"যুদ্ধ এলে ভেঙে যাবে ফান্ডিং ইকোসিস্টেম"- টিসিএম সুন্দরম

1

অ্যাঞ্জেল এবং ভিসি ফান্ডিংয়ের পরিবেশ নিয়ে পূর্বাঞ্চলের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের প্রায় সকলেই চিন্তিত। ক্যালকাটা অ্যাঞ্জেলস নেটওয়ার্কের বার্ষিক স্টার্টআপ কনফারেন্স স্টার্টআপ ইস্টেও ঘুরে ফিরে এলো সেই উদ্বেগের সুর। গোদের ওপর বিষফোঁড়া সীমান্তে চড়তে থাকা উত্তেজনার পারদ। সেই পারদ যত চড়ছে ততই বিনিয়োগের পরিযায়ী পাখিরা উড়ে যাচ্ছে ভারতের মাটি ছেড়ে। যুদ্ধের দামামার সঙ্গে বিনিয়োগের দীর্ঘদিনের একটা বিপরীত সম্পর্ক আছে। সেকথা ঠারে ঠোরে বলেই ফেললেন আইডিজি ভেঞ্চারসের কর্ণধার টিসিএম সুন্দরম।

আর যদি সেই সম্ভাবনা না থাকে তাহলে ভারত এগোচ্ছে দুর্দান্ত গতিতে।

মার্কিন মুলুকের থেকেও কোনও কোনও ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে দেশ। চিন এক অদ্ভুত স্যাচুরেশনের দিকে চলে গেছে। ফলে অগ্রগতির ট্র্যাকে অ্যাডভান্টেজ পাবে ভারত। সেদিক থেকে এখনও গ্রিনফিল্ড। এখনও ভার্জিন। সুজলা, সুফলা, শস্য, শ্যামলা শান্তির নীড়, নানা জাতি নানা ভাষা নানা পরিধানের বিবিধের মাঝে এই মহান মিলনের দেশ। ২০২১-২২ এ গিয়ে সেখানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৭০০ মিলিয়ন। মানে ৭০ কোটি। তাদের মধ্যে ৫০ কোটির হাতে থাকবে কম করে ফোর জি স্মার্টফোন। একটা সময় ছিল যখন মার্কিন মডেলের ব্যবসাকেই ধ্রুবতারা মেনে ভারতে ব্যবসা হত। এখন চিনের মডেলকেও অনুসরণ করার হিড়িক উঠেছে। কিন্তু যে গতিতে এগোচ্ছে দেশ তাতে যেটুকু সম্ভাবনা রয়েছে সেই সব বিবেচনা করে সুন্দরম মনে করেন আগামীর ভারত হবে গোটা বিশ্বের মডেল। আরও লোকাল এবং হাইপার লোকাল ব্যবসা বাড়বে। ইন্টারনেটে বাড়বে আঞ্চলিক ভাষার প্রাধান্য।

দশ বছর আগের পরিস্থিতি আজ আর নেই। এখন গোটা দেশে সিড ফান্ড ইকোসিস্টেম তৈরি হয়ে গিয়েছে। অ্যাঞ্জেল গ্রুপগুলির নেটওয়ার্কও মন্দ নয়। ভিসিরাও বিনিয়োগে উৎসাহ পাচ্ছেন। 

গোটা দেশের মানচিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলেও কলকাতার সংস্থাগুলি বাইরের বিনিয়োগকারীদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। এবং বিনিয়োগ পেতে শুরুও করে দিয়েছেন। আর পাঁচ বছর পর ২০২১-২২ এর মধ্যে পরিস্থিতি আরও ভালো হবে। এই ভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা করার পুঁজি নিয়ে এত কাল ঘাম ছোটাতে হবে না। সেই পরিবর্তনের আভাস দিলেন টিসিএম সুন্দরম। তবে ক্যালকাটা অ্যাঞ্জেলসের মঞ্চে দাঁড়িয়ে গোটা বিনিয়োগ ইকোসিস্টেমের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটি বলেও গেলেন, ভারত পাকিস্তান এই দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র যদি যুদ্ধের রাস্তায় হাঁটে তবে স্বাভাবিকভাবেই পিছিয়ে আসবে বিনিয়োগ। ব্যহত হবে ফান্ডিং ইকোসিস্টেম। ফলে যুদ্ধের সম্ভাবনা যেমন দেখতে শুরু করেছে একদল মানুষ তেমনি স্টার্টআপ সংস্থাগুলির পক্ষে যে সেটা অশনি সংকেত সেই আভাসও এলো ক্যালকাটা নেটওয়ার্কের স্টার্টআপ ইস্টে।