চিকিৎসকদের কাজের সুবিধার্থে QuiCli

0

কাজকে সহজ ও গতিময় করতে প্রযুক্তির ব্যবহার আজ সর্বত্র। শিক্ষক বা অ্যাকাউন্ট্যান্ট, যেকোনও পেশার জন্যই রয়েছে বিভিন্ন সফটওয়্যার। তবে ভারতে স্বাস্থ্যপরিষেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার এখনও আশানুরূপ নয়। বিভিন্ন কোম্পানিই নিজস্ব সফ্টওয়্যার তৈরি করেছে কিন্তু তার বেশিরভাগই সেভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি, পেন-কাগজের ওপরই বেশি ভরসা রেখেছেন চিকিত্সকরা।

তবে বছর দুয়েক আগে মুম্বইয়ে লঞ্চ হওয়া QuiCli (Quick Clinic) এরই মধ্যে কিছুটা সাফল্যের মুখ দেখছে। QuiCli চিকিত্সকদের জন্য ট্যাবলেট বা কম্প্যুটার ভিত্তিক ক্লিনিক ম্যানেজমেন্ট সল্যুশন সহ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের মঞ্চ। সফ্টওয়্যার অ্যাজ আ সার্ভিস (SAAS) রূপে এটি পাওয়া যায়। চিকিত্সকদের যাবতীয় প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে, তাঁদের ব্যবহারে সুবিধা অনুযায়ীই বানানো হয়েছে এই মঞ্চ, এমনই দাবি প্রস্তুতকারকদের।

২০১৩ এর সেপ্টেম্বর মাসে QuiCli শুরু করেন মুম্বইয়ের দুই কম্প্যুটর ইঞ্জিনিয়ার, প্রশাদ সাহানি ও জয়েশ সাওয়ান্ত। একই স্কুলে পড়াশোনা প্রশান্ত ও জয়েশের এবং দুজনেরই এর আগে স্টার্টআপের অভিজ্ঞতা ছিল।

রোগীর ইলেকট্রনিক মেডিক্যাল রেকর্ড লেখার মতো পরিশ্রমসাধ্য কাজকে মোবাইল ফোন ব্যবহারের মতোই সহজ করে দিয়েছে QuiCli। অ্যাপয়েন্টমেন্ট থেকে প্রেসক্রিপশন লেখা পুরোটাই হয় এর মাধ্যমে, মূলত ট্যাবলেটের কথা মাথায় রেখে তৈরি হলেও অন্যান্য ডিভাইসেও প্রায়একইরকম কার্যকরী এই সফ্টওয়্যার, জানালেন প্রসাদ। QuiCli health information exchange (HIX) স্বাস্থ্য পরিষেবা ইকোসিস্টেমে অংশগ্রহণকারী সকলের জন্য একটি সাধারণ মঞ্চ। চিকিত্সা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ডিজিটাল আকারে এখানে থাকে এবং সুরক্ষিত চ্যানেলের মাধ্যমে রোগী, চিকিত্সক, ফার্মাসি, প্যাথোলজি ল্যাব ও অন্যান্যরা সেই তথ্য পেতে পারেন।

চিকিত্সকরা যদি এটি ব্যবহার করেন তাহলে স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্যদেরও স্বাভাবিকভাবেই এটি ব্যবহার করতে হবে। QuiCli মনে করে সঠিক তথ্য চিকিত্সার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে চিকিত্সক রোগীর বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট ও চার্ট খুব সহজেই একই জায়গায় দেখতে পারেন যা তাঁদের রোগীর সমস্যা বুঝতে সাহায্য করে। QuiCli এর যাবতীয় তথ্য ক্লাউড অ্যাকাউন্টে জমা থাকে ও ইন্টারনেটের সাহায্যে যেকোনও জায়গা থেকেই তা দেখা সম্ভব। প্রসাদ জানালেন, “এটি তৈরি করার আগে আমরা বিভিন্ন চিকিত্সকদের সঙ্গে কথা বলি এটা বোঝার জন্য যে কেন তাঁরা প্রযুক্তিতে সচ্ছন্দ নন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উত্তর আসে প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা তাঁরা অনুভব করলেও ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ ব্যবহারের অসুবিধার কারণেই প্রযুক্তি এড়িয়ে চলেন তাঁরা। পাশাপাশি তাঁরা আরও জানান এমন কোনও প্রযুক্তিই প্রয়োজন যেটা তাঁরা রোগীর সঙ্গে কথা বলতে বলতে ব্যবহার করতে পারবেন, সফটওয়্যারটি তৈরির সময় এই বিষয়গুলিই আমরা মাথায় রেখেছিলাম। প্রায় ৯ মাস প্রাথমিক গবেষণার পরই আমরা এটি লঞ্চ করি, এবং তারপর থেকে গত দু’বছর ধরেও আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করে চলেছি”। মাসিক সাবস্ক্রিপশনের ভিত্তিতে গ্রাহক হওয়া যায় এই মঞ্চে। এছাড়া গ্রুপ ডিসকাউন্ট বা জীবন পরিষেবা প্ল্যানও রয়েছে। বর্তমানে রোগীদের জন্যও মঞ্চটিকে তৈরি করার কাজ করছেন প্রস্তুতকারকরা এবং খুব শীঘ্রই সেই কাজ শেষ হবে। এরফলে রোগীরাও তাঁদের চিকিত্সা সংক্রান্ত যাবতীয় রেকর্ড একটি জায়গায় রাখতে পারবেন এবং অন্য চিকিত্সককে তা দেখাতে পারবেন।