মহানায়কে মজে আছেন বাঙালি উদ্যোগপতি কৌশিক

2

মহানায়ক উত্তম কুমারকে নিয়ে বাঙালির নস্টালজিয়ার অন্ত নেই। এযুগের ছেলেমেয়েরা যারা উত্তমকুমারকে টিভির পর্দায় নিয়মিত দেখেননি তাদের জন্যেও উত্তমকুমার থাকছেন মোবাইল অ্যাপে। এই অ্যাপটি বানিয়েছেন কৌশিক মৌলিক। ছোটবেলা থেকে ক্রিকেট খেলতেন। হাইকোর্ট ক্লাবের হয়ে বারো তের বছরেই কলকাতার ময়দান দাপিয়েছেন। কিন্তু ১৯৯৫ সাল নাগাদ চোখে আঘাত পান। তাই খেলোয়াড় হিসেবে খেলার মাঠ ছাড়তে হয়। তারপর শুরু হয় অন্য অভিযাত্রা। উদ্যোগপতি হওয়ার প্রয়াস। সাংবাদিকতা বিষয়টা পারিবারিক। কারণ বাবা ছিলেন যুগান্তরের সাংবাদিক। ছোটবেলা থেকেই পত্রপত্রিকার খুঁটিনাটি নিয়েই বড় হয়েছেন। ফলে সাংবাদিকতা করাটাও উদ্যোগের একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছেন কৌশিক। পাশাপাশি কলকাতা টুডের কর্ণধার কৌশিকের প্যাশন ইনফরমেশন টেকনোলজি। ১৯৯৬-৯৭ সাল থেকেই ইন্টারনেট নিয়ে উঠে পড়ে লাগেন কৌশিক। দর্পণ ডট নেট চালু করেন। সাহিত্য সংস্কৃতির খবরের ওয়েব পেজ। সেসময় ফন্ট একটা বড় সমস্যা ছিল। ফলে লেখা স্ক্যান করে আপলোড করতে হত। সে এক কঠিন লড়াই। সেই লড়াই করতে করতেই একের পর এক ওয়েব পত্রিকা তৈরি করে ফেলেন কৌশিক।

ক্রিকেট, ফুটবল ছাড়া আরও একটি বিষয়ে গভীর ভালোবাসা ছিল কৌশিকের। উত্তম সুচিত্রার সিনেমা। উত্তম কুমারের ফ্যান কৌশিক ২০০২-এ শুরু করলেন উত্তমকুমারের নামে ওয়েব সাইট। প্রথম দিনেই সেটা পাঁচ লাখ হিট পেরিয়ে যায়। উত্তমকুমার নিয়ে সাধারণ মানুষের ভিতর যে কী ভীষণ উৎসাহ আছে টের পান কৌশিক। উত্তমের ছায়াছবির বিভিন্ন মুহূর্ত, পোস্টার, বিরল পোস্টার, বিরল পত্রিকার কভারপেজ সবই পাওয়া যেত ওই সাইটে। ২০১৪-১৫ সাল নাগাদ শুরু করলেন অ্যাপলিকেশন। আবারও উত্তমকুমার, সুচিত্রা সেন। শুধু তাই নয় তাঁর সংস্থা ব্র্যান্ডনেক্সটের ছত্রছায়ায় তৈরি করলেন একের পর এক অ্যাপস। তাতে রূপঙ্করও আছেন। বাংলার গান, বাংলার সাহিত্য সংস্কৃতিকে দুনিয়ার দরবারে তুলে ধরতেই একের পর এক অ্যাপ ডেভেলপ করে গিয়েছেন এই উদ্যোগপতি।

গত বছর ফেব্রুয়ারিতে উত্তমকুমার অ্যাপের আপডেটেড ভারসন বাজারে এসেছে। এবং শুরু থেকেই রসিকজনের নজর কেড়েছে এই অ্যাপ। পরের লক্ষ্য বিলেত। লন্ডনে একটা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল করার কথা ভাবছেন। শুধু উত্তমকুমারের ছবি নিয়ে। কারণ কলকাতা হোক বা লন্ডন, বাঙালি যেখানে, উত্তমকুমারও সেখানে সমান জনপ্রিয়।