Seven Wonders এখন নিউটাউনের ইকোপার্কে!

2
বিশ্বের বিস্ময়গুলি একে একে হাজির হচ্ছে শহর কলকাতায়। চিনের প্রাচীর মিশরের পিরামিড অথবা রোমের কোলোসিয়াম। কলকাতাতেই মিলবে বিশ্বের সাতটি আশ্চর্য। নিউটাউনের ইকোপার্কে হচ্ছে এই বিশ্ব দর্শনের ব্যবস্থা।

নির্জন আর কোলাহল। কলকাতার বুকে দুই বিপরীত চরিত্রের এমন বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থানের দেখা মিলবে একমাত্র ইকোপার্কে। পর্যটনের আকর্ষণ বাড়াতে যে যেভাবে সময় কাটাতে চাইবেন তার সব পসরা সাজিয়ে অপেক্ষায় শহরের শেষ প্রান্তের এই বিনোদন পার্কটি। এবার তার নতুন আকর্ষণ সেভেন ওয়ান্ডার্স। অর্থাৎ বিশ্বের সপ্তাশ্চর্য এক্কেবারে নাগালে। সেখানেই তৈরি হচ্ছে বিশ্বের সাত আশ্চর্যের রেপ্লিকা। আগামী নববর্ষেই এই পার্ক সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে হিডকো (HIDCO)।

কী কী থাকছে ওয়ান্ডার পার্কে ? হিডকোর চেয়ারম্যান দেবেশিস সেন জানান, চিনের প্রাচীর, চিলির ইস্টার আইল্যান্ড মূর্তি, রোমের কলোসিয়াম, জর্ডানের পেট্রা, ব্রাজিলের ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার, মিশরের পিরামিড এবং ভারতের তাজমহল। বিন্দুতে সিন্ধু দর্শনের থেকেও ভালোভাবে সপ্তাশ্চর্য দেখে ফেলতে পারেন আপনি। আপাতত নির্মাণের কর্মযজ্ঞ চলছে। কয়েকশো কর্মী ব্যস্ত বিস্ময় গড়তে। প্রায় তৈরি কোলোসিয়াম, পেট্রা। পিরামিড, ডজন ডজন তুতানখামেনের মূর্তি তৈরির কাজও শিগগিরই শেষ হবে। ক্রাইস্ট দ্য রিডিমারের আদলে যিশুর ৬০ ফুট লম্বা মূর্তি দূর থেকে দেখার ভিড় লেগে যাচ্ছে এখন থেকেই। শুধু সাত আশ্চর্য গড়ে দিলেই কাজ শেষ না। চকচকে নিউটাউনের বুকে তাদের যদি বড্ড বেমানান লাগে। তাই তৈরি হবে মানানসই পরিবেশও। শব্দ, আলো, রং এক্কেবারে আসলের মতো। মনেই হবে না খাস কলকাতায় বসে এত সব একসঙ্গে। দেবাশিসবাবু জানান, ‘বিশ্বের আশ্চর্যতম ওইসব স্থানের পুরো অ্যাম্বিয়ান্স ধরে রাখার চেষ্টা হবে। দর্শকদের জন্য আরও সুখবর অপেক্ষা করছে। চটপট সেটাও জানিয়ে দিই। ধরুন চিনের প্রাচীরের ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে চাইছেন। কেউ মানা করবে না। অনায়াসে ইচ্ছে পূরণ’। দেওয়ালের গায়ে খোদাই থাকবে তার ইতিহাস। মানাসই মিউজিক, আলোর ব্যবহার। এমন আবহ তৈরি করা হবে, যাতে দর্শকদের মনে হয় সত্যিই তিনি চিনেই আছেন। পেট্রার গুহাবাড়িতে ওঠার ব্যবস্থা থাকবে সবার জন্য। ভিতরে ঢুকে ঘুরে দেখা যাবে রোমের কোলোসিয়ামও।

যদিও অনেকটাই কাজ বাকি তাজমহলের। মূল রাস্তার পাশেই গড়ে উঠবে ভারতীয় এই ওয়ান্ডার। স্টিলের পাতের ওপর ফাইবারের সূক্ষ কাজ। ফুটিয়ে তোলা হবে সেই রঙ, সেই কারুকাজও। এক একটা অংশ তৈরি হচ্ছে ওয়ার্কশপে। শাহজাহানের তাজমহলকে একেবারে নিখুঁত করে গড়ে তোলাই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন শিল্পীরা। এতবড় কর্মযজ্ঞের পেছনে পরিকল্পনায় রয়েছেন শিল্পী রূপচাঁদ কুণ্ডু। দিনরাত পরিশ্রম করছেন নিখুঁতভাবে সপ্তাশ্চর্য তৈরি করবেন বলে। আর এই সবকিছুর একটাই লক্ষ্য। টুরিস্ট ডেস্টিনেশন হিসেবে বাংলাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

Related Stories