্যাডিশনাল চিফ সেক্রেটারি দেবাশিস সেনের সঙ্গে একটা মিটিং ছিল। অপেক্ষা করছিলাম আমার এক সঙ্গীর জন্যে। ফলে ওয়েটিং রুমে বসতে যাবো, দেখা হল দুই ঝকঝকে তরুণের সঙ্গে। সুনীত মণ্ডল, সায়ন্তন জানা। আগে কখনও আলাপ ছিল না। কিন্তু সুনীত সায়ন্তনরা আমাকে চিনতে পারলেন। বলছিলেন ওদের একটি স্টার্টআপ আছে। কী স্টার্টআপ, কী ধরণের কাজ হয়, টার্গেট কাস্টমার কারা? এসব প্রশ্ন করব, করব ভাবছি। তার আগেই ওরা বলতে শুরু করে দিয়েছেন। ৯০ সেকেন্ডে পিচ করাটা ভালোই প্র্যাকটিস করেছেন বলতে হবে। শুধু তাই নয়, আমায় সঙ্গে করে নিয়ে গেলেন দেখাতে, ওদের কর্মকাণ্ড। ১৫০ সেকেন্ডে মডেল ডেমনস্ট্রেশন।

নিউটাউনে হিডকোর ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে একটি ফুডটেক স্টার্টআপ খুলে ফেলেছেন দুই বন্ধু। ভীষণ ডায়নামিক, ভীষণ ড্যাসি। আত্মবিশ্বাসে টগবগ করে ফুটছে এই দুই তরুণ উদ্যোগপতি। বলছিলেন, দুনিয়ার ব়্যাপেক্স পাওয়া যাবে ওদের কাছে। সংস্থার নাম দিয়েছেন আরবান ফিস্ট। ওরা বলছিলেন আপাতত তিন ধরণের ব্র্যান্ড নিয়ে এগোবেন ওরা। আরবান ফিস্ট ই-কিচেন। যেখানে কাস্টমাররা নিজেদের পছন্দসই অর্ডার প্লেস করতে পারবেন মোবাইল অ্যাপ কিংবা ওয়েব সাইটে। আর মাত্র ৪৫ মিনিটেই আপনার ইচ্ছেমত পারফেক্টলি কুকড ফুড পৌঁছে যাবে আপনার দরজায়। এছাড়াও রেগুলার কাস্টমারদের জন্যে থাকছে সাবস্ক্রিপশনের ব্যবস্থা। থাকবে কর্পোরেট মিলের বন্দোবস্তও। হিডকোর ক্যাফেটেরিয়ায় বসেও চেখেও দেখতে পারেন ওদের টেস্টি ফুড। দেশি বিদেশি সব ধরণের খাবারই পাবেন ন্যায্য মূল্যে। বিশেষত নিউটাউনের মত শহরে যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ আসেন কাজের সন্ধানে, লাঞ্চ টাইমে কী খাবেন কোথায় যাবেন তা নিয়ে রোজই ভাবতে হয়, রোজ রোজ পিজা পকেটের পক্ষে অস্বাস্থ্যকর, রোজ রোজ রোল চিবোনোও পেটের জন্যে ভালো নয়। এই সমস্যার একটা ঠিকঠাক স্মার্ট সলিউশন দিচ্ছে আরবান ফিস্ট। শুধু অফিশিয়াল লাঞ্চ কেন, ঘরোয়া খাবারের প্রয়োজন ঘরেও পরে। সেই চাহিদাও মেটানোর প্রতিশ্রুতি নিয়ে হাজির সায়ন্তন-সুনীত।

ওদের অন্য দুটি ব্র্যান্ড আরবান ফিস্ট থ্রি সিক্সটি এবং আরবান ফিস্ট ব়্যাপেক্স। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে তৈরি হবে সেই সব আউটলেট। কলেজ ইউনিভার্সিটি আইটি হাবের ক্যাফেটেরিয়ায় থাকবে কিওস্ক।

হিডকোর ক্যাফেটেরিয়ায় ১৬ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হল আরবান ফিস্টের ইন্টারনেট রান্নাঘর। উদ্বোধন করলেন নিউটাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান দেবাশিস সেন। সংস্থার দুই প্রতিষ্ঠাতা জানালেন, দেবাশিস বাবুর সহযোগিতা ছাড়া এগোনোই সম্ভব ছিল না। খাবারের মান ভালো হলে ইকোপার্কেও খাবারের আউটলেট দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন দেবাশিস বাবু।

ফলে আহ্লাদে আটখানা দুই তরুণ উদ্যোগপতি। ওরা দুজন অনেক দিনের বন্ধু। একজন থাকেন মৌলালিতে অন্যজন সাঁতরাগাছি। এমবিএ করেছেন দুজনেই। বিভিন্ন সংস্থায় চাকরিও করেছেন। কিন্তু উদ্যোগপতি হওয়ার বাসনা ছোটবেলা থেকেই ছিল। তাই কলকাতা এবং হাওড়ার এই দুই তরুণ হাতে হাত মিলিয়ে শুরু করতে চেয়েছিলেন একটি ব্যবসা। কিন্তু ক্যাপিটালের যোগান দেবেন কে... সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে সুনীত চলে গিয়েছিল ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার সাঁতরাগাছি শাখায়। কনসেপ্টটা বলতেই লুফে নেন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনীয় পুঁজি দিয়ে ওরাই সাহায্য করে এই দুই উদ্যোগপতিকে। আর এটাই ছিল স্বপ্ন সফল করার প্রথম সিড ফান্ড। ওরা বলেন এটা ওদের Burn Money নয় Earned Money।

Related Stories