স্টার্টআপের কথা ভেবে আরবিআই-এর মুদ্রানীতি

0

কেন্দ্রীয় বাজেটের ঠিক একমাস আগে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ২০১৫-১৬ এর ষষ্ঠ দ্বিমাসিক মুদ্রানীতি প্রকাশ করেছে। স্টার্টআপ ইন্ডিয়া অ্যাকশন প্ল্যান লঞ্চ হওয়ার দু সপ্তাহ পর আরবিআই এন্টারপ্রেনারশিপ, বিশেষত স্টার্টআপের জন্য ইকোসিস্টেম তৈরির ক্ষেত্রে সরকারের অবদান এবং উদ্যোগের ধাপগুলি তুলে ধরেছে। আরবিআইয়ের বয়ান অনুযায়ী, এই পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা হয়েছে যাতে এমন একটা পরিকাঠামো তৈরি করা যায় যার মাধ্যমে ফরেন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল গ্রহণ করা যায়, বিভন্ন চুক্তিভিত্তিক বিনিয়োগ কাঠামো সহজীকরণ, মালিকানা বদলের নিয়ম সরলীকরণ, চুক্তির ডকুমেন্টেশন এবং তথ্য সাজানোর ব্যবস্থা সহজ করা যায়।

কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে আরবিআই বিদেশের সঙ্গে লেনদেন যাতে আরও বাড়ানো যায় তার জন্য বিশেষ করে স্টার্টআপগুলির ক্ষেত্রে কী কী নিয়ম বদল করা যায় তার প্রস্তাবগুলি এইরকম-

১. সেক্টর যাই হোক না কেন ফরেন ভেঞ্চার ক্যাপিটালের জন্য বিনিয়োগমূল্য ঠিক করে নিতে হবে। তাছাড়া, ফরেন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ইনভেস্টর থেকে রেসিডেন্ট অথবা নন রেসিডেন্ট ইনভেস্টরে শেয়ার বদল সহজ করতে হবে।

২. স্টার্টআপের মালিকানা বদল, ডেফারড বেসিসে মূল্য চোকানো এবং ১৮ মাস সময় দিয়ে ডিট তৈরি করা।

৩. এ-টু ফর্ম যাতে অনলাইনে দাখিল করা যায় সেই ব্যবস্থা থাকতে হবে। রেমিটেন্সের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে শুধু ফর্ম অথবা নানা প্রামান্যপত্র সহ ফর্ম দাখিল করার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

৪. নিয়মের মধ্যেই পেনাল্টি স্ট্রাকচার রেখে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআইয়ের মতো বিষয়গুলির সরলীকরণ করা জরুরি।

রয়েছে আরও কিছু প্রস্তাব-

১. এক্সটারনাল কমার্শিয়াল বরোয়িং ফ্রেমওযার্কের মধ্যে স্টার্টআপগুলিকে রুপি লোনের অমুমোদন দিতে হবে।

২. স্টার্টআপ এন্টারপ্রাইজগুলির জন্য সহজে পরিবর্তন করা যায় এমন নোট চালু করতে হবে। এই ধরনের অভিনব এফডিআই ইন্সট্রুমেন্ট চালু করা জরুরি।

৩. স্টার্টআপগুলির জন্য বিদেশি বিনিয়োগের পদ্ধতি সহজ হতে হবে।

যেসব বিষয়গুলিকে অনুমোদন দেওয়া যায়, যেমন সোয়েট ইকুইটির মাধ্যমে সংস্থার রেমিটেন্স অনুযায়ী ক্যাশ পেমেন্ট ছাড়া শেয়ার, যার জন্য FEMA এর কোনও অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। তাছাড়া, বিদেশে সাবসিডিয়ারির পক্ষে পেমেন্ট কালেকশনে ছাড়া দিতে হবে।

স্টার্টআপগুলিকে গাইড এবং সাহায্য করতে (helpstartup@rbi.org.in) –একটি মেলবক্স চালু করেছে। e-Biz প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ এবং লেনদেনের ইলেকট্রনিক রিপোর্টিং হয়। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ থেকে ব্যক্তিগতভাবে ফর্ম জমা দেওয়ার নিয়মে ইতি।

এই নিময়গুলির মাধ্যমে ভারতীয় স্টার্টআপগুলির জন্য আরবিআই যেন প্যাড পরে ব্যাট করতে নেমেছে। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক স্টার্টআপ ইন্ডিয়া ক্যাম্পেনের কী পারফরমেন্স তার দিকেও নজর রাখবে, যাতে পরের ধাপে স্টার্টআপ বা এসএমইগুলির জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়ার আরও সহজ নিয়ম বের করা সম্ভব হয়।