সঠিক বিনিয়োগই আপনাকে পৌঁছে দিতে পারে সাফল্যের শীর্ষে

0

ঠিক কতোটা বিনিয়োগ প্রয়োজন আপনার ব্যাবসার জন্য?

প্রশ্নের উত্তরটা খুব সহজ এবং সাধারণ - ‘এটা নির্ভর করে’।

আর সবথেকে বেশি যে উত্তরটা এই ক্ষেত্রে শোনা যায় তা হল ‘যত বেশি সম্ভব’ – কিন্তু এটা ঠিক উত্তর না বলেই মনে করেন লেখক কে. শ্রীকৃষ্ণা। আর এই মনে না হওয়ার পেছনে খুব যুক্তিসঙ্গত কিছু ব্যাখ্যা আছে। কারণ আপনি যদি দরকারের তুলনায় অনেক বেশি টাকা ঢেলে ফেলেন, তার মানে আপনার কোম্পানী সঠিকভাবে চলছেনা। সেখানে লাভের গুড় হয়তো আপনার চোখের আড়ালে পিঁপড়েই খেয়ে যাচ্ছে। আসলে আপনি যতোটা বিনিয়োগ করতে পরবেন বলে মনে করছেন, হয়তো ততোটা দারকার নেই, আর তার ফলে কিছু বাজে খরচ বেড়ে যাচ্ছে আপনার বিনিয়গের বাড়তি টাকায়। আর অনেক সময়ে দেখা যায় যে একটা সফল ভাবে চলতে থাকা ব্যাবসাও এই বিনিয়োগের ভুল-ত্রুটির কারণে অনেক বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে যায়।

ইদানিং কালের অনেক বাণিজ্যিক পত্রিকার বিভিন্ন রিপোর্টে এটা দেখা গেছে যে, অতিরিক্ত বিনিয়োগ অনেকসময়ে ব্যাবসায় ব্যর্থতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, ঠিক যেমন পূঁজির অভাব একটা ব্যাবসাকে সাফল্যের মুখ দ্যাখাতে পারেনা। যদিও এই পত্রিকাগুলো তে এটাও লেখা থাকে যে মূলধনের অভাবই স্টার্ট-আপস গুলোর উন্নতির পথে সবথেকে বড় অন্তরায় বা বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরাও মোটামুটিভাবে আমার সাথে একমত হবেন নিশ্চই, হতে পারে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে একটু ফারাক থাকতে পারে বা তারা অন্য কোন অ্যাঙ্গেল থেকে ভাবতে চাইবেন, কারণ এরা বেশিরভাগই ভাবনা চিন্তা টা করেন মার্কিন মুলুকের সাথে তাল মিলিয়ে কিন্তু সমস্যাটা খুব প্রাথমিক এবং এটা দেশ, কাল, নির্বিশেষে একিরকম। কিন্তু মার্কিন পুঁজিপতির সেদেশে ব্যাবসা করা আর এদেশে ব্যাবসা করার মধ্যে একটা ফারাক থাকাটাই তো খুব স্বাভাবিক ব্যাপার।

বিনিয়োগের সময় ঠিক কতোটা কোথায় বিনিয়োগ করবেন সেটাই সাফল্যের চাবিকাঠি
বিনিয়োগের সময় ঠিক কতোটা কোথায় বিনিয়োগ করবেন সেটাই সাফল্যের চাবিকাঠি

ব্যাবসার প্রকারভেদঃ

ওয়েব ডিজাইনিং, আই.টি সার্ভিস অথবা বেশিরভাগ কন্সালটিং ব্যাবসাতে কিন্তু বিনিয়োগের ওপর একটা নিয়ন্ত্রণ থাকা খুব জরুরী। অনেক মূলধন অথবা ব্যাবসাকে ভালো করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য খুব বেশি কিছু বিনিয়োগের প্রয়োজন খুব একটা নেই বলেই মনে করেন লেখক। আবার যেমন ক্যুরিয়ার সার্ভিস, রেস্টুরেন্ট, নির্মাণ শিল্প বা উচ্চ প্রযুক্তির মতো কিছু কিছু ব্যাবসাতে এস্তাব্লিশমেন্ত খরচ টা একটা বড় ব্যাপার, তাই এই ধরণের ব্যাবসাতে প্রথমে মূলধন এবং পরবর্তীতে ব্যাবসার প্রসারের জন্য বিনিয়োগ অত্যন্ত জরুরী একটা বিষয়। আসলে ব্যাবসার ধরনটাই নিশ্চিত করে বিনিয়োগের পরিমাপ। অবশ্যই এই দুধরনের মাঝেও অনেক রকম ব্যাবসার সম্ভাবনা আছে কিন্তু সেই সবগুলোতেই সঠিক বিনিয়োগের জায়গা খুঁজে বের করার ফর্মুলাটা মোটামুটি একইরকম।

মূলধনঃ

ব্যাবসা শুরু করার আগে সর্বপ্রথম যে বিষয় টা নিয়ে ভাবা উচিত তা হল মূলধনের যোগানের হদিশ পাওয়া। বর্তমান প্রেক্ষিতে ভারতে যেটা হয় তা হল বন্ধু-বান্ধব, পরিবারের লোকজন বা কিছু ইনভেস্তরের থেকে প্রাথমিকভাবে টাকা নিয়ে কাজ শুরু হয়। বাড়ির ছেলে ব্যাবসা করবে, ভেবে পরিবারের লোকজন টাকা ঢেলে দেয় কিন্তু আমার মতে ব্যাবসার মূলধন জোগাড় করার সবথেকে সহজ এবং ভালো উপায় হল ব্যাঙ্কঋণের দ্বারস্থ হওয়া যদিও ভারতীয় সিনারিওতে এখনও ব্যাঙ্কঋণ নেওয়ার মানসিকতাটা এখনও সেভাবে তৈরি হয়নি। খুব ভালো সুযোগ থাকলেও এখাণকার ব্যাবসায়ীরা এখনও এই অপশন টা বেছে নিতে চায়না সহজে। এছারাও আরো কিছু সুযোগ আছে ব্যাবসার মূলধন জোগাড় করার মতো। আঙ্গেল ক্যাপিটালের মতো আরও অনেক সংস্থা আছে যেখান থেকে ইকুইটি ক্যাপিটালও জোগাড় করা যায়।

ধরেনেওয়া যাক যে আপনার একটা ভালো লাভজনক ব্যাবসা আছে, তাহলে নিচের প্রশ্নগুলোই কিন্তু ঠিক করে দিতে পারে আপনার ব্যাবসার ভবিষ্যৎ। ঠিক করে দিতে পারে আপনি ঠিক কতোটা বিনিয়োগ করলে আপনি খুব ভালো লাভের মুখ দেখতে পাবেন। আসলে একটা গাছকে বড় করে ফুল-ফলে সমৃদ্ধ করতে গেলে যেমন সবার আগে তাকে ভালো করে লালন পালন করা দরকার, ভালো করে জল দেওয়া দরকার, তেমনি ব্যাবসার ক্ষেত্রে মূলধন এবং বিনিয়োগের একটা সঠিক ব্যালেন্স খুব জরুরী তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

• আপনি ঠিক করে সিদ্ধান্ত নিন যে আগামি ১৮ মাসে ঠিক কতোটা বিনিয়োগ আপনি করবেন আপনার ব্যাবসার জন্য।

• আপনি কি এই সময়ের মধ্যে আরও কিছুটা বিনিয়োগ করতে চাইছেন? যদি চান তাহলে কতবার, কত করে বিনিয়োগ করতে চাইছেন?

• প্রথম বারে বা তার পরে বিভিন্ন সময়ে আপনি ঠিক কতোটা টাকা ঢালছেন এবং কি কি খাতে সেগুলো ব্যাবহার করছেন।

মার্কিন শুরুয়াতি ব্যাবসায়ীদের উদ্দেশ্যে এই বিষয়ে ফ্রেড উইলসনের বক্তব্য খুব প্রাসঙ্গিক, যেগুলো ভারতেও প্রযোজ্য। কিছু কিছু বাঁধার সম্মুখীন হলেও বেসিক টা প্রায় সব জায়গাতেই এক রকম।

তিনি বলেন,

• শুরুর দিকে আগামী ১২-১৮ মাসের জন্যই বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।(ভারতীয় প্রেক্ষাপটে এটা কমকরে ১৮ মাসের হওয়া উচিত)

• ১০-২০% এর বেশি কখনই ডাইরেক্ট ইনভেস্ত করা উচিত না। (ভারতে এটা সর্বাধিক ২৫% হতে পারে)

দুটো কথা মাথায় রাখলে খুব কম বিনিয়োগেও বেশ ভালো আয় করা সম্ভব।ভারতীয়দের জন্য একটা থাম্ব রুল হোল -

১। আপনার প্রোডাক্ট কি, আপনার প্রথম ক্রেতা কে বা কারা এবং আপনার ঘরে টাকা আসা শুরু হতে ঠিক কতোটা সময় লাগতে পারে – এই বিষয় গুলো আগেথেকে চিন্তা করে তবে ব্যাবসার কাজ শুরু করা দরকার।

২। আপনি যেদিন বিনিয়োগ করলেন সেদিন থেকে ঠিক কতদিন বাদে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আপনার আয়ের টাকা ঢুকতে শুরু করছে, এটাও একটা হিসাব করে বুঝে নেওয়ার বিষয়।

ভারতীয় উদ্যোগপতিদের জন্য এটা একটা সঠিক পথ প্রদর্শক হতে পারে। লেখক কে. শ্রীকৃষ্ণা এই প্রবন্ধটি প্রথম তার নিজের ব্লগে লিখেছিলেন উদ্যোগপতিদের জন্য। তথ্য সমৃদ্ধ একটি প্রবন্ধ, যা থেকে ছোট থেকে বড় যেকোনো শিল্পই খুব সহজ পথে এগিয়ে যেতে পারে একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে।

অনুবাদঃ নভজিত গাঙ্গুলি