নিরন্নের অন্নদাতা গ্লো টাইড

কী বিরাট বৈষম্য এই পৃথিবীতে। বিজ্ঞানের পতাকা উড়িয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলো যতই এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে নিরন্ন মানুষের সংখ্যা। এক শ্রেণির মানুষ আয়েশ করে দিন কাটাচ্ছেন আর এক দল এক বেলা পর্যন্ত ভাত পাচ্ছেন না। সমীক্ষা দেখলে আঁতকে উঠতে হয়। বলা হচ্ছে, বিশ্বের ৯৮ শতাংশ ক্ষুধার্ত মানুষের বাস এই উন্নয়নশীল দেশেই। ভারত গুটিগুটি পায়ে ঢুকে পড়েছে এই তালিকায়। এ দেশের ২১ কোটি মানুষ এখন এক বেলাও খেতে পান না। বিজ্ঞান এগোচ্ছে। কৃষিতে এগোচ্ছে ভারত। তবুও কেন এত বৈষম্য? শুধুই কী আর্থ-সামাজিক অবস্থা এর জন্য দায়ী? নাকি রয়েছে রাজনৈতিক কারণও? প্রতিদিন বাড়ছে দারিদ্রতা। হোটেল, রেস্তোঁরায় নষ্ট হচ্ছে খাবার। অথচ এ দেশের ২১ কোটি মানুষের পাতে ভাত জোটে না রোজ।

0
নিরন্নদের খাবার বিতরণ
নিরন্নদের খাবার বিতরণ

বিয়েবাড়ির এলাহি আয়োজনের পর খাবার ফেলে দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও সেই উচ্ছিষ্টে রীতিমতো পাহাড়ের চেহারা নিয়েছে। ক্যান্টিন, হোটেল, রেস্তোঁরার খাবার ফলে দেওয়া হচ্ছে ডাস্টবিনে। প্রতিদিন এভাবে যে খাবার অযথা নষ্ট করা হচ্ছে তাতে দিব্যি শত শত মা্নুষের পেট ভরে যায়। মুস্তাফা হাসমি এমনই এক ঘটনার সাক্ষী হয়েছিলেন এক দিন। ‘আমি একটা স্যান্ডউইচ কিনতে গেলাম। দেথলাম নিকাশি নালা থেকে জল পান করছেন একজন। আমি চমকে গেলাম। জানলাম মানুষটা ১৪ দিন কিছুই খাননি। এমনকি এক গ্লাস পানীয় জল পর্যন্ত নয়। সেই ঘটনা আমার চোখ খুলে দিয়েছিল’, বলছেন মুস্তাফা।


টিম গ্লো টাইড
টিম গ্লো টাইড

মুস্তাফা হাসমি ভিআইএফ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র। নিকাশি নালা থেকে ওই জলপানের দৃশ্য তাঁকে নাড়া দিয়ে গিয়েছিল। ভাবলেন কিছু একটা করতেই হবে। তৈরি করলেন গ্লো টাইড। ঘুরতে লাগলেন হোটেল, রেস্তোঁরা, রাজনৈতিক সংস্থার ক্যান্টিন, অনুষ্ঠানবাড়িতে। বাড়তি খাবার জোগাড় করে প্রতিদিন খাওয়াতে লাগলেন ক্ষুধার্ত ও গৃহহীনদের। তাতেই প্রতিদিন ১২৫-১৫০ জন মানুষের মুখে ভাত তুলে দিলেন তিনি। কিন্তু একার পক্ষে এই কাজ কী সম্ভব? সুস্তাফার সঙ্গে যোগ দিলেন আরও ৬ জন। তৈরি হল গ্লো টাইড টিম। তারপর শুরু হল ঝাঁপিয়ে পড়া। অদম্য ইচ্ছে আর নেশায় বুঁদ হয়ে আরও রেস্তোঁরার খোঁজ করলেন হাসিমরা। মানবতার টানে সেই যে পথ চলা শুরু হল তাতে যোগ দিলেন আরও অনেক স্বেচ্ছাসেবক। হোটেল, রেস্তোঁরা, ক্যান্টিনে গিয়ে খাবার জোগাড় হতে লাগল। কিন্তু তা তো তুলে দিতে হবে নিরন্ন মানুষের মুখে? তাহলে উপায়। জোগাড় করা হল ব্যক্তিগত যান। ভাড়া করা হল অটো রিক্সা। আরও স্বেচ্ছাসেবক যোগ দিলেন। মানুষের মুখে উঠল অন্তত একবেলার পেট ভরা ভাত। থেমে থাকল না গ্লো টাইড। এমন উদ্যোগ দেখে বেশ কিছু এনজিও তাদের সঙ্গে যোগ দিল। গৃহহীনরা পেলেন আশ্রয়। ‘ওয়ান কয়েন ডোনেশন’ প্রচার শুরু হল। এই যে বিশাল যজ্ঞ তা চালাতে গেলে টাকা চাই। হাসিম বলছেন, লক্ষ্যপূরণ করতে চাই মনোবল। মাসে অন্তত ২০ হাজার মানুষের মুখ ভাত তুলে দিতে পারবেন, এই লক্ষ্যেই তাঁরা ‌এগিয়ে চলেছেন। আগামী তিন বছর এটাই তাঁদের লক্ষ্য।