অনলাইনে মেন্টরভিত্তিক কোডিং শিক্ষা- Practical Coding

0

হাতে হাতে ঘুরছে স্মার্ট-ফোন। গজিয়ে উঠছে মোবাইল অ্যাপ বা গেম তৈরির স্টার্টআপ। আর সেই সঙ্গে বাড়ছে অ্যাপ তৈরি করতে জানা লোকের চাহিদা, তৈরি হচ্ছে কাজের সুযোগ। অনেকেই তাই নিজের কাজের পাশাপাশিই শিখে নিতে চাইছেন এই বিশেষ প্রযুক্তিটি আর সেই কাজটাকেই সহজ করে দিতে শুরু Practical Coding, কোডিং শেখার মেন্টরভিত্তিক অনলাইন মঞ্চ।

প্র্যাকটিক্যাল কোডিং এ রয়েছেন ১০০ এর ওপর মেন্টর। ইঞ্জিনিয়ার, স্টার্টআপের মালিক, বড় বহুজাতিক সংস্থার কর্মী, তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তি - এরাই শিক্ষা দেন মেন্টর হিসেবে।

বাসবরাজ হাম্পালি নিজে একজন অ্যানরয়েড ডেভেলপার ও KanheriEdu.com নামে একটি শিক্ষা-প্রযুক্তি কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা। Traffline সংস্থায় অ্যানরয়েড ডেভেলপার হিসেবেও কয়েকদিন কাজ করেন তিনি। সেই সময়ই তিনি লক্ষ্য করেন এমন সব লোকেরা কোডিং শেখাচ্ছেন যাঁদের নিজেদের কোনও কোডিং-এর অভিজ্ঞতা নেই। উত্সাহী ছাত্রছাত্রীদের কোডিং শেখাতে শুরু করেন বাসবরাজ এবং দেখেন তাঁর পুরো সময় চাকরির পাশাপাশি খুব সহজেই সময় করতে পারছেন শিক্ষকতার। বুঝতে পারেন ওয়েব, অ্যানরয়েড ও আইওএস অ্যাপ ও গেম তৈরির করতে জানা শিক্ষকদের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও বাড়বে। সেখান থেকেই ভাবনা শুরু প্র্যাকটিক্যাল কোডিং-এর।

অফিস, হুবলির BVB CTIE তে, কোম্পানি পরিচালনার দায়িত্ব বাসবরাজ ও তাঁর বোন সরোজার। সরোজা নিজে নিজেই কোডিং শিখেছেন। এখন কোম্পানির গ্রাহক সেবা ও প্রযুক্তির দিকটি দেখেন সরোজা।

প্র্যাক্টিক্যাল কোডিং-এর প্রতিটি শিক্ষাক্রমই সুনির্দিষ্ট। মেন্টররা একটি নির্দিষ্ট সময় ক্লাস নেন এবং বেশিরভাগ ক্লাস হয় সপ্তাহান্তে। ক্লাস নেওয়া হয় গুগল হ্যাঙ্গআউটের মাধ্যমে। একজন মেন্টর একসময় সর্বাধিক ৩ জন ছাত্রছাত্রীকে পড়ান। ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শিক্ষকদের ১০ এর মধ্যে নম্বর দিতে পারেন। বাসবরাজ জানালেন প্রত্যেক মেন্টরই এখন পর্যন্ত ৯ এর ওপর নম্বর পেয়েছেন।

সোশ্যাল প্রোফাইল ও ইন্টার্ভিউয়ের মাধ্যমে বাছাই করা হয় শিক্ষকদের, এবং আয়ের অংশ দেওয়া হয় তাঁদের। কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স ইঞ্জিনিয়ার, উদ্যোগ পতি, ছাত্র সকলেই শিখতে আসেন প্র্যাক্টিক্যাল কোডিংএ। সবধরনের চাকরিজীবীকেই পরিষেবা দিতে চায় প্র্যাক্টিক্যাল কোডিং। commonfloor.com এর যুগ্ম প্রতিষ্ঠাতা ললিত মঙ্গল পরামর্শদাতা হিসেবে যোগ দিয়েছেন প্র্যাক্টিক্যাল কোডিং-এ।

বাসবরাজ মনে করেন তাঁদের এই উদ্যোগের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। ইউএস-এর Codecademyএর আজ পর্যন্ত গ্রাহক সংখ্যা ২৪ মিলিয়ন। গবেষণা বলছে কোডিং-এ কাজ করতে শুরু করলে ৬৬ শতাংশ কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স ইঞ্জিনিয়ার তাঁদের বর্তমান বেতনের ২-৩ গুণ বেশি উপার্জন করতে পারবেন। তাই নিজের চাকরি করার সঙ্গে সঙ্গেই কোডিং শিখতে শুরু করতে আগ্রহী তাঁরা। “শিক্ষাক্রমের শেষে তাঁরা একটি অ্যাপ বানান, অ্যাপ স্টোর বা ওয়েবে তুলে দেওয়া হয় সেই অ্যাপ, আর তাঁর সোর্স কোড তুলে দেওয়া হয় Github এ”, জানালেন বাসবরাজ।

ব্যবসা বৃদ্ধির নানা উপায় রয়েছে এই উদ্যোগের। প্র্যাক্টিক্যাল কোডিং তাদের মেন্টারভিত্তিক শিক্ষা মডেল ব্যবহার করে যোগ, সঙ্গীত ইত্যাদি আরও নানা ক্ষেত্রে ব্যবসা বাড়াতে পারে। ইন্দোনেশিয়ার মত দেশ, যেখানে ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়ছে সেখানেও ব্যবসা ছড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সঠিক মেন্টর নির্বাচন ও দ্রুত হারে তা বাড়ানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আরও বেশি করে মার্কেটিং উদ্যোগ নিয়ে ছাত্র সংগ্রহ বাড়াতে হবে, তাহলেই দক্ষ শিক্ষকরা যোগদানে উত্সাহিত হবেন। বাসবরাজ বললেন, তিনি নানা পথ বিশ্লেষণ করেই সিদ্ধান্ত নেবেন কোন পথে এগোবে প্র্যাক্টিক্যাল কোডিং। Acadgild এবং Edureka এর মত প্রতিযোগীদের নিয়ে চিন্তিত নন বাসবরাজ। বললেন, এটি একেবারেই একটি নতুন ক্ষেত্র, আরও বেশি সংখ্যক কোম্পানি এলে তা মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। উন্নতমানের শিক্ষক ও ব্যক্তিগত ছোঁয়া এই দু’টিই আগামী দিনে তাঁদের এগিয়ে রাখবে, এমনটাই মত বাসবরাজের।