হস্তশিল্পের অনলাইন মেলা @ Ethnic Story

0

ভারতের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের প্রতি বরুণ বন্তিয়ার আগ্রহ অনেকদিনের। ই-কমার্স সম্পর্কে অভিজ্ঞতা হয় তিনি যখন আমাজনে চাকরি করেন তখন। নিজের সেই আগ্রহ ও অভিজ্ঞতার মেলবন্ধনেই রাজস্থানের এই যুবক শুরু করে দিয়েছেন দ্য এথনিক স্টোরি।

আমাজনে চাকরি করার সময়ই বরুণ লক্ষ্য করেন নানা ধরণের অভিনব হস্তশিল্পের একটা বড় বাজার রয়েছে, কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই হস্তশিল্পজাত দ্রব্যগুলি সম্পর্কে জানেনই না। তখনই হস্তশিল্পের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম খোলার পরিকল্পনার কথা মাথায়ে আসে।

২০১৫ এর অগস্ট মাসে লঞ্চ হয় দ্য এথনিক স্টোরি। দেশীয় পরম্পরাগত সবধরণের জিনিসই বিক্রি হয় এই অনলাইন স্টোরে। রয়েছে ঘর সাজাবার সরঞ্জাম, গয়না, জামা কাপড়, কর্পোরেট উপহার সামগ্রী। শুরুর কয়েক মাস বরুণ একাই পুরোটার দায়িত্বে ছিলেন, কিছুদিন পরে যোগ দেন দীপেশ দরলা।

“দ্য এথনিক স্টোরিতে হস্তশিল্পী ও ক্রেতাদের একটি মঞ্চে নিয়ে আসি আমরা। আমরা জিনিস কিনে সঞ্চিত করি না, সারা ভারতে বিভিন্ন হস্তশিল্পী ও বিক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে আমাদের, আমরা তাদের ফোটোগ্রাফিতে সাহায্য করি ও সেই জিনিসগুলি নিজেদের সাইটে নিয়ে আসি। হস্তশিল্পীদের পাশাপাশি, যে সব ডিজাইনাররা ঘর সাজানোর সরঞ্জাম ও নানা উপহার সামগ্রী তৈরি করেন, তাঁদের সঙ্গেও কাজ করি আমরা”, বললেন বরুণ।

নিজের নতুন এই উদ্যোগে প্রতিটি দিনই তাঁর কাছে একটা চ্যালেঞ্জ, বললেন দ্য এথনিক স্টোরির প্রতিষ্ঠাতা, সম্ভাবনাময় কারিগর ও হস্তশিল্পীদের সঙ্গে যোগাযোগ থেকে প্রতিদিনের কাজ চালানোর জন্য মূলধন যোগাড় পুরোটাই একটা চ্যালেঞ্জ। নতুন এই উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রতি পদক্ষেপেই একটা লড়াই তাঁর কাছে।

নিজের ব্যক্তিগত সঞ্চয়, পিএফ ও অন্যান্য সঞ্চয়ের টাকা মিলিয়ে চার লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করেছেন বরুণ। খরচ হয়েছে মূলত ব্র্যান্ডিং, ওয়েবসাইট তৈরি, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ও ছোট একটি অফিস তৈরিতে। “তিন মাস হল আমরা এটি শুরু করেছি, বর্তমানে আমরা ব্যবসা বাড়ানোর কথা ভাবছি, এবং তার জন্য বিনিয়োগ সংগ্রহের চেষ্টা করছি”, জানালেন বরুণ।

বৃদ্ধির সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ

হস্তশিল্পের বড় বাজার রয়েছে, রয়েছে প্রচুর সুযোগ কিন্তু একই সঙ্গে এই বাজারে টক্কর দেওয়ার পথে রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জও। ভারতের হস্তশিল্প সারা পৃথিবীতে জনপ্রিয়। দেশের প্রতিটি রাজ্যেরই নিজস্ব হস্তশিল্প রয়েছে, যা সেই অঞ্চলে মানুষের ইতিহাস, জনজীবন, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে যুক্ত।

দিওয়ালি ও উত্সবের মরসুমে ভাল সংখ্যক অর্ডার পেয়েছে দ্য এথনিক স্টোরি। কোম্পানির দাবি অনুযায়ী ২৫০০০ এর বেশি ক্রেতা তাদের সাইটে এসেছেন। বরুণ বললেন, “এর থেকে আমরা মনে করছি আমাদের এই উদ্যোগের খুব ভাল সম্ভাবনা রয়েছে, চাহিদা রয়েছে এই সব পণ্যের।

ভবিষ্যতে কাস্টমাইসেশনের সুবিধা রাখা হবে এই সাইটে। বর্তমানে শুধু রাজস্থান ও গুজরাত এলাকার হস্তশিল্পজাত পণ্য আমরা রাখি”, ভবিষ্যতে বিভাগ ও এলাকাভিত্তিক বিক্রির ব্যবস্থা করব আমরা”, জানালেন বরুণ।

বরুণ মনে করেন এই ব্যবসার মূল চ্যালেঞ্জ ভিন্ন ধরণের অভিনব পণ্য তৈরি ও তার জন্য সঠিক শিল্পীকে খুঁজে পাওয়া।

বাজার ও প্রতিযোগিতা

ভারত থেকে প্রতিবছর ৫০০০ মিলিয়ন ডলারের হস্তশিল্পজাত দ্রব্য রফতানি হয়, অনেক নতুন কোম্পানিই এই বাজারে ঢুকছে।

দ্য এথনিক স্টোরির সরাসরি প্রতিযোগী ইন্ডিয়ান রুটস্, ক্রাফটস ভিলা, ইন্ডিকালার মতো কোম্পানিগুলি। পাশাপাশি ফ্লিপকার্ট, স্ন্যাপডিলের মতো বড় কোম্পানিগুলি যারা এই ধরণের পণ্য বিক্রি করে, প্রতিযোগিতা তাদের সঙ্গেও। পণ্য ও তার ধরণের দিক থেকে অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম থেকে নিজেদের আলাদা মনে করে দ্য এথনিক স্টোরি। ইন্ডিয়ারুটস ও ক্রাফটসভিলার মতো কোম্পানিগুলি যখন জোর দিচ্ছে পরিধান বিক্রিতে, দ্য এথনিক স্টোরি তাদের মূল পণ্য করতে চায় গৃহসজ্জার উপকরণকে।

(লেখা-তৌসিফ আলম, অনুবাদ-সানন্দা দাশগুপ্ত)