বেঙ্গালুরুতে IKP-EDEN-এর হার্ডওয়্যার ইনকিউবেটর

0

(এই প্রবন্ধ ইয়োর স্টোরির স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম সিরিজ থেকে নেওয়া)

IKP Knowledge Park-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট বিক্রমন সারাইয়ান। বেঙ্গালুরুর কোরামাঙ্গলাতে গড়ে ওঠা IKP-EDEN, যা ইনকিউবেটর হিসাবে কাজ করে, সেই সংস্থার COO-র দায়িত্বেও রয়েছেন বিক্রমন। এর আগে তিনি যুক্ত ছিলেন Strand Life Sciences-র সঙ্গে। আইআইটি মাদ্রাজ ও ফুকুয়া স্কুল অব বিজনেস, ডিউক ইউনিভার্সিটির ডিগ্রি রয়েছে তাঁর। IKP-EDEN গড়ে তোলা, ভারতে স্টার্টআপ, সুযোগ, সম্ভাবনা বিভিন্ন বিষয়ে একান্ত সাক্ষাৎকার দিলেন ইয়োর স্টোরিকে।


ইয়োর স্টোরি -IKP-EDEN গড়ে তোলার লক্ষ্য কী ছিল?

ভি এস -হায়দরাবাদে নথিবদ্ধ IKP Knowledge Park (IKP)-এর একটা উদ্যোগ IKP-EDEN™. আমাদের লক্ষ্য হল একটা ইনোভেশন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা। EDEN-এর পুরোটা হল Engineering Design and Entrepreneurship Network. বেঙ্গালুরুতেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় স্টার্টআপ, আন্ত্রেপ্রেনার থাকায় এই শহরকে আমরা বেছে নিয়েছি। শহরে বেশ কয়েকটি সফ্‌টওয়্যার ইনকিউবেটরস থাকলেও, খুব কম সংখ্যকই হার্ডওয়্যার প্রোডাক্ট কোম্পানিকে সহায়তা করে থাকে। আমরা পরবর্তী প্রজন্মের সম্ভাব্য আন্ত্রেপ্রেনারদের একটা পাইপলাইন গড়ে তোলার আশা রাখি। সে কারণেই IKP-EDEN™ তৈরি করা হয়েছে।

২০০ একর এলাকা নিয়ে IKP-র হায়দরাবাদ ক্যাম্পাস। সেখানে রয়েছে পঞ্চাশটির মতো কোম্পানি, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিন হাজার বিজ্ঞানী। হায়দরাবাদ ক্যাম্পাস লাভজনক ভিত্তিতেই চলছে। সেকশন ২৫ নট-ফর-প্রফিট সংস্থা হিসাবে IKP তার লাভের অংশ ফের লগ্নি করে বাণিজ্যিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলে। বেঙ্গালুরুর IKP-EDEN™-কে সেই সহায়তাই করছে IKP Hyderabad.


ইয়োর স্টোরি -এখনও পর্যন্ত কোন কোন কোম্পানি এখানে জায়গা পেয়েছে?

ভি এস - বহু সংস্থাই এখানে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে Skylark Drones, Jiva Life Sciences, Yostra Labs, Greendzine Technologies, DropKaffe Food and Beverages, Sarvadev 3D Printing Consulting Services, BendFlex R&D.

ইয়োর স্টোরি -IKP-EDEN-এর নেতৃত্বে কারা রয়েছেন?

ভি এস -বিভিন্ন শাখার উচ্চ-শিক্ষিত ও দক্ষতাসম্পন্ন একটা টিম গড়ে উঠেছে এখানে। আপনাকে এক এক করে নামগুলো বলছি। ICICI Bank-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও বোর্ড মেম্বার এন. ভাগুল। Bay Area-তে চিফ মেন্টর ও সিরিয়াল আন্ত্রেপ্রেনারের দায়িত্বে থাকা বালা মনিয়ান। এম. কে. খান ভারত সরকারের ডিপার্টমেন্ট অব বায়োটেকনোলজির প্রাক্তন সেক্রেটারি। রয়েছেন শরদ শর্মা। তিনি IKP-র বোর্ড মেম্বারও বটে। একসময় তিনি Yahoo India-র CTO এবং AT&T India-র CEO ছিলেন। IKP Knowledge Park-এর Chairman ও CEO দীপান্বিতা চট্টোপাধ্যায়। আইআইটি মাদ্রাজ থেকে ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আইআইএম রাঁচি থেকে পাবলিক পলিসিতে ডিগ্রিধারী ভিনীত পুন্নোস। রণজিৎ সেন স্টার্টআপ মেন্টর এবং ex-VP of Shantha Biotech (এখন Sanofi Pasteur)। এছাড়াও রয়েছেন রাজেশ রাই, তিনি একজন অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর এবং ex-CEO at India Innovation Fund.

ইয়োর স্টোরি -ভারতীয় স্টার্টআপের জন্য সেরা সুযোগগুলো কী বলে মনে করেন?

ভি এস -হার্ডওয়্যার ক্ষেত্রে কনজিউমার ইলেকট্রনিকস, হেল্‌থ কেয়ার, ট্রান্সপোর্টেশন ও ওয়াস্ট ম্যানেজমেন্ট।

ইয়োর স্টোরি -ভারতীয় স্টার্টআপের জন্য মূল চ্যালেঞ্জগুলি কী কী?

ভি এস - আমরা যেহেতু হার্ডওয়্যার স্টার্টআপে বিশেষ নজর দিয়েছি, সেক্ষেত্রে বলা যায় উদ্যোগ শুরুর মুখে জরুরি কিছু জিনিসের সুযোগ না পাওয়া। যেমন পরামর্শদাতা বা মেন্টর। লগ্নির জন্য অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর। শুরুর দিকে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট। প্রথম দিকের পণ্য উৎপাদন।

ইয়োর স্টোরি -IKP-EDEN-এ স্টার্টআপের সিলেকশন কীভাবে হয়?

ভি এস - হার্ডওয়্যারে প্রোডাক্টে ইনকিউবিটর হিসাবে কাজ করে IKP-EDEN. উভয় পক্ষ যেখানে একসঙ্গে এবং একই মার্কেটে কাজ করবে। ইনকিউবিশন প্রোগ্যামে স্টার্টআপকে নেওয়ার জন্য আমাদের বাছাই পদ্ধতি রয়েছে। প্রতি মাসে একটা টেকনিক্যাল অ্যাডভাইসরি গ্রুপ স্টার্টআপ প্রস্তাব খতিয়ে দেখে। ইনকিউবেশনের জন্য কোনও স্টার্টআপ উপযু্ক্ত কি না তার সিদ্ধান্ত সেখানে হয়। যে সব স্টার্টআপ বাছাই হয় তাদের প্রোডাক্ট প্রোটোটাইপ ও বিজনেস প্ল্যান তৈরি করতে সহায়তা করা হয়। এরপর ইনকিউবেশন প্রোগ্যামে তা তাদের প্রয়োগ করতে বলা হয়।


ইয়োর স্টোরি -কী ধরনের সহায়তা পায় স্টার্টআপগুলি?

ভি এস -স্টার্টআপের জন্য প্রাথমিক ফান্ডিং ও ইনকিউবিশনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে আইকেপি'র। বেঙ্গালুরু তো বটেই সম্ভবত ভারতেও অন্যতম সেরা কর্মশালা রয়েছে আমাদের। তরুণদের প্রশিক্ষণের জন্য আমাদের খুবই শক্তিশালী একটা নিজস্ব টিম রয়েছে। যেখানে কাজে লাগান হয় আমাদের ল্যাব ইক্যুইপমেন্ট।

ইয়োর স্টোরি -আপনাদের স্টার্টআপগুলি কী ধরনের IP (মেধাস্বত্ত্ব) তৈরি করে থাকে?

ভি এস -কিছু কোম্পানির পেটেন্ট থাকে, আবার কিছু কোম্পানির থাকে ট্রেড সিক্রেট। যেহেতু আমরা হার্ডওয়্যার প্রোডাক্ট ইনকিউবেটর, সেহেতু একটা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় IP প্রোটেকশন দেওয়া হয়।


ইয়োর স্টোরি -একই ক্ষেত্রে কাজ করা অন্য ইনকিউবেটরগুলির থেকে IKP-EDEN-কে কীভাবে আলাদা?

ভি এস - হার্ডওয়্যারে আমাদের দক্ষতা এবং নিজস্ব কর্মশালা (মেকারস্পেস), এই দুটিই আমাদের আসল পুঁজি। আমাদের খুব শক্তিশালী একটা টিমও রয়েছে। আগামী দিনের আন্ত্রেপ্রেনারদের তৈরি করতে আমরা স্কুল-কলেজে ছাত্রছাত্রীদের ওয়ার্কশপ ও ট্রেনিং দিয়ে থাকি।

ইয়োর স্টোরি -আপনাদের পার্টনার কারা? তাদের সঙ্গে কীভাবে কাজ করেন?

ভি এস -আমাদের অনেক পার্টনার যেমন IBM, Amazon, Becton Dickinson, Medtronic, Bosch, PubNub, Bill and Melinda Gates Foundation, USAID, DFID, ICRC (রেড ক্রশ), Department of Science and Technology, the Department of Biotechnology এবং অবশ্যই Government of India. স্থানীয়স্তরে আমাদের পার্টনার Workbench ও IoTBLR. যুগ্মভাবে আমরা বিভিন্ন ইভেন্টের আয়োজন করে থাকি HeadStart, IoTBLR, Random Hacks of Kindness, Makerfest-র সঙ্গে।

ইয়োর স্টোরি - কী করলে IKP-EDEN সফল হয়েছে বলে মনে করবেন?

ভি এস -স্বল্পমেয়াদি সাফল্যের জায়গা থেকে ধরলে বলব এমন একটা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা যেখানে ৫০-৬০ টি স্টার্টআপ থাকবে। যারা পরস্পরকে সহযোগিতা করবে। আর আমাদের জায়গা থেকে বলব যে তাদের জন্য ফান্ডিং, উৎপাদন ও ডিস্ট্রিবিউশনের চ্যানেল করে দেওয়া। ভারতীয় প্রেক্ষাপটে স্বনির্ভরশীল ইনকিউবেটর কিন্তু খুব একটা দেখা যায় না।

মিড-টার্ম সাকশেস হবে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে তিন-চারটি হার্ডওয়্যার স্টার্টআপকে একই ব্র্যাকেটের মধ্যে নিয়ে আসা।

আর IKP-EDEN™ -এর কাছে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য হবে এ ধরনের বেশ কয়েকটি সেন্টার গড়ে তোলা। অন্যভাবে বললে হার্ডওয়্যার ক্ষেত্রে ভারতকে একটা শক্তিশালী (সম্ভব হলে প্রথম তিনের মধ্যে) দেশ হিসাবে গড়ে তোলা।

ইয়োর স্টোরি -মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের ইনকিউবেটরের সঙ্গে ভারতের ইনকিউবেটরগুলির কীভাবে তুলনা করবেন?

ভি এস -আমেরিকা ও চিনের ইনকিউবেটরগুলির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার জন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। তবে একটা জিনিস আমাদের মাথায় রাখতে হবে। আমরা অনেক পরে শুরু করছি। ফলে তারা অনেক এগিয়ে গিয়েছে।

একটা ইনকিউবেটর তখনই সফল হবে যখন তার একটা উপযুক্ত ইকোসিস্টেম থাকবে। বেঙ্গালুরুর সেই সম্ভাবনা থাকার জন্যই আমাদের প্রথম সেন্টার এখানে গড়ে তুলেছি।

ইয়োর স্টোরি -নতুন স্টার্টআপগুলির জন্য আগামী দিনে আপনাদের পরিকল্পনা কী?

ভি এস -আমরা সবেমাত্র বেঙ্গালুরুতে সেট আপ গড়েছি। প্রথম দফার ক্রেতাদের থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। যা আমাদের কাছে খুবই পজিটিভ একটা ব্যাপার। এরপর আমরা মেন্টরশিপ, ফান্ড তোলা, ম্যানুফ্যাকচারিং ও ডিস্ট্রিবিউশনের কাজ শুরু করব। আমাদের খুবই ভালো একটা পরামর্শদাতা বিভাগ রয়েছে। অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমরা এগোতে থাকব।

ইয়োর স্টোরি - ভারতে ইনকিউবেটরস, ইনভেস্টর, রিসার্চার ও স্টার্টআপগুলি যাতে সহজে কাজ করতে পারে সেজন্য নীতি-নির্ধারক নেতা-মন্ত্রীদের কাছে কী সুপারিশ করবেন?

ভি এস - ভারতে এক জানালা ব্যবস্থার (single-window system) কথা শোনা যায়। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে বলতে পারি আমাকে বিভিন্ন দফতরে আলাদা ভাবে আবেদন করতে হয়েছে। কখনও কখনও এজেন্সিগুলি পৃথক হলে ভালোই হয়। আবার কখনও তার সঙ্গে তাল মেলান কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আমি আশা করব এই ধরনের আমলাতন্ত্র খুব তাড়াতাড়ি শেষ হবে। মেধাস্বত্ত্ব খুবই জরুরি একটা বিষয়। একটা ছোট সংস্থা কখনই তার থেকে বড় সংস্থার সঙ্গে লড়াইয়ে টিকে থাকতে পারবে না। কেননা সেইসব বৃহৎ সংস্থা আইনগত ব্যাপার সামলানোর জন্য লিগাম টিম রাখতে পারে।

ইয়োর স্টোরি -আমাদের সাইটে চোখ রাখা স্টার্টআপ সংস্থা ও আন্ত্রেপ্রেনারদের কী পরামর্শ দেবেন?

ভি এস -নিজের শক্তি ও সীমাবদ্ধতা জানা। সেই ধরনের কো-ফাউন্ডার খুঁজে বের করা যে আপনার শক্তি ও দুর্বলতাকে তুলে ধরতে পারবে। বন্ধুবান্ধব, সম্ভাব্য ক্রেতা, মেন্টর, পরামর্শদাতা এবং যাদের আপনি চেনেন না তাদের থেকেও নিয়মিত ফিডব্যাক নেওয়া। আর সবথেকে মূল্যবান হল সময়। একে কখনই অবহেলা করবেন না। সবসময় সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে চলুন। নিজস্ব সার্কেলে বিশ্বাসযোগ্য মেন্টরদের সঙ্গে কথা বলুন। তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিন। শেষে জরুরি একটা কথা, যদি প্রথমবারেই ব্যর্থ হন বা বারবার ব্যর্থ হন, তাতেও নিরাশ হবেন না বা ভয় পাবেন না।

লেখা - মদনমোহন রাও