ঘোরার নেশা থেকে ‘প্রেম’, ভরসা পর্যটকদের

0

১৯৭০ সাল। এক ভারতীয় মহিলা খামখেয়ালির বশেই আমেরিকা ঘুরতে যান। মার্কিন মুলুকে পৌঁছনোর পর বুঝতে পারেন, তাঁর কাছে খুব বেশি টাকা নেই। কিন্তু হাল ছেড়ে দেননি। বিদেশ বিভূঁইয়ে অদ্ভুতভাবে নিজের আর্থিক সামর্থ ছাড়া ঘুরে বেড়িয়েছেন নিজের মতো করে। ভ্রমণের যে ডিএনএ তাঁর মধ্যে রয়েছে সেটাই বিদেশে কপর্দকশূণ্য হয়েও টিকে থাকার শক্তি যুগিয়েছে। দারুণ সব স্মৃতিকে সঙ্গে করে দেশে ফিরে আসেন তিনি। জীবনের শেষ ক্ষণ পর্যন্ত সঙ্গে ছিল সেই সব মুহূর্ত। দুই জাঙ্গিয়ানি বোন যুক্তি এবং দীপ্তির ঠাম্মা ছিলেন ওই মহিলা।

গোটা জাঙ্গিয়ানি পরিবারের রক্তে রয়েছে ঘুরে বেড়ানোর নেশা। বিশেষত ঠান্ডার জায়গা বেশি পছন্দের। ‘পাগলের মতো ট্রেকিং ভালোবাসি। মনে পড়ে, আমার প্রায় সব ছুটিই কাটত উত্তর ভারতের পাহাড়গুলিতে’, বলেন যুক্তি। ১৯৯৬ সালে যুক্তি-দীপ্তির মা বন্দনা জাঙ্গিয়ানি ঠিক করেন, ঠান্ডার জায়গায় যারা ঘুরতে যান তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত জিনিসপত্রের দোকান দেবেন। যেই ভাবা সেই কাজ। খার মুম্বইয়ে ভ্রমণের সমস্ত টুকিটাকি জিনিসপত্রের দোকান খুলে ফেলেন বন্দনা। মাত্র অল্প দিনেই পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সেই দোকান। চাহিদার বহর দেখে এবার অনলাইনেও ব্যবসা শুরু করেছেন তিনি। ‘বুঝতে পারি আমাদের স্টক পর্যটকদের পছন্দ হয়েছে। মুম্বইয়ের বাইরে থেকেও অর্ডার আসে। ই-কমার্সের মাধ্যমে সেইসব গ্রাহকদের চাহিদা সহজে মেটানো সম্ভব’, বলেন যুক্তি। দুই বোন যুক্তি এবং দীপ্তি অনলাইন ব্যবসাটা সামলান। যুক্তি চাটার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট। দীপ্তি মিডিয়ায় কাজ করেন।

প্রেমস-ভ্রমণপিপাসু ঠাম্মার নামেই সংস্থার নাম রেখেছে জাঙ্গানিয়া পরিবার। মূলত শীতবস্ত্রই পাওয়া যায় এখানে। স্নো এবং উইন্টার জ্যাকেট, উলেন কোট, থার্মাল, সোয়েটশার্ট, রেনকোট-শীতে যতরকম পোশাক দরকার তার সব ধরন এবং মূলত ভারতীয় ব্র্যান্ডের স্টক রাখে প্রেমস। ‘আমাদের পঞ্চাশের বেশি ব্র্যান্ড রয়েছে। এর ৯০ শতাংশই ভারতীয়’, জানান যুক্তি। উদাহরণ দিয়ে বলেন, এক দম্পতি নামী আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড থেকে ২ লাখ টাকার জিনিসপত্র কিনেছিলেন। অথচ ঠিক ওই জিনিসগুলিই প্রেমস থেকে কিনতে ১০ হাজার টাকাও লাগবে না। ‘তাই আমাদের কাছ থেকে শপিং করুন। যা টাকা বাঁচবে, সেটা দিয়ে পরের ট্রিপ প্ল্যান করুন’, হেসে বলেন যুক্তি। কিছু কিছু জিনিস জিঙ্গানিয়াদের দোকানে হয়ত পাওয়া যাবে না। আর সেটা মাথায় রেখে প্রেমস নিজেই সেগুলি তৈরি করছে, যাতে স্টক স্বয়ংসম্পূর্ণ করা যায়। দোকান এবং ই-কমার্স সব মিলিয়ে ১০ জন কাজ করেন প্রেমসে। গ্রাহকদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলে, তাদের সঙ্গে কথা বলে, নানা গল্প শেয়ার করতে ভালোবাসে প্রেমস। ‘ইভেন্টের আয়োজন করতে চাই, যেখানে পর্যটকরা একসঙ্গে হয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতার গল্প বলবেন’, বলেন যুক্তি। দুই বোনের ব্লগের মাধ্যেমে এই প্ল্যান ইতিমধ্যে ছড়িয়ে দিতে শুরুও করছেন।

কয়েক মাস আগে ই-কমার্স স্টোর লঞ্চ হয়েছে। চেষ্টা হচ্ছে প্রতিদিন অন্তত একটা করে ডেলিভারি দেওয়ার। দেখা যাচ্ছে, নতুন প্রজন্ম ই-কমার্সের মাধ্যমে রিটেল ব্যবসা খুব দ্রুত বাড়িয়ে চলেছে। হতে পারে হার্দিক সাহর এডুকেশন থেকে প্রেমশ্রী জৈন বর্তনওয়ালের সঙ্গে, অনলাইন চ্যানেলগুলি অফলাইন ব্যবসাকে দারুন সাপোর্ট দিচ্ছে। এই সবকিছু বুঝিয়ে দিচ্ছে ভারতে ই-কমার্সের প্রয়োজনীয়তা কতটা। 

লেখক-জুবিন মেহতা, অনুবাদ-তিয়াসা বিশ্বাস