অবাধ্য অটোকে বাধ্য করছে Autowale

0

মোবাইল অ্যাপ-এ ট্যাক্সি ডাকা এখন জলভাত। কিন্তু তাই বলে অটো! হ্যাঁ, এরাজ্যে অচেনা হলেও দেশের কিছু শহরে ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে এই ব্যবস্থা। হাতে গোনা যে কয়েকটা সংস্থা এই পরিষেবা দিচ্ছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য Autowale। 

আপাতত পুণে-র চৌহদ্দিতে ঘোরেফেরা করে অটোওয়ালের অটো। এক বছরে যাত্রী সংখ্যা ৭৫০০০ পেরিয়েছে। এবার সংস্থার লক্ষ্য লাভের অঙ্ক বাড়িয়ে পুণের গণ্ডি পেরোনো। ভূ-ভারতের অবাধ্য অটোকে বাধ্য পরিষেবার জালে বাঁধার স্বপ্ন yourstory-র সঙ্গে ভাগ করলেন autowale-র সিওও জনার্দন প্রসাদ।

উদ্যোগপতি হিসেবে ব্যবসায়িক কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রে কী শিখেছেন?

সব ব্যবসাই একটা অন্যটার থেকে আলাদা। তাই প্রত্যেকটাই তার নিজস্ব কৌশল দাবি করে। তবে কিছু প্রাথমিক শর্ত মেনে চলতে হয়। যেমন একজন উদ্যোগপতি হিসেবে সকলের পরামর্শ শোনা উচিত। কিন্তু দিনের শেষে নিজের ব্যবসার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্তটা নিজেকেই নিতে হবে। নিরন্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষাও চালিয়ে ভুলত্রুটিগুলো শুধরে নিতে হবে। যেমন ব্যাঙ্গালোর ও পুণেতে আমাদের ব্যবসা বৃদ্ধি পেলেও বিপুল খরচও হচ্ছিল। কিছু সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা খরচে রাশ টানি এবং ৬ মাসের মধ্যে লাভের মুখ দেখি। এখন আমরা আমাদের ব্যবসা নিয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী।

ব্যাঙ্গালোরে পাইলট প্রজেক্টের শেষে কেন পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হল?

পুণেতে আমাদের ব্যবসা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতি করেছিল। দেশের অন্যান্য শহরে অটোওয়ালে সফল হয় কি না তা যাচাই করতেই আমরা ব্যাঙ্গালোরে পাইলট প্রজেক্ট শুরু করি। আমাদের সেই প্রয়াস সফল। কিন্তু গোটা ব্যাঙ্গালোর শহরে পরিষেবা চালু করতে গেলে আরও বড় পরিকাঠামো দরকার, সেই কারণেই ব্যাঙ্গালোরে বাণিজ্যিকভাবে এই পরিষেবা শুরু করা হয়নি। আর এক পর্যায়ের বিনিয়োগ পাওয়া মাত্রই ব্যাঙ্গালোরে কাজ শুরু করবে অটোওয়ালে। তবে আপাতত আমরা পুণেতে ব্যবসা বৃদ্ধির দিকেই নজর দিতে চাই। যে ধরণের ব্যবসায় আমরা রয়েছি, তাতে কোনও শহরে ব্যবসা শুরুর আগে সেখানে থেকে, সেই শহরের চরিত্র, সেই শহরের মানুষকে চেনা প্রয়োজন।

এই ব্যবসা চালানোর জন্য ঠিক কোন কোন পরিসংখ্যানে আপনারা নজর দেন?

ভারতে অটো পরিবহণ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা। প্রতিদিন লাখও অটো রাস্তায় নামে। তবে যে সংখ্যায় অটো আছে, সেই তুলনায় কার্যকর হয়ে উঠতে পারেনি অটো পরিবহণ। অটোচালককে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা, অটোর ফাঁকা ফেরত আসার সংখ্যা কমানো এবং যাত্রীর সংখ্যা বাড়ানো – এই তিন মন্ত্রে ভর করেই আমরা অটো পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তোলার চেষ্টা করছি। প্রতি অটো চালকের আয় আমরা ২ গুন বাড়াতে পেরেছি, আমাদের ২০% অটোচালকই মাসে ২৫০০০০-৩০০০০ টাকা আয় করেন। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের সংস্থায় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অটোচালকদের সম্পর্ক বেশ প্রগাঢ়। রেডিও ট্যাক্সির ক্ষেত্রে যেখানে ৪০% গাড়িই ফাঁকা ফেরত আসে, সেখনে আমাদের ক্ষেত্রে তা ৩০%।

আপনারা কীভাবে পুঁজিকে কাজে লাগাচ্ছেন?

আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল যাতে লাভের অঙ্কে পৌঁছনোর আগে বাধাহীনভাবে ব্যবসা চালু রাখা যায়। প্রাথমিকভাবে আমরা সেভাবেই পুঁজি ব্যবহার করছিলাম। কিন্তু পুণেতে ব্যবসা বৃদ্ধি করতে গিয়ে আমাদের প্রচুর খরচা হয়ে যাচ্ছিল। এরপরই আমরা লাভের অঙ্ক বাড়ানোর দিকে নজর দিই। এখন আমরা আগের থেকে অনেক বেশি আয় করছি, তাও আবার কর্মচারীর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে এনে। এই গতিতে চলতে থাকলে খুব তাড়াতাড়ি আমরা ব্যবসাকে পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করতে পারব। ব্যবসার শুরুতে আমরা যে পুঁজি পেয়েছিলাম, তা এভাবেই কাজে লাগিয়েছি।

পুণে-তে কি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি অটোচালক আছে বলে আপনারা মনে করেন?

কী বলছেন! আমাদের পরিষবার তুলনায় চাহিদা অনেকটাই বেশি। আশা করব আগামিদিনেও যেন ছবিটা এরকমই থাকে। তবে শহরের সমস্ত অটোচালককেই আমরা নিয়োগ করচে চাই না। আমরা শুধু কিছু ভালো মানুষ নিয়ে কাজ করতে চাই। আমরা সেরকম অটোচালকদের নিয়ে এগোতে চাই যারা উদ্যমী, উদ্যোগী; আমাদের সঙ্গে যাদের দৃষ্টিভঙ্গি খাপ খায়।

কী খরে আপনারা অটোচালক নিয়োগ করেন?

ড্রাইভারের দক্ষতা এবং মনোভাব যাচাই করতে আমরা তাদের ইন্টারভিউ নিই। অটোওয়ালে-তে নিযুক্ত সমস্ত চালকই আরটিএ-র মান্যতাপ্রাপ্ত। প্রত্যেকেরই বৈধ লাইসেন্স, পারমিট, বিমা এবং পরীক্ষিত মিটার থাকা বাধ্যতামূলক। এই সব কিছুর উদ্দেশ্য একটাই, যাত্রীদের ভরসা অর্জন করা। অন্যান্য চালকদেরও যাতে আমাদের সংস্থা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকে।

স্যোশাল মিডিয়া নিয়ে আপনাদের অভিজ্ঞতা কেমন?

যদি স্যোশাল মিডিয়া আপনার সংস্থার বিপণন ও আয় বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, তাহলে সেদিকেই নজর দেওয়া উচিত। কিন্তু যদিও স্যোশাল মিডিয়া ব্যবহার করে আপনার আয়ে খুব একট সুবিধা না হয়, তাহলে জনসংযোগ বাড়ানোর অন্যান্য পদ্ধতিগুলোও পরীক্ষা করে দেখতে হবে। যেমন অটোওয়ালে-র ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি আমাদের যাত্রীরা খুব একটা ফেসবুক ব্যবহার করেন না। যারা করেন তাদের থেকে অন্তত ফেসবুক মারফৎ তেমন সাড়া মেলে না। আমার মনে হয় ই-কর্মাস সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে স্যোশাল মিডিয়া বেশি কার্যকর। কিন্তু অটোওয়ালের মতো সংস্থার ব্যবসা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে রিলেশনশিপ ম্যানেজার নামক পদটার গুরুত্বই বেশি।

অটোচালকদের নিয়ে এমন কোনও ধারণা, যা পরে দেখেছেন ভুল ছিল?

অটোওয়ালের শুরুর আগে আমাদের বলা হয়েছিল, অটোচালকদের ম্যানেজ করা বেশ কঠিন। তাদের মধ্যে শিক্ষা ও সততা, দুইয়েরই অভাব রয়েছে। কিন্তু অটো‌চালকদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমরা বুঝতে পেরেছি, তাদের অধিকাংশেরই একটা মূল্যবোধ আছে এবং তারা যথেষ্ট সৎ-ও। আমরা যে সমস্ত চালককে নিয়ে কাজ করি, তাদের অধিকাংশেরই কাঁধে পরিবারের দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের সংস্থার অটোচালকরা সম্মান ও স্বাচ্ছন্দ্যের জীবন কাটাতে চান। অটোওয়ালের মাধ্যমে আমরাও তাদের জীবনে উন্নতি করার একটা জায়গা করে দিই।

টিম Autowale
টিম Autowale

আপনাদের উদ্যোগে সংবাদমাধ্যম এখনও পর্যন্ত কী ভূমিকা পালন করেছে?

যে কোনও ব্যবসার অগ্রগতির ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অপরিহার্য। কোনও একটা সংস্থাকে নিয়ে সংবাদমাধ্যমে লেখালেখি যেমন তার প্রচারে সাহায্য করে, তেমনভাবেই কাজে উৎসাহ দেয়। যে কোনও সংস্থা একটা বড় অংশের ক্রেতা মিডিয়ায় প্রচারের দৌলতেই পেয়ে থাকে। সংবাদমাধ্যমের একটা ছোট্ট প্রতিবেদনও অনেক সময় একটা লোকসানে চলা সংস্থাকে নতুন উদ্যম নিয়ে নামতে উৎসাহ দেয়।

লেখক: মুরলী ডি

অনুবাদক: ঋত্বিক দাস