পণ্ডিতদের ঘরে ফেরাতে চায় কাশ্মীরের আওয়াম

0

এই দৃশ্য দেখে কে বলবে একটা সময় এই এলাকা থেকেই প্রাণ হাতে নিয়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ কাশ্মীরি পণ্ডিত। জঙ্গিদের তাড়া খেয়ে দলে দলে পণ্ডিত সম্প্রদায়ের মানুষ মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীরের অংশ থেকে পালিয়ে বেঁচেছিলেন। কত মানুষ যে মারা পড়েছিল তার কোনও সঠিক হিসেবে নেই। সরকারি হিসেব বলছে অত্যাচার করে জঙ্গিরা খুন করেছিল এগারশর বেশি কাশ্মীরি পণ্ডিতকে। ১৯৮৯ সালের শেষের দিকে নিজেদের ভিটে মাটি ফেলে রেখে জম্মুর রাস্তায় ভিখিরি হয়ে গিয়েছিল কাতারে কাতারে কাশ্মীরি পণ্ডিত। কারও কারও আশ্রয় হয়েছিল দিল্লির ক্যাম্পে। সাতাশ বছর পরও সেই ঘা শুকোয়নি। সম্প্রতি কুম্ভ মেলার অছিলায় কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ঘরে ফেরানোর একটা চেষ্টা করল সে রাজ্যের সরকার। ফের উপত্যকায় পা দিয়েই পণ্ডিতরা আতঙ্ক মিশ্রিত নস্টালজিয়ায় ডুব দিলেন।

শ্রীনগর থেকে প্রায় তিরিশ কিলোমিটার দূরে উত্তর কাশ্মীরের সাদিপোড়া এলাকার ঝিলম আর সিন্ধু নদীর সংগমস্থলে আয়োজন হয়েছিল কুম্ভমেলার। হাজার হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত ক্ষীর ভবানীর মেলায় এলেন। কুম্ভমেলায় অংশ নিলেন। পবিত্র তিথিতে নদীতে স্নান সারলেন। এবং নির্দিষ্ট জায়গায় ফিরেও এলেন। গোটাটায় কোথাও কোনও অশান্তির চিহ্ন ছিল না। আর তাই নস্টালজিয়ায় একটা আশার সরু রেখাও আলো ফেলল।

জম্মু ও কাশ্মীরের সরকার পরিবহনের সুবন্দোবস্ত করেছিল। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিয়েছিল উপত্যকা। রাজনৈতিক দল বিজেপিও তাঁবু খাটিয়ে ছিল ঝেলুম নদীর তীরে সাহায্যের জন্যে। টেবিল পেতে রীতিমত হেল্পডেক্স নিয়ে হাজির ছিল অমিত শাহর ক্যাডাররা। স্থানীয় সাধারণ মুসলিম পরিবারের লোকজন অস্থায়ী কিছু দোকান তৈরি করেছিলেন। প্রয়োজনীয় জিনিসের পসরা যেমন ছিল। তেমনি ছিল ফুল, ফল, সবজি, ফলের রস আরও আরও অনেক পণ্য। কাশ্মীরী পণ্ডিতদের নদী পারাপার করার জন্য নৌকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন ওরাই। হাবে ভাবে ওরা বোঝাতে চেয়েছিলেন ওঁরা চান শান্তি।  যদিও অভিনবগুপ্তা যাত্রার আয়োজকদের আর্জি সরকারি ভাবে নাকচ হয়ে যাওয়ায় কাশ্মীরে চাপা উত্তেজনা ছিল। তবু তার মধ্যেও কুম্ভ শান্তিপূর্ণ ভাবেই উদযাপিত হল। সমস্ত রকম রাজনৈতিক দুরভিসন্ধিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে স্থানীয় মুসলিমরা বরাভয় দিতে চাইলেন পণ্ডিতদের। বলতে চাইলেন ফিরে আসুন। কিন্তু কবে কীভাবে ফিরে যাওয়া যাবে তাই নিয়েই নতুন করে ভাবতে বসছেন অস্থায়ী ক্যাম্পে দিন কাটানো লক্ষ লক্ষ কাশ্মীরি হিন্দু পুরোহিত।