ঝুঁকি নিয়ে খুশি অনুভব, খুললেন স্টার্টআপ Propel  

1

প্যাশন কখনও সখনও প্রফেশন হয়ে যায়। আবার কখনও মুখোমুখি দাঁড়ায় একে অপরকে চ্যালেঞ্জ করে। কলকাতার এই তরুণের জীবনে দুটো ঘটনাই ঘটেছে। এবং দুটোই প্রবল। এবং ফাইনালি জিতেই গিয়েছে প্যাশনের প্রফেশন হয়ে ওঠার লড়াই। ছোটবেলা থেকে খেলাধুলোয় মন ছিল। কিন্তু পড়াশুনোতে কোনও অংশে কম ছিলেন না সল্টলেকের অনুভব কর্মকার। কখনও ভাবেননি, ভাবার অবকাশ পাননি খেলাধুলোর ভালোলাগাটা নিয়ে নিজের জীবনে কিছু করে দেখাবেন। আর পাঁচটা মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাঁচে ঢালাই করা সংসার ছিল ওদের। বাবা মার ইচ্ছের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া। তারপর সিমবায়োসিস থেকে ম্যানেজমেন্ট। চাকরি করা শুরু করেছেন প্রথম থেকেই সেরা সংস্থায়। যেমন ধরুন এমবিএ করে বেরোতে না বেরোতেই ইনফোসিসের মত সংস্থায় চাকরি পেয়ে যান। হায়দরাবাদে পোস্টিং। সেই থেকে ঠাঁই নাড়া। বছর দুয়েক পর চাকরি পান ডেলয়টে। ভালোই চলছিল। কিন্তু ওই যে শরীর চর্চার ইচ্ছে ওকে টেনে নিয়ে গেল ম্যারাথনের ট্র্যাকে। আজ অনুভব আন্তর্জাতিক ট্রিয়াথলনে দ্রুততম ভারতীয়। রীতিমত অন্যদের শেখান কীভাবে ট্রিয়াথলনে সাফল্য আসবে। এটাই ওর প্যাশন এটাই এখন ওর প্রফেশন। এটাই প্রবাসী বাঙালি অনুভব কর্মকারের নিজস্ব স্টার্টআপ। একটা সময় শরীরের বাড়তি মেদ ঝরাতে ভর্তি হয়েছিলেন জিমে। সেখান থেকেই দৌড় শুরু। তারপর বাকিটা ক্রমান্বয়ে ঘটতে থাকা অবিশ্বাস্য অধ্যায়। প্রথম যখন বাড়ি ফিরে বাবা মাকে জানালেন যে ডেলয়েটের মোটা মাইনের চাকরি ছেড়ে ট্রিয়াথলনে মন দেবেন তখন তাঁদেরও বিশ্বাস হয়নি।

কিন্তু সাফল্যই ওঁকে ওর সিদ্ধান্তে অবিচল রেখেছে। অনুভব খুলেছেন তাঁর স্টার্টআপ প্রপেল রেসফিট। রেসিং, সুইমিং আর সাইক্লিং এই তিনটিতেই দক্ষ হতে হয় ট্রিয়াথলনের জন্যে। তিনটিই দক্ষতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ দেন অনুভব। অনলাইনে ৬টি শহরের উৎসাহী অ্যাথলেটরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তাঁরা হয় ম্যারাথন নয় আলট্রা ম্যারাথনে দৌড়বেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ‘কমরেডস’ এর জন্যেও অনেকে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জানালেন অনুভব।

সম্প্রতি এসেছিলেন কলকাতায়। টাটা স্টিল আয়োজিত ম্যারাথনে দৌড়তে। কলকাতা দৌড়তে শিখেছে দেখে রীতিমত মুগ্ধ। ৪২ মিনিটে ২৫ কিলোমিটার দৌড় সম্পূর্ণ করলেন। কলকাতা তাঁর নিজের শহর। কিন্তু ট্রিয়াথলনের দৌলতে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে ঘুরে ফেলেছেন ইতিমধ্যেই। যেমন এই ২০১৭-য় তুরস্কে আইরনম্যান 70.3 ট্রিয়াথলনে যোগ দিয়েছিলেন। দ্রুততম ভারতীয় হয়েছেন। ২০া ১৮-য় মে মাসে ভিয়েতনাম মেতে উঠবে ট্রিয়াথলনের উন্মাদনায়। ইচ্ছে আছে সেখানেও যাওয়ার। তুরস্কে ১১৩ কিলোমিটার ট্রিয়াথলন ছিল। World Triathlon Corporation এর আয়োজন করে। ১.৯ কিলোমিটার সাঁতার, ৯০ কিলোমিটার সাইক্লিং এবং ২১.১ কিলোমিটার দৌড় শেষ করতে হয়। ২০০ জন ভারতীয় অংশ নিয়েছিলেন। সবাই সব কিছুতে দারুণ করে না। সেটা সম্ভবও নয়। শুধু শারীরিক সক্ষমতা দিয়ে ম্যারাথন কিংবা ট্রিয়াথলন জেতা সম্ভব নয় সে কথা বোঝাচ্ছিলেন। বলছিলেন প্রয়োজন স্ট্র্যাটেজি ঠিক রাখার। মনের জোড় দেহের ক্ষমতার পাশাপাশি প্রয়োগ না করতে পারলে এই লড়াইয়ে এগোনো সম্ভব নয়। আর এটাই ও ভালোবাসেন। ট্রিয়াথলন এই বাঙালি তরুণের কাছে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং। কারণ একজনের কর্মক্ষমতা এবং সহ্যশক্তি দুটোরই পরীক্ষা হয়ে যায়। স্ট্র্যাটেজিতে সুনিপুণ না হলে ট্রিয়াথলন ভাবাই বোকামো, মনে করেন এই রেস ফিট অ্যাথলেট। কিন্তু চাকরি ছেড়ে এধরণের উদ্যোগ নেওয়াটা যে একদম বোকামো নয় সেটা তাঁর বডি ল্যাঙ্গুয়েজেই স্পষ্ট।

Related Stories