আবর্জনা দিয়ে উইন্ডমিল বানালেন নিরক্ষর চাষী

0

পরিবেশবিদ থেকে শুরু করে বৈজ্ঞানিক সবাই যখন বিকল্প বিদ্যুৎ নিয়ে হিমসিম খাচ্ছেন তখন ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়ে উইন্ডমিল বানিয়ে ফেললেন একজন গ্রামের চাষী। সবাইকে তাক লাগিয়ে দিল কর্ণাটকের গাদাগ জেলার ছোট্টো গ্রাম নারগুন্ড। সিদ্দাপ্পা হুলাযোগী সেই গ্রামেরই কৃষক। স্কুলে যাননি কোনও দিন। নিয়ম করে বর্ণমালাও জানেন না এই কৃষক। কিন্তু নিজের বুদ্ধির ওপর ভরসা তাঁর চিরদিনের। একবার কী হল। বাড়ির জন্যে পর্ষদের কাছে বিদ্যুৎ চেয়েছিলেন সিদ্দাপ্পা। কিন্তু পর্ষদ তাঁকে বিদ্যুৎ দিতে মানা করে দেয়। চিন্তায় পড়ে যান সিদ্দাপ্পা। আকাশ পাতাল ভাবেন কিভাবে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করবেন? একদিন চোখে পড়ল তাঁর চাষের জমির কাছে বেসরকারী পাওয়ার সাপ্লাই কোম্পানিগুলি উইন্ডমিল বসাচ্ছে। মগজে আইডিয়া বাল্ব জ্বলে গেল।

স্থির করলেন নিজেই বানাবেন নিজের বিদ্যুৎ। ফেলে দেওয়া জিনিসপত্র দিয়ে বানিয়ে ফেললেন উইন্ডমিল। তাঁর বানানো সেই বাতচক্র একসাথে ১০টি ৬০ ওয়াটের বাল্ব এবং দুটি টিভি চালানোর ক্ষমতা রাখে। তাঁর খামারবাড়ি এবং একটি জল তোলার পাম্প চালানোর মতো প্রয়োজনীয় শক্তির জোগান দেয়। উইন্ডমিল থেকে উৎপন্ন বিদ্যুৎতাঁরা বাড়িতে ব্যবহার করেন। তাঁর ভাইয়ের বাড়িতেও তিনি এভাবে বিদ্যুৎ পাঠান।

নিজেই উইন্ডমিলের ডিজাইন করেছেন। পাখাগুলো টিনের। কাঠ আর তামার তার দিয়ে তৈরি করেছেন প্রপেলার। এটি থেকে উৎপন্ন শক্তি একটি ব্যাটারি বাক্সে জমা করেন সিদ্দাপ্পা। ব্যাটারি যুক্ত করেছেন ইনভারটারের সঙ্গে। ইনভারটার DC ইলেক্ট্রিসিটি কে গৃহকর্মে ব্যবহার যোগ্য AC ইলেক্ট্রিসিটিতে বদল করার কারুকার্যও করেছেন নিজে নিজেই। সবই তাঁর দেখে দেখে শেখা। আর আদিম সেই ট্রায়াল অ্যান্ড এরর মেথড। তিনি ক্রমাগত তাঁর ওই যন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে তোলার চেষ্টা করে চলেছেন। সিদ্দাপ্পার কাণ্ড দেখে তাজ্জব বিদ্যুৎ পর্ষদ। রোজ লোক আসছে তার বানানো স্বাধীন বিদ্যুতের কারসাজি দেখতে। সিদ্দাপ্পা এখন গ্রামের রোল মডেল।

অনুলেখক- এষা গোস্বামী

Related Stories