আজও ঘোষগ্রামে কড়িই গেরস্থের ‘লক্ষ্মী’

0

শুধু কড়ি। নানা রঙের। নানা আকারের। যত রকম কড়ি হতে পারে সব মিলবে কড়ির মেলায়। মযূরেশ্বরের কড়ির মেলা। তিনশো বছরের পুরনো। আর পাঁচটা মেলার মতই। তবে মানুষ এখানে ভিড় জমান কড়ি কিনতে। জনশ্রুতি আছে, লক্ষ্মীগ্রাম থেকে আনা কড়ি রাখলে ঘরে লক্ষ্মী আসেন। আর এই জনশ্রুতি আজও ঘোষগ্রামের অচল কড়িকে সচল রাখে অর্থের বিনিময়ে।

গ্রামের মানুষ বলেন পৌষমাস নাকি লক্ষ্মীমাস। আর ময়ূরেশ্বরের ঘোষগ্রামের পরচিতি লক্ষ্মীগ্রাম হিসেবে। গ্রামের ঘরে ঘরে পূজিত হন লক্ষ্মী। কথিত আছে স্বপ্নাদেশ পেয়ে বহু বছর আগে কাঁদর থেকে শ্বেত পদ্ম আর কাঠের খণ্ড তুলে এনে তার ওপর গঙ্গামাটি দিয়ে ধনদেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। পৌষমাসের প্রথম বৃহস্পতিবার ঘোষগ্রামের লক্ষ্মীপুজোকে কেন্দ্র করে শুধু বীরভূম নয়, প্রতিবেশী মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান থেকে আসা হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান। গ্রামের কৃষকরা লক্ষ্মীর ভোগের জন্য নিয়ে আসেন নতুন ধান। আর জনসমাগমকে কেন্দ্র করে বসে মেলা। আর পাঁচটা মেলার থেকে ঘোষগ্রামের এই মেলার একটা পার্থক্য রয়েছে। যারা আসেন তাদের একটাই লক্ষ্য, বাড়ি ফেরার সময় অন্তত একটা কড়ি নিয়ে যেতেই হবে। সেই কড়ি বাড়িতে থাকলে নাকি গৃহস্থের ঝাঁপি বাড়ন্ত হয় না কখনও।

মানুষের এই বিশ্বাসে ভর করে মেলায় কড়ির ব্যবসার রমরমা। শ্বেতকড়ি, ফুলকড়ি, তেলকড়ি, বুজকড়ি আরও কত কী। হরেক রঙের, হরেক আকারের কড়ির সম্ভার দেখা যায় এই মেলায়। কড়ি ব্যবসায়ীরা বছরভর অপেক্ষায় থাকেন এই মেলার। কড়ি বিক্রেতা সাধন দাস বলেন, ‘সারা বছরে কটা কড়ি আর বিক্রি হয়। নানা মেলায় নিয়ে যাই। বেড়ানোর জায়গুলির আশেপাশে স্টল দিই। তবে সব করে, নানা জায়গায় ঘুরে যা বিক্রি তার দ্বিগুন কড়ি বিক্রি হয় এই মেলায়। লাভও ভালই। নিজেদের সেরা কড়ি নিয়ে এসে বিক্র করি এখানে’। মন্দির কমিটির সেবাইত গুরুস্মরণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কড়িই তো ছিল বিনিময়ের মাধ্যম। কড়ি দিয়েই কেনাবেচা হত। এখন অবশ্য কড়ি অবলুপ্ত হয়েছে। তবে কড়ির ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে আজও এই মেলার আয়োজন করা হচ্ছে’।