বাঙালি লেখক দুর্জয় হেলায় করিলেন হৃদয় জয়

1
ইংরেজি সাহিত্য এখন ভারতের স্বীকৃত সম্পত্তি। ভারতেরও নিজস্ব ইংরেজি সাহিত্য আছে। তারও ইতিহাস বিশেষ চর্চার বিষয়। সেই ইতিহাসেও ক্লাসিকাল যুগ আছে রোমান্টিক এরা আছে। রানি ভিক্টোরিয়ার প্রভাবও আছে। আর আছে ডলার পাউন্ডের বিশাল বাজার। অরুন্ধতী রায়। উপমণ্যু চ্যাটার্জি। বিক্রম শেঠের পর অমিতাভ ঘোষ, ঝুম্পা লাহিড়ীদের ক্লাবে ঢুকে পড়েছেন বং কানেকশনের আরও এক তরুণ। নাম দুর্জয় দত্ত

দুর্জয় লেখেন চমৎকার। মৌলিক বিষয় প্রেম। প্রেমের ফাটল, চির আর মিলনের উপাখ্যান সহজ সরল ইংরেজিতে বর্ণনা করেন। যারা পড়েন দুর্জয়কে, তাদের বয়সের ঊর্ধ্বসীমা মেরেকেটে চল্লিশ। চেতন ভগতের মত এখনই তত জনপ্রিয় না হলেও ওর ফ্যান ফলোয়ার কোনও ফিল্মস্টারের ফলোইঙের চেয়ে কম নয়। কদিন আগেই কলকাতায় এসেছিলেন। দূর থেকে দেখেছিলাম কীভাবে ভক্তেরা ছেকে ধরেছে ছেলেটিকে।

দিল্লির প্রবাসী বাঙালি দুর্জয় বাংলা জানেন। কিন্তু ইংরেজিই ওর মনের ভাষা। লেখা-পড়া সূত্রে ও সাহিত্যের ছাত্র নন। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই লিখছেন। লিখতে ভালোবাসেন। বলছিলেন নিজের লেখালেখির কথা। একসময় কর্পোরেট দুনিয়ায় চাকরি করেছেন। দেশি বিদেশি নানান সংস্থায়। সিমেনস এবং আমেরিকান এক্সপ্রেসেও কাজ করেছেন। তবে চাকরি করা ওর পোষায়নি। ফলে সব ছেড়ে ছুড়ে ঢুকে পড়েছেন লেখালিখির নিজস্ব দুনিয়ায়। পাশাপাশি প্রকাশনা ব্যবসাতেও। ও এখন পুরোদমে লেখেন। বাণিজ্যিক সাফল্যের নিরিখে এটা ওর পেশা। ফলে এই লেখক উদ্যোগপতির পাবলিকেশন হাউস গ্রেপভাইন ইন্ডিয়ান পাবলিশার তরুণ প্রজন্মের লেখকদের সুযোগ করে দেয়।

লেখার শুরু নিয়ে বলতে গিয়ে বলেন সে অনেক দিন আগের কথা তবে ছাত্রাবস্থাতেই ২০০৮ সালে প্রথম বই ‘আই লাভ ইউ’ প্রকাশিত হয়। আমেরিকান অথরদের মতো এই বইটিতে জুটি বেঁধেছিলেন আরেক তরুণ লেখিকা মানবী আহুজার সঙ্গে। ২৫০০০ কপি বিক্রি হয়েছিল। পরের বছর মানবীর সঙ্গে জুটি বেঁধেই প্রকাশিত হয় ‘আই লাভ ইউ’এর সিকোয়্যাল ‘নাও দ্যাট ইউ আর রিচ’। ২০১০ এ তৃতীয় বই ‘সি ব্রোক আপ আই ডিডন্ট’। চতুর্থ বইটিও নীতা রস্তোগির সঙ্গে জুটি বেঁধে লেখা।‘ইয়েস, আই অ্যাম সিঙ্গল’।

২০১১-য় খুলে ফেলেন গ্রেপভাইন ইন্ডিয়া। নিয়ম করে প্রতি বছর একটি করে বই প্রকাশ করেন দুর্জয়, যার সবকটাই এখনও পর্যন্ত বেস্টসেলার। বেশিরভাগই সিকোয়্যাল। তাই একটা গল্প শেষ করার পর অপেক্ষা থাকে পরের সিরিজের। সর্বশেষ ‘দ্যা বয় হু লাভড’ও এখনও পর্যন্ত দু পর্বে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ‘এই পর্বে গল্পের শেষ হবে পাঠকের জন্য অনেক প্রশ্ন রেখে। ১০ থেকে ১২ সিরিজ করার প্ল্যান ছিল। আপাতত দু পর্বেই থামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বলছিলেন এই তরুণ লেখক। সঙ্গে চলেছে টিভি সিরিয়ালও। ‘সদা হক’, ‘মিলিয়ন ডলার গার্ল’, ‘কুচ রঙ পেয়ার কি অ্যাইসে ভি’, ‘এক বীর কি আদর্শ’ এর মতো জনপ্রিয় সিরিয়ালের স্ক্রিপ্ট লিখেছেন। সুভাষ ঘাইয়ের ছবির স্ক্রিনপ্লে লিখেছেন। গান বেঁধেছেন। বাচ্চাদের জন্যে গল্প লেখার প্ল্যান আছে। তবে সব কথার শেষ কথা দুর্জয় জানেন লেখালিখির সঙ্গে আবেগ যতটা জড়িয়ে থাকে ততটাই বাজারের দাবিদাওয়াও থাকে একই বন্ধনীতে। এটাই ওর সাফল্যের মূল রহস্য।