অফিস মানে এখানে স্বস্তির নিশ্বাস

১০/১০ ঘরে ২০ জনের হুটোপুটি নেই। নেই বাড়ির বায়নাক্কা সামলানোর ঝক্কি। অফিস মানে এখানে শুধুই স্বস্তির আবহাওয়া। কাজের সঙ্গে যেখানে তাল মিলিয়ে চলে আড্ডা, বই পড়া। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের পুনেতে এমনই এক অভিনব অফিস গড়েছেন বছর ২৭-এর এক কন্যে। চিরাচরিত ধারা ভাঙা এই কর্মস্থলের নাম ‘আইডিয়া মিল’। যাঁর উদ্যোগে এই অভিনব চিন্তাধারা বাস্তব রূপ পেয়েছে তিনি ন্যাশনাল চেস চ্যাম্পিয়ন ক্রুত্তিকা নাদিগ।

0

কর্মস্থলে বজ্রআঁটুনি পরিবেশের বরাবরই বিরোধী ছিলেন ক্রুত্তিকা। বিশ্বাস করতেন, চাপের মধ্যে থেকে কখনই ভাল কাজ করা সম্ভব নয়। সে কারণে কর্মস্থলের ধারণাটাই পাল্টে দিলেন তিনি। উন্মুক্ত পরিবেশ, যেখানে উদ্ভাবনী চিন্তার প্রকাশ ঘটে, সেরকম একটা কর্মস্থল গড়ে তুললেন। জন্ম নিল ‘আইডিয়া মিল’। মূলত সৃষ্টিশীল কাজের মানুষ, উদ্যোগপতি ছাড়াও পড়ুয়াদের জন্য তৈরি হয়েছে এই কর্মস্থল। এক ছাদের তলায় যেখানে কাজের সঙ্গে আলোচনা, কর্মশালা, সিনেমা দেখানোরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এমনকী প্রয়োজনে খোলা আকাশের নিচেও শ্বাস নিতে পারবেন কর্মীরা। আপাতত পুণের একটি আবাসনে গড়া হয়েছে ক্রুত্তিকার এই স্টুডিও। সপ্তাহের সাত দিনই সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই কর্মস্থল। ইতিমধ্যেই পুণেতে সাড়া ফেলে দিয়েছে এই অভিনব কর্মস্থলের ধারণা। স্টুডিওর সদস্যপদ নিয়েছেন ১৬ জন। সদস্যদের চাহিদা পূরণে আধুনিক ডেস্ক ছাড়াও পাঠাগার, ওয়াইফাই-এর মাধ্যমে ইন্টারনেট পরিষেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সীমিতি জায়গার এই অফিসে একসঙ্গে ৬ জন করে বসার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও একান্তে বসে যাঁরা কাজ করতে চান, তাঁদের জন্যও রয়েছে পৃথক ডেস্ক। ‘আইডিয়া মিল’-এর কর্ণধারের আশা, আগামী দিনে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়বে সংনস্থা।


ক্রুত্তিকা নাদিগ, কর্ণধার, ‘আইডিয়া মিল’
ক্রুত্তিকা নাদিগ, কর্ণধার, ‘আইডিয়া মিল’

তবে শুরুতেই যে সাফল্য আসবে তা ভাবতেও পারেননি ক্রত্তিকা। এমনকী দাবা থেকে তিনি যে উদ্যোগপতি হওয়ার দৌড়ে সামিল হবেন তাও ভাবেননি। এক সময় সাংবাদিক হওয়ার জন্য ‘এশিয়ান স্কুল অব জার্নালিজম’-এ ভর্তি হন। সেখান থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর কিছু দিন ‘দ্য ইকনমিক টাইমস্’-এ চাকরি করেন। বিভিন্ন দেশে দাবা খেলার সুবাদে অনেক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা হয় তাঁর। ‌পরবর্তীকালে সেই ভ্রমণ কাহিনি ছেপে বের হয় ‘লোনলি প্ল্যানেট’ পত্রিকায়।


মাত্র ২৭ বছরেই বিশ্বের ২৫টি দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। জানতে পেরেছেন বিভিন্ন দেশের সভ্যতা সম্পর্কে। তবে অভিনব কর্মস্থল গড়ার পরিকল্পনাটা মাথায় খেলে কিছু মাস আগে। অনলাইনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আদর্শ কর্মস্থলের পরিবেশ নিয়ে একটা প্রবন্ধ পড়েন তিনি। ভেবে দেখেন, নিজের শহর পুণেতেও এরকম একটা ‘অফিস স্পেস’-এর অভাব রয়েছে। যেখানে কর্মীরা চাপমুক্ত হয়ে কাজ করতে পারেন। গাছগাছালির মধ্যে থেকে যেখানে ঝলমল করবে সূর্যের আলো। কর্পোরেট অফিসের আবহাওয়া যে কর্মস্থলে নাক গলাতে পারবে না। শুরু হয়ে যায় ‘আইডিয়া মিল’।

ইতিমধ্যেই ক্রুত্তিকার এই ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিভিন্ন সংস্থার কর্ণধাররা। তাঁদের বক্তব্য, ঠুনকো নিয়মের গেরোয় না পড়ে অনেক সময় কর্মীদের কাজের অসুবিধা হয়। সেক্ষেত্রে ‘আইডিয়া মিল’-এর ধারণাটা অভিনব। দেরি হলেও কর্পোরেট কর্তারা বুঝেছেন অস্বস্তি নয়, অফিস হওয়া উচিত স্বস্তির বাতাবরণ।

Related Stories