প্রকৃতির দান প্যাকেটে

আগের মতো সহজ, সরল জীবন আর নেই। জেট গতির যুগে দ্রুততম হতে চাইছে সবাই। যা করতে গিয়ে কোপ পড়ছে দৈনন্দিন খাবারে। এটা-সেটা দিয়ে পেট ভরলেও, শরীর পাচ্ছে না যথাযথ পুষ্টি। ফলে প্রভাব পড়ছে রোজকার কাজকর্মে। কর্মব্যস্ত মানুষের এই অভাব পূরণে এগিয়ে এসেছে একটি গোষ্ঠী। নাম ‘ইউনিভড’। প্রকৃতির পুষ্টি যাদের হাত ধরে পৌঁছে গিয়েছে সরাসরি খাওয়ার টেবিলে।

0

২০১০ সালে পথ চলা শুরু ‘ইউনিভড’-এর। মাত্র পাঁচ বছরের পরিষেবায় ইতিমধ্যেই পশ্চিম ভারতে যথেষ্ট পরিচিতি পেয়েছে এই কোম্পানি। সংস্থার কর্ণধার অমিত মেহতা জানিয়েছেন, মা-কে দেখেই পুষ্টিকর খাদ্যপণ্য তৈরির কথা মাথায় আসে তাঁর। অমিত লক্ষ্য করেন, প্রতিদিন সকালের চা খাওয়ার পরই ওষুধ নিতেন তাঁর মা। বুঝতে অসুবিধা হয় না, মায়ের মতোই দেশবাসীর নিত্যদিনের তালিকায় রয়েছে চা। ব্যস, বুদ্ধির গোড়ায় আর জল দিতে হয়নি। চায়ে আরও কিছু মিশিয়ে পুষ্টিকর পানীয় তৈরি করে ফেলে ‘ইউনিভড’। কর্মব্যস্ত দেশবাসী হাতে পান - ‘অ্যাক্টিভিটি, ডাইজেসটি ও ভাইটালিটি’-র মতো চা। এই চা স্মরণশক্তি বৃদ্ধি, হজম শক্তি বাড়ানো ও যৌন ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।


এখানেই শেষ নয়, পুষ্টিপণ্যের তালিকায় ইতিমধ্যেই ‘ক্যালডি’-র মতো গুরুত্বপূর্ণ আহার্য তৈরি করেছে এই সংস্থা। মূলত, গাছপালা থেকে সংগ্রহ করে এই পুষ্টপণ্য তৈরি করা হয়েছে। প্রাণীর হাড়ের গুড়ো থেকে সাধারণত ওষুধ তৈরি করে বিভিন্ন কোম্পানি। পুষ্টিপণ্য উৎপাদন কোম্পানিগুলিও এর ব্যতিক্রম হয় না। এখানেই সবার থেকে নিজেদের আলাদা দাবি করে ‘ইউনিভড’। তাদের দাবি, কোম্পানির অন্য কোনও পণ্যে তারা আমিষ ব্যবহার করেন না। ‘ওভেসা’-র মতো পণ্য তার সবথেকে বড় উদাহরণ। বাজারে বহুল ব্যবহৃত ‘ওমেগা-থ্রি’-র বিকল্প হিসাবে এই পুষ্টিপণ্য বাজারে আনতে চলেছে এই কোম্পানি। মাছের তেলের পরিবর্তে সম্পূর্ণ গাছগাছারির রস ব্যবহার করা হয়েছে এতে। খবরটা কানে যেতেই সাড়া পড়েছে নিরামিষাশীদের মধ্যে। ‌এতদিন শুধু শরীরে অভাব পূরণের জন্য যারা ‘ওমেগা-থ্রি’-র মতো বাজারি পুষ্টিপণ্য খেতে বাধ্য হতেন। এই কোম্পানির দাবি যে মিথ্যে নয়, তার প্রমাণও মিলেছে। কেবল উদ্ভিজ পুষ্টিপণ্য তৈরির জন্য ‘পেটা’-র শংসাপত্র পেয়েছে ‘ইউনিভড’। এছাড়াও তাদের কাছে রয়েছে ব্রিটেনের ‘ভেগান’ সোসাইটির সিলমোহর।


মূলত, তিন ধরনের পুষ্টিপণ্য বিক্রি করে এই কোম্পানি। স্বাস্থ্যপণ্য ছাড়াও ত্বক পরিচর্যা ও জৈব পদ্ধতিতে প্রস্তুত খাবারের বহু তালিকা রয়েছে তাদের। ২০১২ থেকে ১৫ সালের মধ্যে কোম্পানির পণ্যের তালিকা ৩৩ ছাড়িয়ে গিয়েছে। যার মধ্যে ওজন কমানোর ‘মাইনাস’ পণ্যটি দারুণ সাড়া ফেলেছে। বর্তমানে খেলোয়াড়দের উপযুক্ত পুষ্টি দিতে নতুন পণ্য আনতে চলেছে এই কোম্পানি।

এই সব সম্ভব হয়েছে সংস্থার সিইও অমিতের দূরদর্শিতা ও পরিশ্রমের জন্য। অস্ট্রেলিয়ার বন্ড বিশ্ববিদ্য়ালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি পান অমিত। পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘উইলিয়ামেট’ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিকল্পনা ও বিপণনে এমবিএ করেন। ফলে চারাগাছ থেকে শুরু হলেও মহীরুহের পথ খুঁজে পেয়েছেন তিনি। একদিন মায়ের সমস্যা সমাধানে যে চিন্তা মাথায় খেলেছিল, আজ তার ফল পাচ্ছে দেশবাসী।