পশ্চিমবঙ্গের ট্যুরিস্ট গাইডে নয়া ডেস্টিনেশন রাজবাড়ি ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্স

0

গেল সেপ্টেম্বরে মৌ চুক্তি হয়েছিল। সেই মতো ঝাড়গ্রাম রাজবাড়িকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠল ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্স। ঝাড়গ্রামের সবুজ ঘেরা প্রকৃতির কোলে রাজবাড়ি ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্স।১২ কটেজের এই কমপ্লেক্সের মধ্যে ১১টি কটেজের কাজ শেষ। সব ধরনের আধুনিক পর্যটন পরিষেবা মিলবে প্রতিটি কটেজে।২৬ জানুয়ারির মধ্যে কটেজ বুক করলে মিলবে ৫০ শতাংশ ছাড়।অনলাইনেও কটেজ বুকিং করা যাবে।একই সঙ্গে থাকছে প্যাকেজ ট্যুরের বন্দোবস্ত।মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির প্রশাসনিক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রিমোটে ঝাড়গ্রামের ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন। সব মিলিয়ে আবার ঝাড়গ্রাম ঢুকে পড়তে চলেছে ভ্রমণপ্রিয় বাঙালির ট্যুরিস্ট গাইডে নতুন ডেস্টিনেশন হিসেবে।

দীর্ঘ অশান্তি পর্বে ঝাড়গ্রাম-সহ গোটা জঙ্গলমহলেই পর্যটকদের আনাগোনা কমে যায়। শীতের মরসুমেও হোটেলগুলো ফাঁকা পড়ে থাকত। সব মিলিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে পর্যটন শিল্প। অথচ, দীর্ঘ দিন ধরে শাল-জঙ্গল ঘেরা নিসর্গের জন্য বাঙালির ছুটি কাটানোর আদর্শ জায়গা ছিল ঝাড়গ্রাম। প্রচুর মানুষ ঝাড়গ্রাম শহর ও তার আশপাশে আসতেন। শীতের রোদ্দুর গায়ে মেখে সুবজের মাঝে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দই ছিল আলাদা। পর্যটকদের যথেষ্ট আনাগোনা থাকায় হোটেল ব্যবসায়ীরাও যথেষ্ট লাভ করতেন।

পর্যটনের এই রং ফিকে হতে শুরু করে মাওবাদী আন্দোলন পর্বে। জঙ্গলমহলে নাশকতার শুরু ২০০৪ সালে। ওই বছর ডিসেম্বরে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে বেলপাহাড়ির কাঁকরাঝোড়। বন-বাংলো ধ্বংস হয়। ২০০৮ থেকে শুরু হয় মাওবাদী এবং জনসাধারণের কমিটির লাগাতার আন্দোলন। একের পর এক খুন-সন্ত্রাসে অরণ্য- শহরের চেনা ছবিটা বদলে যায়। সবুজের কোল জুড়ে তখন শুধু আতঙ্ক-উদ্বেগ-হাহাকার। এই পরিস্থিতিতে পর্যটকদের আনাগোনা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ঝাঁপ বন্ধ হয় হোটেলগুলোর।

পরিস্থিতি বদলায় রাজ্যে পালাবদলের পর। শীর্ষ নেতা কিষেনজির মৃত্যুর পরে মাওবাদীদের শক্তিক্ষয় হয়। থিতিয়ে আসে নাশকতা-সন্ত্রাস। মন্দা কাটিয়ে পর্যটন-শিল্পও ধীরে ধীরে চাঙ্গা হতে শুরু করে। সুদিন ফিরছে দেখে রাজ্য সরকারও জঙ্গলমহলে পর্যটন প্রসারে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নেয়। তারই অন্যতম ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি ঘিরে ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্স। পর্যটন উন্নয়ন নিগমের অধিকর্তা সি মুরুগান জানান, ‘১২টির মধ্যে ১১টি কটেজের কাজ শেষ। আরও একটির কাজ খুব তাড়াতাড়ি শেষ হবে। প্রতিটি কটেজে দু শয্যার দুটি করে ঘর। ভাড়া দিনে ১,৬০০ টাকা। শীতের সময়ে বিশেষ ছাড়। জেলাশাসকের নেতৃত্বে একটি কমিটি ও পর্যটন নিগম যোথভাবে কটেজগুলি দেখাশোনা করবে’। ২৮ ডিসেম্বর থেকে প্যাকেজ ট্যুর চালু করেছে নিগম। এক রাত দুদিনের জন্য খরচ ৩,৬৮০ টাকা। কী থাকছে প্যকেজ ট্যুরে? নির্দিষ্ট দিন সকালে কলকাতা থেকে বাস ঝাড়গ্রামের উদ্দেশে রওনা। ওই দিন হাতিবাড়ি,রামেশ্বর মন্দির, টুসু মন্দির দেখে রাজবাড়ি ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্সে রাত যাপন। রাতে ধামসা মাদল সহযোগে আদিবাসীদের নাচগানের ব্যবস্থা।পরের দিন কনকদুর্গা মন্দির, চিল্কিগড় রাজবাড়ি দেখতে পারেন পর্যটকরা। দ্বিতীয়দিন ঝাড়গ্রাম মিনিচিড়িয়া খানা, সাবিত্রী মন্দির দেখে দুপুরে খাওয়াদাওয়া সেরে কলকাতার উদ্দেশে রওনা।

ঝাড়গ্রামে এলে মুখ্যমন্ত্রীও রাজবাড়িতে ওঠেন, রাত্রিবাস করেন। এখন পর্যটকের আনাগোনাও বেড়েছে। গত ডিসেম্বরে অরণ্য-শহরে প্রচুর পর্যটক এসেছিলেন। হোটেল ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটেছিল। ঝাড়গ্রাম শহর ও তার আশপাশে সব মিলিয়ে ২০টি হোটেল রয়েছে। কোনও হোটেলের ঘরই খালি ছিল না। অনেকে অগ্রিম বুকিং করে ছুটি কাটাতে আসেন। এই পরিস্থিতিতে অরণ্য-শহরে ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্স গড়ে ওঠায় পর্যটকদের আনাগোনা আরও বাড়বে। আর পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে ঝাড়গ্রামের নাম ফের নতুন করে জায়গা করে নেবে বলেই ধারনা পর্যটন দফতরের।