গ্রামে ই-কমার্সই পাখির চোখ রামানাথনের

0

গ্রামপ্রধান ভারত। শহরে ই-কমার্সের চল থাকলেও গ্রামে ছবিটা এখনও অন্য রকম। সেখানে দাঁত ফোটাতে ফ্লিপকার্ট,অ্যামাজন বা স্ন্যাপডিলের মতো রাঘব বোয়ালদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। অন্যদিকে গ্রামের ক্রেতা ধরতে মরিয়া আই-পে,স্টোর কিং আর ইনথ্রির মতো শুরুয়াতিরা। এরা ভারতের গ্রামে সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করছেন।

বুনবক্স ও ইনথ্রির সদস্যরা
বুনবক্স ও ইনথ্রির সদস্যরা

ইনথ্রির সহযোগী সংস্থা বুনবক্স সদ্য ডানা মেলেছে তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকের কিছু জেলায়। বুনবক্সের চাকায় চড়ে ইনথ্রিও ঢুকে পড়ছে গ্রামের বাজারে। বেড়ে চলেছে নানান দ্রব্যের চাহিদা। কোম্পানির নেটওয়ার্ক ছড়াচ্ছে শহরতলির অলিগলি থেকে প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জে। মানুষের চাহিদা অনুযায়ী দ্রব্যের বন্টন চলছে। কাজ করছেন দুঁদে ব্যবসায়ীর দল।

শুরুর দিনগুলি...

সি.কে.প্রহ্লাদকে আমরা বলি ভারতের Peter Drucker। ডক্টর প্রহ্লাদ মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর আগে একবার ইনথ্রি সংস্থার কর্ণধার আর. রামানাথনের সঙ্গে সাক্ষাত হয়েছিল। প্রহ্লাদের কাছ থেকে ভীষণ অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন রামানাথন। সে সময় রামানাথন RPG, ICICI ও TVS Groups এর সিনিওর ম্যানেজমেন্টে প্রোফিট সেন্টার হেড ছিলেন। 

তিনি বললেন প্রথম দিকে বিনিয়োগ করার মতো যথেষ্ট মূলধন ছিলনা। তাই তাঁরা ফিলিপসে র জন্য ধোঁওয়াহীন উনুন বানান। কীভাবে গ্রামীণ বাজার ধরা যায় সেই বিষয়ে ইউরেকা ফোবস্, নোকিয়া, টাইটান ও হেনজ্ ফাউন্ডেশানের সঙ্গে আলোচনা করেন।

আর . রামানাথন
আর . রামানাথন

২০১১ এর শেষের দিকে তাঁরা তামিলনাড়ুর কয়েকটি পোষ্ট অফিসে সোলার ল্যাম্প বিক্রি করে অভূতপূর্ব সাড়া পান। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা ছড়িয়ে পড়েন কর্ণাটকেও। রামানাথন জানালেন তাঁদের কাজের ধরন বদলাচ্ছে। NGO ও কৃষি বোর্ডগুলিতে তাঁরা সাত লাখের বেশি টেকসই যন্ত্র বিক্রি করেছেন। ইতিমধ্যেই গ্রামের লাখ পাঁচেক ক্রেতাও পেয়েছেন।

ই- কমার্স পাল্টে দিতে পারে গ্রামের জীবনশৈলী

রামানাথন বিশ্বাস করেন নানান ধরনের সামগ্রীর প্রতি গ্রামের মানুষ টান অনুভব করেন। শুধু প্রয়োজন তাঁদের সামনে সঠিকভাবে পণ্য সাজিয়ে বসা। অধিকাংশ বিক্রেতা শহুরে ক্রেতার চাহিদার কথা মাথায় রেখে ব্যবসা করেন। তাই তাঁরা গ্রামের ক্রেতার চাহিদাকে সম্মান করে অভিনবত্ব এনেছেন। আর এটাই ওদের ইউ এস পি। 

বণিকদের সঙ্গে বুনবক্স...

গ্রামের বাজারে ব্যবসায়ীরা যাতে তাঁদের পায়ের তলার জমি শক্ত করতে পারে এমন এক মঞ্চ তৈরি করেছে বুনবক্স। মানুষের মনে জিনিষের জন্য চাহিদা বাড়ানো এঁদের কাজ। বাকিটা ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব। আজ ইনথ্রি ঢুকে গেছে অন্ধ্রের বাজারেও।কারখানায় তৈরি জিনিষ ক্রেতার বাড়ি পৌঁছয় এঁদের সাইটে দেওয়া ওর্ডারের মাধ্যমে। তার আগে তাঁরা সামগ্রীর মান ও প্যাকিং পরীক্ষা করে নেন।

আয় এবং লাভ

সোলার ল্যাম্প,ওয়াটার পিউরিফায়ার বিক্রি করে গত বছরগুলিতে লাভের মুখ দেখেছে সংস্থা। ২০১৪-য় তাঁরা ইন্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল নেটওয়ার্কের কাছ থেকে ফান্ড সংগ্রহ করেছেন। ৫০ কোটির বেশি সামগ্রিক বিপণন মূল্যের সামগ্রী (Gross Marchendise Value) নিয়ে এগিয়ে চলা রামানাথনের ইনথ্রির বর্তমান লাভের অঙ্ক ২ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে।

সামনে চ্যালেঞ্জ !

এখনও বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রেতাকে ন্যায্য মূল্যে জিনিষ দেওয়া একটা বড় চ্যালেঞ্জ। তাছাড়াও ক্রেডিট কার্ড,ইনটারনেট, যোগাযোগ মাধ্যম এসব সমস্যা তো রয়েইছে। রামানাথন আমাদের জানিয়েছেন, ৪০ জনের এই সংস্থা আগামী বছরই ১০০ জনকে কাজ দিতে পারবে। সমস্যা অতিক্রম করে বুনবক্স নেতৃত্ব দেবে গ্রামীণ ই-কমার্সের ভবিষ্যতকে। তাঁরা তাদের সামগ্রীর ধরন বাড়াবেন। শাখা বিস্তার করবেন উত্তর ভারতেও। অন্তত এমনই স্বপ্ন দেখেন রামানাথন।

Has a heart to communicate...loves music, writing, painting and meeting people. Teacher of English literature, proudly calls herself an activist in Bengal's StartUp movement.

Related Stories