পূজার প্যাশনই Le 15 Pâtisserie কে সফল করেছে

1

আপনি কি পূজা ধিংড়াকে চেনেন? পূজা কিন্তু আপনার প্রেরণা হতে পারেন। একটি মেয়ে যিনি মুম্বাইয়ের বুকে শুধু মাত্র কেক পেস্ট্রির একটি দোকান দিয়ে গোটা বলিউডের হৃদয় কিনেছেন। পূজা। বাবা, দাদা সবাই রেস্তোরাঁ চালান। নিজে চেয়েছিলেন নিজের মত করে দাঁড়াতে। মা পাশে ছিলেন। ঘরেই কেক পেস্ট্রি বানানোর কায়দাটা প্রথমে মার কাছ থেকেই শেখা। বলছিলেন, ৬ বছর বয়স থেকে ব্রাউনি বানানো শিখে ফেলেছিল ছোট্ট পূজা। প্রত্যেক উইক-এন্ডে বাড়িতেই চলত এক্সপেরিমেন্ট। কেক বানাতে গিয়ে হয়ত হয়ে যেত মাফিন। কিন্তু হার মানার পাত্রী ছিলেন না। ঠেকে ঠেকেই শিখেছেন। আর অথেনটিক প্যাস্ট্রিতে নিত্য নতুন উদ্ভাবনকে জুড়ে দিয়েছেন। উদ্দেশ্য ছিল একটাই, স্কুলে নিয়ে গিয়ে বন্ধুদের খাওয়ানো। বাবা মা দাদার দেওয়া তারিফে মন ভরত না। এভাবেই পূজা স্কুলে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। এবং স্বপ্নটা দেখেন তখন থেকেই। নিজের একটা প্যাস্ট্রি পার্লার হবে! আহা!

কিন্তু বাবা চেয়েছিলেন মেয়ে উকিল হোক। বাড়িতে কথার খই ফোটে যখন তখন ওকালতিটাই হোক পেশা। তাই মুম্বাইয়ের একটি নামী ল কলেজে ভর্তিও হন পূজা। কিন্তু ওই যে প্যাশনের টান, সব ছেড়ে চলে আসেন কেক,প্যাস্ট্রি, ব্রাউনির মিষ্টি জগতে। হসপিটালটি ম্যানেজমেন্ট পড়তে চলে যান স্যুইৎজারল্যান্ডের লে বোভেরের বিখ্যাত সিজার রিট্‌জ স্কুলে। তারপর প্যারিস। সেখানে লে কর্ডন ব্লিউতে পড়ার সুযোগ। এখানেই প্রথম ম্যাকারন বেকারি সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি হয়। ম্যাকারন এই শব্দটি ইটালির ম্যাকারনি থেকে এসেছে। অনেকটা জ্যাম স্যান্ডউইচ কুকিজের মতো দেখতে, তার ওপর থেকে চিনির মিহি দানার দারুণ সজ্জায় আর স্বাদে অনবদ্য এই ম্যাকারন ফরাসিদের দারুণ পছন্দ। এই ফরাসি প্যাস্ট্রির প্রেমে পড়ে গেলেন পূজা। আর পেয়ে গেলেন তার এগনোর রাস্তাও। ছোটবেলার স্বপ্নটা ডানা পেল। ফিরে এসে মুম্বাইয়ে খুলে ফেললেন Le 15 Patisserie, দেশের প্রথম ম্যাকারন বেকারি। যেখানে আপনি তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করতে পারবেন অথেনটিক ফরাসি প্যাস্ট্রির স্বাদ। ভ্যানিলা, চকোলেট, আর ক্রিমের আস্তরণে ঢাকা এই প্যাস্ট্রিই এখন সোনম কাপুর, মাসাবা গুপ্তাদের সব থেকে পছন্দের। মুম্বাইয়ের ক্রিমিলেয়ারের এটাই এখন ডেসটিনেশন।

বলছিলেন, ২০১০ যখন শুরু করেন প্রথম প্রথম দারুণ অসুবিধে হয়েছে। ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি তখন নতুন। মাত্র তেইশ বছরের একটা পুচকে মেয়ে। ফলে তার সঙ্গে কাজ করার জন্যে সাপ্লায়ার থেকে এজেন্ট পাওয়া কোনওটাই সহজ ছিল না। রোজই একটা করে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। মুম্বাইয়ের এমন কোনও এক্সিবিশন ছিল না যেখানে পূজা তাঁর খাবারের স্টল নিয়ে হাজির হননি। বিভিন্ন জায়গায় স্যাম্পল পাঠিয়েছেন। ধীরে ধীরে Le15 এর ব্র্যান্ড তৈরি হয়েছে। আর আজ মুম্বাই তিনি নিজেই একটি ব্র্যান্ড। এখন চার চারটি আউটলেট। খুব শিগগিরই খুলবে আরও কয়েকটি। পাশাপাশি সামাজিক দায়ও এড়াতে চান না। পিছিয়ে থাকা মহিলাদের স্বনির্ভর করতে মুম্বাইয়ে একটি প্যাস্ট্রি বানানোর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলার কথা ভাবছেন। ইতিমধ্যে স্টুডিও ১৫ নামে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলেও ফেলেছেন তিনি। সেখানে সারা দেশ থেকে উৎসাহী ছাত্রছাত্রীরা আসেন বেকারির রেসিপি শিখতে। আরও একটি পরিচয় আছে পূজা দারুণ লেখেন। প্রথম বই দ্য বিগ বুক অব ট্রিটস দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিল।

পূজা বলছিলেন, প্যাস্ট্রি, ব্রাউনি আর চকোলেটি জীবনের ফাঁকে লেখালিখি যেমন রিলিফ তেমনি তাঁর নাকি একটা রাফ এন্ড টাফ অস্তিত্বও আছে। সেই সত্তা তাকে নিয়ে যেতে চায় পৃথিবীর কোণায় কোণায়। পায়ের তলায় তাই সরষে নিয়ে ঘুরে বেরান এই মেয়ে। সেদিন কলকাতায় এসেছিলেন পূজা। তাঁর দ্বিতীয় বই ‘হোলসাম কিচেন’প্রকাশ করে গেলেন। তারই ফাঁকে জানালেন তাঁর সাফল্যের আসল রহস্য হল তার কখনও হার না মানা প্যাশন।

Related Stories