আন্তর্জাতিক ফ্যাশন বাজার দাপাচ্ছে ভারতের StalkBuyLove

0


তুষার আগরওয়াল। লন্ডন স্কুল অব বিজনেসের প্রাক্তনী। জর্মানির সংস্থা রকেট ইন্টারনেটের অংশ হতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। হেভেনঅ্যান্ডহোম (Bamarang.in) পরিচালনা করছেন একসময়। পরে সেটি ফ্যাবফার্নিশের সঙ্গে জুড়ে যায়। ‘জীবনের প্রথম ধাপেই একেবারে ঠিকঠাক জায়গা থেকে শেখার সুযোগ পেয়ে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। আমি বলতে পারি, উদ্যোক্তা হওয়ার পাঠ নিতে হলে সারা বিশ্বে রকেট ইন্টারনেটের থেকে ভালো কিছু হতে পারে না’, বলেন তুষার। হেভেনঅ্যান্ডহোমের পর রেশমি আগরওয়ালের সঙ্গে হাত মিলিয়ে StalkBuyLove লঞ্চ করেন তুষার। সরা বিশ্বে তরুণীদের জন্য ট্রেন্ডি, সবসময় পরা যায় এমন সাধ্যের মধ্যে ভালো মানের পোশাক সরবরাহ করে StalkBuyLove। দিল্লি, বার্লিন এবং লন্ডনে অফিস রয়েছে সংস্থার। মূল উদ্দেশ্য, হাল ফ্যাশনের মহিলাদের রুচির কথা মাথায় রেখে পোশাক এবং এক্সেসরিজের বিশাল সম্ভার তুলে ধরা।

তুষারের পাশাপাশি রেশমিও সংস্থার আরেকজন প্রতিষ্ঠাতা, ফ্যাশন বাণিজ্যে যার ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। পাশ্চাত্য পোশাকে রেশমির জ্ঞানকে পুরপুরি ব্যাবহার করে StalkBuyLove । তিনি Lugani GmbH & Group এরও সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। ৮০ থেকে ২০০০ সালের গোড়া পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ফ্যাশন সাপ্লায়ার ছিল Lugani GmbH & Group। বড় বড় ইউরোপিয়ান রিটেলার যেমন, Zara, Lindex, H&M, C&A, Otto, Carrefour, Metro তে পোশাক সরবরাহ করত রেশমির ওই সংস্থা। জোভি, ইয়েপমি এবং ফিরকাল্টারের মতো আরও যেসব অনলাইন পোশাক সরবরাহ সংস্থা রয়েছে তাদের থেকে StalkBuyLove পোশাকের ভিত্তিতে অনেকটাই আলাদা। প্রথমত, আন্তর্জাতিক ট্রেন্ড এবং ক্যাটওয়াকের দিকে নজর রেখে সমস্ত পোশাক, সংস্থা নিজেই তৈরি করে। দ্বিতীয়ত, পোশাক ডিজাইন করা থেকে নেটে আপলোড করতে মাত্র ৬ দিন সময় লাগে। ফলে খুব অল্প সময়ে পোশাক তৈরি থেকে বাজারে বিক্রি সম্ভব হয়। ‘আমরা ফ্যাশন ট্রেন্ড নিয়ে কাজ করি। এক একটা কালেকশন বাজারে ছাড়তে খুব বেশি সময় নেওয়া যায় না। প্রতিদিনই আমরা কিছু না কিছু নতুন প্রোডাকশন বাজারে ছাড়ছি। তার মধ্যেই পোশাকের বিশাল সম্ভার এবং সঠিক দাম বজায় রাখার চেষ্টা করি’, তুষারের সংযোজন। ফ্যাশনের বিরাট সম্ভারই StalkBuyLove এর ইউএসপি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্যাটওয়াক থেকে ডিজাইন দেখে কোনটা নেওয়া হবে দিল্লিতে বসে স্থির হয়।

ফ্যাশনের জগতের নামী ইন্দো-ইউরোপিয়ান ব্যবসায়ীক পরিবারের ভরসা রয়েছে সংস্থার পেছনে। ফলে এই বছরের শুরুর আগে পর্যন্ত বাজার থেকে টাকা তোলার কথা ভাবেননি দুই উদ্যোক্তা। বর্তমানে StalkBuyLove দিনে দেড়শোটি অর্ডার পায়। মাসে মাসে ২০ শতাংশ করে ব্যবসা বৃদ্ধি হচ্ছে বলে দাবি তুষারদের। তিনি জানান, ‘নিজেদের ওয়েবসাইট আন্তর্জাতিক বাজারে ছড়িয়ে দিতে প্রথমে ব্রটেনকেই বেছেছি’। যদিও উৎপাদন থেকে ব্যবসার সমস্ত কাজ এবং কর্মী, সব ভারতেই হবে। ভারতীয় সংস্থাটি দেশের বাইরে ফাস্ট ফ্যাশন সংস্থা হিসেবে গড়ে উঠে H&M, Zara, Forever21, Asos এর মতো নামী ব্র্যান্ডগুলির সঙ্গে বাজারে প্রতিযোগিতায় নামতে চায়।

‘আমরা জাবং, মিন্ত্রা বা কুভসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছি না। কারণ এরা ভ্যালু চেনের সঙ্গে আড়াআড়ি ভাবে চলে, যেখানে আমরা ভ্যলু চেনের সমান্তরাল অবস্থানে থাকি’, বলেন তুষার। আগামী দশকের মধ্যেই সারা বিশ্বে ভোক্তাদের বড় বাজার হতে চলেছে ভারত। আর সেই সুয়োগের অপেক্ষায় StalkBuyLove। StalkBuyLove নিজেদের ই-কমার্স সংস্থা বলে মানতে নারাজ। তুষারদের মতে, ই-কমার্স অনেকটা পাইকারি বাজারের মতো। ‘আমরা এক একটা প্রডাক্ট ধরে ব্যবসা করি’, বলেন তুষার। ৬০ জনের শক্তপোক্ত টিম StalkBuyLove এখন ইউকে এবং জার্মানিতেও জাঁকিয়ে বসেছে। ব্যবসা করে ২০১৫র মধ্যে ২ কোটি টাকা ঘরে তুলতে চান তুষার-রেশমিরা।

লেখক-জয় বর্ধন

অনুবাদ-তিয়াসা বিশ্বাস