বিয়ের খরচ বাঁচিয়ে কৃষকদের পাশে অভয়-প্রীতি

এ এক অন্য প্রেম কাহিনি। ভালোবাসার অনন্য সামাজিক উপাখ্যান লিখলেন অভয় দেওয়ার আর প্রীতি কুমভার।

0

অভয় দেওয়ার IRS অফিসার আর প্রীতি কুমভার IDBI ব্যাঙ্কের মুম্বাই ব্রাঞ্চের অ্যাসিস্টেন্ট ম্যানেজার। অমরাবতীর এই দুজন সম্প্রতি বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তবে আমার উদ্দেশ্য আপনাদের দুটি মানুষের প্রেম কিংবা বিয়ের গল্প জমিয়ে বলা নয়। বরং আর পাঁচজন যে সেলিব্রেশানের মধ্যে দিয়ে গাঁটছড়া বাঁধেন, তাঁদের সঙ্গে ওদের আনন্দ করার তরিকাটা কোথায় যে একটু আলাদা সেটাই আজকে বলব আপনাদের।

বিয়ের অনেক নিয়মকানুন। অনেক মজা সঙ্গীত, মেহেন্দি, বিদায়ী অথবা দারুন লোভনীয় সব খানাপিনা। না এর কোনওটাই করেননি অভয় আর প্রীতি। ভাবছেন তো মানেটা কি! অল্প সংখ্যক অতিথির উপস্থিতিতে রেজিস্ট্রি ম্যারেজ করেছেন ওঁরা। বিয়ের জন্য জমানো সমস্ত অর্থ ওঁরা দান করেছেন দারিদ্রের কবলে পড়ে ধুঁকতে থাকা দশটি কৃষক পরিবারকে। কৃষক আত্মহত্যার কারণে বাড়ির একমাত্র রোজগেরে সদস্য হারিয়েছে এমন দশটি কৃষক পরিবারকে ২০,০০০ টাকা করে দিয়েছেন।

বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন দৃঢ়চেতা সমাজকর্মী চন্দ্রকান্ত ওয়াংখেড়ে। তিনি অন্য অতিথিদের কৃষক আত্মহত্যার বিষয়টি বুঝিয়ে বলেন। বিয়েবাড়িতে এই বিষয়ক অনেক ব্যানার আর পোস্টার দেখানো হয়। অভয় এবং প্রীতি অমরাবতীর পাঁচটি লাইব্রেরীতে প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষা সম্বন্ধীয় ৫২,০০০ টাকার বই দিয়েছেন। এর মধ্যে তাঁদের জন্মস্থান কারাঞ্জা লাডের উমবারদা বাজারও অন্তর্ভুক্ত।

রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎকার গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে অভয়কে। তিনি অভয়কে আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের দূত হতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। প্রীতিও বিশ্বাস করেন সমাজে বদল আনতে হলে দৃষ্টান্তমূলক কাজ করা দরকার। এইকারণেই দুজন খুব সাধারণভাবে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

রিসার্চ করে অভয় জেনেছেন ভারতে প্রতি বছর জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠানেই শুধু খরচ হয় একলাখ কোটি টাকা। অভয়ের মতে ভারতের মতো দেশে যেখানে ষোলো লাখ কোটির বাজেট পেশ হয় সেখানে এই খরচ অনর্থক। যতই সামাজিক এবং আর্থিক অসাম্য থাক না কেন, মানুষ একটি বিয়েতে মোটামুটি তিনলাখ থেকে পাঁচকোটির কাছাকাছি খরচ করে। তাঁর সার্ভে এটাও বলছে যে বিয়েই হল অন্যতম সেই সামাজিক কারণ যার জন্য মানুষ ধার করেন। সমাজের কম সঙ্গতিপূর্ণ মানুষ বিয়ের খরচ বহন করতে তাঁদের সম্পত্তি, জমিজমা কিংবা অন্য সম্পদ বিক্রি করতে অথবা বন্দক দিয়ে ধার করতে বাধ্য হন। কেউ কেউ হয়ত তাঁর সারা জীবনের সঞ্চয় ফুরিয়ে ফেলেন একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে।