আত্মহত্যা সমাধান নয়-দেশকে বোঝাতে বুলেটে সওয়ার সানা

1

রোভনজিতের কথা মনে পড়ে? লা মার্টিনিয়ার ফর বয়েজের অষ্টম শ্রেণির সেই ছাত্রটি, জীবনের মানে বোঝার আগেই যে শেষ করে দিয়েছিল নিজেকে। একেবারে হালের কথা বলি, অভিনেতা প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের ঘর থেকে মিলল যার ঝুলন্ত মৃতদেহ। হতাশা, অবসাদে মৃত্যুকেই বেছে নিয়েছেন সম্ভাবনাময় এই টেলি তারকা। তালিকাটা আরও বড় হোক, চান না সানা ইকবাল। গোটা দেশে তাঁর কথাই বলতে চান তেলেঙ্গনার এই কন্যা। গত নভেম্বর মাসে ঘর ছেড়ে পথে নেমেছেন তাই। সঙ্গী একটি বাইক। আত্মহত্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে এভাবেই রাজ্যে রাজ্যে ঘুরছেন। এসেছেন কলকাতাতেও।

‘বাড়ি থেকে যখন বেরোতাম তখন মনে হত কত মানুষ তো কতভাবে মরে, আমিও তো মরতে পারি। তারপর চলতে চলতে একদিন মনে হল, আরে! জীবন তো কালো নয়, সাতরঙের রংধণু’! এভাবেই জীবনের নতুন মানে খুঁজে পেয়েছিলেন সানা। শুরু হয় পজেটিভ থাকার প্র্যাকটিস। কলকাতার আড্ডায় বসে সেই কাহিনি বলছিলেন তেলেঙ্গনার বীরঙ্গণা।

সানা বোঝেন, একটু একটু করে জীবন থেকে বেঁচে থাকাটাই হারিয়ে যাচ্ছে। কেউ নেই পাশে। ধরার মতো হাত নেই। শূন্যতার গ্রাসে অস্তিত্বের সবটুকু। একার বৃত্তে আরও একা হয়ে যাচ্ছে মানুষগুলো। পড়ুয়া, চাকরিজীবী, গৃহবধূ, ছোট তারকা, বড় তারকা, ব্যবসায়ী-মনের শরীরে শিকড় ছড়িয়ে দেওয়া শূন্যতার এই অসুখ এভাবেই কেড়ে নিচ্ছে কত মানুষের প্রাণ।আধুনিকতার অনিবার্য এই অসুখের বলি হচ্ছেন কত জন। তার বিরুদ্ধেই লড়াই সানা ইকবালের।‘সুইসাইড ইজ নট দ্যা সলিউশন’ নামে ফেসবুক পেজ খুলেছিলেন আগেই। এবার সঙ্গী প্রিয় বুলেট বাইক। বেরিয়ে পড়েছেন পথে। উদ্দেশ্য একটাই। আত্মহত্যার ফাঁদ থেকে জীবনে ফেরার লড়াই ছড়িয়ে দেওয়া।

সানা পেশায় কর্পোরেট ট্রেনার। আইটি সেক্টরে ৯ বছর কাজ করেছেন। সেই সূত্রে আইটি সেক্টর থেকে শুরু করে ব্যাঙ্ক, হোটেল, ব্যবসায়ী, গৃহবধূ-অনেকের সঙ্গে কথা বলতে হয় সানাকে। বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে ভাবনাচিন্তার আদানপ্রদান ছিল নিয়মিত। কথা বলতে বলতে সানা বুঝতে পারেন কীভাবে একাকীত্বের অন্ধকারে ডুবে থাকতে থাকতে নিজেকে খোলসে গুটিয়ে নিচ্ছে কত জন। আর ঠিক এখানেই সানার লড়াই শুরু।‘ঠিক করে নিই, খোলস থেকে বের করে আনতে হবে মানুষগুলোকে। বোঝাতে হবে, ‘জিন্দেগি আগে জিনা চাহিয়ে’, বলার সময় চোখ দুটো ঝিলিক দিয়ে উঠছিল সানার। ১৬ জনকে মৃত্যুর পথ থেকে ফিরিয়ে এনেছেন শুধু কাউন্সেলিং করে। বুক ঠুকে বলেন লড়াকু কন্যা।

‘লেরকেওয়ালে কাম’, মেয়ের ইচ্ছের কথা শুনে বলেছিলেন বাবা-মা। পরে অবশ্য বুঝতে পারেন, ঠিক পথেই চলছে মেয়ে। লড়াইয়ে পাশে বাবা-মাকে পেয়ে জোর বেড়েছে। সবাইকে যে পাশে চান তিনি। কারণ এই লড়াই তো আসলে সবার। সমাজের।সময়েরও।

সঙ্গী সাদা বুলেট।লক্ষ্য একটাই ।আত্মহত্যার বিরুদ্ধে আরও অনেক মানুষকে সচেতন করে তোলা। ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করে তোলা। চান, আত্মহত্যা শব্দটা মুছে যাক সমাজের কাঠামো থেকে,সবার জীবন থেকে। আরও। আরও বেশি করে বাঁচার ইচ্ছে হোক সবার।বদলে যাক দৃষ্টিভঙ্গি, জীবন নিয়ে চিন্তা-ভাবনার ধরন। উপভোগ করুক, ভালো-খারাপ, জীবনের প্রতিটা মুহুর্ত।