Reliance Jio নিয়ে যে ৫টি বিষয় আপনি জানতেন না

4

রিলায়েন্সের জিও নিয়ে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে মুকেশ আম্বানি যুগ যুগ জিও স্লোগান। কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি আনুষ্ঠানিকভাবে Reliance Jio-র লঞ্চ ঘোষণা করেছেন। তারপর থেকেই জিও নিয়ে মেতে উঠেছে দেশ। কম দামে ফোর জি সার্ভিস পাবে গরিব গুরবোর ভারত। রিলায়েন্স ডিজিটালের স্টোরে পেল্লাই লাইন দিতে শুরু করে দিয়েছে ছা পোষা, মধ্যবিত্ত। দিওয়ালির আগে আম্বানির দিওয়ালি বোনাস বলে কথা। টানা তিনমাস ফ্রিতে কথা বলা মেসেজ করা আর প্রায় ফ্রিতে ফোর জি ইন্টারনেট করার এমন অফার আগে কখনও পায়নি ভারত। থুরি এমন বলা ধম্মে সইবে না। কারণ এক দশক আগে যখন রিলায়েন্স বাজারে সিডিএমএ ফোন এনেছিল তখনও এরকমই প্লাবন দেখেছিল দেশ। বোঝা গেল বিনে পয়সার মূল্য বোঝেন মুকেশ। অনেক গুলো প্রশ্নও তুলে দিয়েছে এই অফার। প্রথমত আপনার ফোনটি এই সেবা দেওয়ার জন্যে তৈরি তো! কিংবা কীভাবে পাওয়া যাবে এই সার্ভিস। একটু ঘাঁটলেই জেনে যাবেন এসব উত্তর।

কিন্তু এবার একটু দেখে নেব রিলায়েন্স জিও নিয়ে যে কথা গুলো এখনও খুব বেশি লোক বলছে না, সেগুলি।

1) কমবয়েসী অ্যান্ত্রেপ্রেনিওরদের সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ

Reliance Jio কমবয়েসী অ্যান্ত্রেপ্রেনিওর আর নতুন সংস্থাগুলোকে তাদের প্ল্যাটফর্মের সুবিধা নেবার রাস্তা খুলে দিচ্ছে। এতে যে শুধু তাদের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে তাই নয়, স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপের ক্ষেত্রেও অনেক সুবিধা হবে।

2) Jio-কে IBSL নামে ডাকা হত

২০১০ সালের জুনে Infotel Broadband Services Limited (IBSL)-এর 4G নিলামে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রি ৯৬ শতাংশ শেয়ার কিনেছিল। তালিকাভুক্ত না হয়েও তাদের মূল্য ছিল ৪,৮০০ কোটি টাকা। তারাই ছিল একমাত্র কোম্পানি যারা ভারতের ২২টি বলয়ে ছড়িয়ে দিয়েছিল ব্রডব্যান্ড স্পেকট্রাম। তারা রিলায়েন্সের টেলিকম সাবসিডিয়ারি হিসেবে কাজ শুরু করে। পরে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে নাম হয় Reliance Jio Infocomm Limited।

3) Jio সার্ভিস ২০১৫-র শেষের দিকে চালু হওয়ার কথা ছিল

প্রথমে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রি তাদের Jio সার্ভিস ২০১৫-র শেষের দিকে চালু করতে চায়। কিন্তু শুধু বেটা লঞ্চ করতেই সমর্থ হয়। ২৭শে ডিসেম্বর নভি মুম্বাইয়ে এই বেটা লঞ্চের ধামাকা শুরুয়াত করেন শাহরুখ খান। Jio সংস্থার কর্মচারী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করতেন এই পরিষেবা। অনেক ভুলভ্রান্তি শুধরে এবার আমজনতার নাগালে এল Jio।

4) তরুণ প্রজন্মের মেধা Jio সংস্থায়

Jio-র জাহাজে রয়েছে ৬০,০০০ যুবা কর্মী যাঁদের গড় বয়স ত্রিশের মধ্যে। তরুণ প্রজন্মের মেধাকে ডাটা সার্ভিসের উন্নতির কাজে ব্যবহার করতে পেরে এই সংস্থা গর্বিত।

5) Voice Over LTE (VoLTE) ফিচারসহ 4G এনাবেলড হ্যান্ডসেট আসছে বাজারে

আমরা সকলেই জানি রিলায়েন্স LTE মানে Long Term Evolution প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। তবে সব স্মার্টফোন এই পরিষেবা দিতে পারবে না। ২০১৫-র জুনে RIL হাত মিলিয়েছে Intex-এর সঙ্গে। আরও ভালোভাবে যাতে Jio ব্যবহার করা সম্ভব হয় তাই Voice Over LTE (VoLTE) ফিচারসহ 4G এনাবেলড হ্যান্ডসেট দেবে এই সংস্থা। LYF ব্র্যান্ডনেমের আওতায় রিলায়েন্সের নিজস্ব হ্যান্ডসেট লঞ্চের সাক্ষী ছিল ২০১৬-র জানুয়ারি মাস। এখন অবধি বাজারে এসেছে Water 1, Water 2, Earth 1 and Flame 1 মডেল।

আমরা যেখানে অধীর আগ্রহে দিন গুণছি যে সব ডাটা সমস্যার সমাধান করে Jio যেন ভারতের বাজার ছেয়ে ফেলে, সেখানে আমরা Jio নিয়ে আপনার প্রত্যাশা জানতেও উৎসুক। আপনাদের মূল্যবান মতামত শেয়ার করুন ইওরস্টোরির সঙ্গে।