প্রত্যাখ্যানই মঞ্চে ফিরিয়েছে মূকাভিনেতা বৈদ্যনাথকে

0

একজন উদ্যোগপতির চেয়ে কোনও অংশে কম লড়াই করতে হয় না একজন শিল্পীকে। প্রত্যাখ্যান আসে। তবু সেই প্রত্যাখ্যানকে অতিক্রম করে একজন শিল্পী ফের উঠে দাঁড়ান। অপমান সহ্য করেও ঘুরে দাঁড়ানোর হিম্মত যার থাকে তাকে রোখা যায় না। এমনই এক মানুষের কাহিনি আজ আমরা শোনাব। ভদ্রলোকটির নাম বৈদ্যনাথ চক্রবর্তী।

অভিনয়টা ভালই রপ্ত ছিল। কিন্তু মঞ্চে উঠে পাঠ ভুলে যেতেন বলে অপবাদ ছিল। কিছুতেই তাঁকে মঞ্চে ওঠার সুযোগ দেওয়া হত না। একসময় বাদই দিয়ে দেওয়া হয়েছিল দল থেকে। কিন্তু অভিনয়ের প্রতি তাঁর টান তাকে ফের মঞ্চে তুলেছে। ফিরিয়ে দিয়েছে সম্মান। নৈহাটির বৈদ্যনাথ বাবু আজ গোটা বাংলার গর্ব।

বৈদ্যনাথ বাবু বলছিলেন তার বাল্যকালের করুণ সেই কাহিনি। তখন ওঁর বয়স ১২ বছর। প্রথম নাটকে আসেন। অভিনয়ে অনেকের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও, সেই ছোট্ট বৈদ্যনাথ সংলাপ মনে রাখতে পারতেন না এই অভিযোগে নাটকের দল থেকে তাঁকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। সেই থেকে তাঁর লড়াই শুরু। শিখলেন মূকাভিনয়। মঞ্চে মঞ্চে ফুটিয়ে তুললেন শরীরী বিভঙ্গের অনবদ্য বিজয়গাঁথা।

৫২টা বছর। একটানা মূকাভিনয় করছেন এই শিল্পী। বয়স এখন ৬৫। কখনও একক, কখনও টিম নিয়ে। দেশে তো বটেই, মনোরঞ্জন করেছেন বিদেশেও। জেদ, অধ্যবসায় আর একাগ্রতার স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাঁকে দেখে সাহস পেয়েছেন আরও অনেক মানুষ। বিশেষ করে যারা মুখথুবড়ে পড়েও ধুলো ঝেরে উঠে দাঁড়াতে চান। স্বপ্ন সফল করতে চান।

যা তিনি পাননি, তাইই দিতে চান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। মাইম কিংবদন্তী যোগেশচন্দ্র তাঁর পথদ্রষ্টা। সেই পথ ধরে মূকাভিনয়ের মতো শিল্পের মাধ্যমকে আরও জনপ্রিয় করে তোলার এক অসম লড়াইয়ে নেমেছেন বৈদ্যনাথ। নিজের দলে বেশি করে টানতে চান ছোটদের। যাতে ছোটবেলা থেকে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে এই শিল্পের সঙ্গে। আরও অনেকটা পথ চলতে হবে মূকাভিনেতা বৈদ্যনাথকে। সঙ্গী পেলে ভালো, একা চলতেও বুক কাঁপবে না, ষাট পেরিয়েও একইরকম জেদ নৈহাটির মূকাভিনেতার। নীরব সংলাপের সেই ঝাঁঝ মঞ্চ দাপাচ্ছে ৫২টি শীত অতিক্রম করেও। বলছিলেন,‘নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছি। অভিনয়টা সহজাত আর খানিকটা অভ্যাস। এই দুইয়ের মিল ঘটাতে পারলেই হয়ে গেল, পেছন ফিরে তাকাতে হবে না, ছোটদের শেখাতে চাই। মঞ্চে তুলে আনতে চাই নতুন প্রতিভা। সেই জন্যই নিজের দল তৈরি করা। আমার দলে কেউ ব্রাত্য নয়’, ভবিষ্যতের পরিকল্পনার কথা জানালেন বৈদ্যনাথ বাবু।