যে জওয়ান সেই কিসান, অজিত সিং

0

আমাদের আজকের হিরো একজন সৈনিক। প্রাক্তন আর্মি অফিসার। অজিত সিং। এখন তিনি চাষ আবাদে মন দিয়েছেন। অবাক হচ্ছেন তো? ভাবছেন হাতের কালাশনিকোভ কিভাবে লাঙল হয়ে গেল! আসুন পড়ি অজিত সিং এর কাহিনী।

"অনন্ত সার্ভিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট" এর প্রতিষ্ঠা করেছেন এই জওয়ান। তৈরি করেছেন একটি পোর্টাল। https://rozgarmela.com। চাষীরা কিভাবে কৃষিবিজ্ঞান ও উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে ফসলের উৎপাদন বাড়াবেন, সেই শিক্ষাই দেয় অনন্ত। সম্প্রতি তাঁরা "ইনোভেন্ট ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট হোল্ডিং" এবং "উপয়া সোশ্যাল ভেনচারস" এর থেকে বীজের জন্য ফান্ড সংগ্রহ করেছেন। অনন্তের উদ্দেশ্য সমাজের সার্বিক উন্নতি। অনন্ত মানে অসীম। এই নামের মানেই সার্থক করতে অজিত বদ্ধপরিকর।

সেনা বাহিনি অজিতকে জয়ী হতে শিখিয়েছে

আর্মিতে অজিত অনেক কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছেন। মাঠে ঘাটে ঘুরেছেন রাতের পর রাত, দিনের পর দিন, পরনে সামরিক পোশাক, ভারী বুট, কাঁধে অন্তত কুড়ি কিলোর বস্তা। খাদ্য, রশদ, অস্ত্র, কার্তুজ। অনেক রকমের মানুষ, অনেক বিচিত্র জীবন দেখেছেন অজিত। শিখেছেন কীভাবে বড় দল পরিচালনা করতে হয়। আর্মি জীবনের সব অভিজ্ঞতাই নতুন কিছু করতে কাজে লেগে গেছে।

১৯৯৯ এর যুদ্ধে খুব গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন অজিত। প্রতি মূহুর্তে বুঝেছেন জীবনের কী মূল্য। প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের সমস্যাগুলিও অজিত চিনতে শিখেছেন। মানুষকে ভালোবাসতে শিখেছেন মাঠে ঘাটে ঘুরেই। তাঁদের হাসি কান্না উত্থান পতন সমস্যা আর সমাধানের পথ খুঁজেছেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। আর্মি ছাড়ার পর, এইসব মানুষগুলোর জন্য কিছু করার ইচ্ছে থেকেই অনন্তের জন্ম।

দিল্লীর এক ছোট্ট চায়ের দোকানের আড্ডায় দেখা করতেন পাঁচ বন্ধু। তাঁরা প্রত্যেকেই গ্রামের উন্নয়নের কাজে যুক্ত। তাঁরা বুঝতেন সমাজকর্মীকে অনেক ঝামেলা পোয়াতে হয়। পথে অনেক কাঁটা, বিস্তর বাধা। ওই চায়ের দোকানের আড্ডায় আইডিয়ার জন্ম। অজিতের কঠিন যাত্রাপথের সহযাত্রী হলেন বন্ধু সুরেশ কুমার। তৈরি করলেন ওয়েব পোর্টাল। গ্রামের মানুষের সুবিধে অসুবিধে নিয়ে তৈরি হল কৃষি ভিত্তিক পোর্টাল। অজিতরা কাজ করছেন "এগ্রিকালচার স্কিল কাউন্সিল অফ্ ইন্ডিয়ার" (ASCI) সঙ্গে। তাঁর মতে ভারতের খুব কম সংস্থাই অনন্তের মতো কৃষকদের এভাবে প্রযুক্তি নির্ভর প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। তাঁরা ১৯টি রাজ্য জুড়ে তিরিশ হাজার চাষীকে ট্ৰেনিং দিয়েছেন। ১১টি আঞ্চলিক ভাষায় শিক্ষা দিচ্ছে অনন্ত।কৃষককে শিক্ষিত করাই শুধু নয়। কৃষকের পরিবারে ছেলেমেয়েদের কাজের সন্ধান দেওয়ারও দায়িত্ব নিয়ে ফেলেছেন অজিত। তাঁদের পোর্টাল রোজগার মেলার ক্যাচ লাইন 'রোজগার সবার অধিকার'। কর্মপ্রার্থীরা তাঁদের পছন্দের কাজ খুঁজে পান এই ওয়েবসাইটে। নিয়োগকর্তারাও পান প্রয়োজনীয় কর্মীকে।

দু-দলেরই ইচ্ছে, চাহিদা ও মতামত নথিভুক্ত করা হয়। তাতে তাঁদের অংশীদাররা গোটা বিষয়টা বুঝতে পারেন। তাঁদের পুরো প্রোজেক্টের মূল্যায়ন ও নজরদারি করতে সুবিধে হয়। কোর্সে পরিবর্তন এবং ঠিকভুলের বিচার করাও সহজ হয়।

রোজগারমেলার ইউএসপি

রোজগারমেলা SMS-পদ্ধতিতে কর্মপ্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে।নিয়োগকর্তাদের চোখে নিজেদের বিশ্বাসযোগ্য করে তোলাই  বড় বিষয় বলে মনে করেন অজিত। অনন্ত এক্ষেত্রে সফল। তাঁরা তাঁদের মডেল এমনভাবে সাজিয়েছেন যাতে কাজ পাবার আগেই কাউকে পয়সা দিতে না হয়।

ধীরে হলেও এগোচ্ছে অনন্ত

প্রথমে মূলধনের অভাবে ভুগছিল সংস্থা। সাধারন মানুষের মনে হচ্ছিল যে এই ছোট্ট সংস্থা এত গুরু দায়িত্ব আদৌ পালন করতে পারবে কিনা? 

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে "অনন্ত" প্রমাণ করেছে যে তাঁরা দায়িত্ব পালনে সক্ষম। দ্বিতীয় বছরে লাভ করেছেন এঁরা। এখন অজিত নতুন বিনিয়োগ টেনে প্রযুক্তির উন্নতি ঘটাতে চান। তাঁর মগজে ঘুরছে আরও অনেক নতুন ব্যবসায়িক ভাবনা।

পারস্পরিক আস্থা ভীষণ জরুরি

সহকর্মীদের ভিতর অন্তরঙ্গ ও পারস্পরিক আস্থা থেকে জন্ম নিয়েছে অনন্ত। এখানে দলের প্রত্যেকের মধ্যে রয়েছে অফুরান কর্মোদ্যম, অভিজ্ঞতা ও যৌবনের প্রাণশক্তি। প্রথম থেকে সবাই নিরলস ভাবে কাজ করছেন।

অজিত আমাদের বললেন,"যখন কিছু ভালো মানুষ একত্রিত হন তখন অনেক ভালো ঘটনা ঘটে।" সমস্ত কঠিন সময়ের মোকাবিলা এঁরা সকলে মিলে করেছেন।

সময়ের তালে কাজের পরিস্থিতি যেখানে সর্বক্ষন পাল্টাচ্ছে "অনন্ত"কে তখন আধুনিক থেকে আধুনিকতম হতেই হবে। কতটা করার ইচ্ছে আছে আর বাস্তবে কতটা করা সম্ভব দুটোর একটা সমতা প্রয়োজন। অনন্ত সবসময় স্টেক হোল্ডারদের খুশি করেই নিজের উদ্ভাবনী ক্ষমতা হ্রাস পেতে দেয়নি। আমরা কামনা করি অনন্তের অনন্ত যাত্রা সফল হোক।

Has a heart to communicate...loves music, writing, painting and meeting people. Teacher of English literature, proudly calls herself an activist in Bengal's StartUp movement.

Related Stories