রাজা শশাঙ্কের প্রিয় শিল্প এখন বিপর্যয়ের মুখে

1

ইতিহাসের খেয়াল কজন রাখেন! সচেতনতার অভাব আর ঐতিহ্যের প্রতি উদাসীনতাই শিকরহীন করে দেয় একটি সমাজকে। কাঠালিয়ার পোড়ামাটির শিল্পের কথা অনেকেরই জানা নেই। সম্রাট শশাঙ্কের আমল থেকে এই শিল্প চলে আসছে। গোটা বাংলার ঐতিহ্যের চিহ্ন গুলির মধ্যে এই পোড়ামাটির শিল্প অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি। কিন্তু অবহেলা আর উদাসীনতায় হারিয়েই যাচ্ছিল এই শিল্প। মুর্শিদাবাদের কাঠালিয়ার পোড়ামাটির কাজ। এবং সেই কাজের গুণগত ঐতিহ্য আঁকড়ে আজও বেঁচে আছেন কয়েক ঘর শিল্পী। সরকারি উদ্যোগে সম্প্রতি হারিয়ে যেতে যেতেও ফিরে এসেছে কাঠালিয়ার স্থাপত্য। কলকাতার লোকগ্রামে সেসব মাটির কাজ একটু একটু করে ইতিহাসকে জাগিয়ে তুলছে।

সপ্তদশ শতকের মধ্যভাগ। বাংলার প্রাণকেন্দ্র মুর্শিদাবাদ তখন শক্তিতে অপ্রতিরোধ্য, সংস্কৃতিতে উজ্জ্বল। রাজধানী কর্ণসূবর্ণকে ঢেলে সাজিয়েছেন দৌর্দণ্ড প্রতাপ রাজা শশাঙ্ক। শক্তি বৃদ্ধি এবং সীমানা বৃদ্ধির প্রতি তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন তেমনি জোর দিয়েছেন ঘরের তৈরি পোড়মাটির স্থাপত্যে। কর্ণসূবর্ণের অধিকাংশ বাড়িতেই তখন মাটির তৈরি বাসনপত্র, প্রদীপ, গেরস্থালির সরঞ্জামের ব্যবহার হত। কেউ কেউ পুতুলও তৈরি করতেন। মাথায় প্রদীপ রাখা পুতুল। সাদা, লাল, কালো পুতুলগুলো খানিকটা সময়ের ঐতিহ্য বয়ে চলেছে।।

শশাঙ্কের আমল গেছে। তখনকার কর্ণসূবর্ণও আজ অনাদরে পড়ে আছে। কিন্তু তবু আছেন কেউ কেউ। মুর্শিদাবাদের কাঠালিয়ার ১৬৫ টি মৃৎশিল্পী পরিবার। ‘বাপঠাকুরদার শেখানো বিদ্যের উপযুক্ত প্রয়োগ আজও হচ্ছে। তবে তার প্রচার নেই? কজনই বা জানেন কাঠালিয়ার পুতুলের কথা? পুতুল বানিয়ে আর বাজারে, মেলায় বেচে যা আয় তাতে আর সংসার চলে না। ছেলেমেয়েরা বাপ-ঠাকুরদার পেশায় আসতে চাইছে না। বেশি রোজগারের আশায় তাদের মনও শহরমুখী। অভাব অনটনের যন্ত্রণা সয়ে আর কত দিনই বা চলবে! ওরা তাই পালিয়ে যাচ্ছে’, আক্ষেপ এক শিল্পী সাধন পালের।

সম্প্রতি সরকারি উদ্যোগে প্রচারের মুখ দেখেছে এই শিল্পীরা। সরকারি উদ্যোগে নানা মেলার আয়োজন হচ্ছে। বেসরকারি মেলাও প্রচুর। নিজেদের পসরা সাজিয়ে বসছেন সেখানে। বিক্রিবাটা নেহাৎ খারাপ হচ্ছে না। কিন্তু ওদের প্রয়োজন আরও সহযোগিতা। আরও বড় বাজার। প্রয়োজন ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের এই শিল্পের প্রতি সাধারণ মানুষের আরও বেশি সচেতনতা। এবং আরও সরকারি নজরই পারে এদের জীবনকে থিতু করতে।