My Child App, দিশা দেখাল হর্ষ

ডিসলেক্সিয়া নিয়ে সিনেমা হয়েছে। কিন্তু সচেতনতা সেভাবে এখনও বাড়েনি। আপনার সন্তানের আর্লি লার্নিং ডিসঅর্ডার আছে কিনা সেটা বুঝতে এবং সেই অসুবিধে কাটাবার প্রক্রিয়া কী হতে পারে তা নিয়েই  একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বানিয়ে ফেলেছেন এই অসুবিধেয় ভুক্তভোগী এক কিশোর। নাম হর্ষ সোঙ্গরা।

0

আর পাঁচজন ছাত্রছাত্রী স্কুলে যা পারছে, কেউ-কেউ তা পারছে না। কেউ ঠিকঠাক বুঝতে পারছে না। কেউ লিখে প্রকাশ করতে পারছে না। কারোর আবার কথাবার্তায় অসংলগ্নতা রয়েছে। বেড়ে ওঠার বয়সে কোথাও যেন একটা ঘাটতি রয়েছে। যা অন্যদের থেকে পিছিয়ে দিচ্ছে একাংশকে। উদ্বিগ্ন বাবা-মা বুঝেই উঠতে পারছেন না সমস্যাটা কোথায়। দেখা গিয়েছে ভারতে যত ছাত্রছাত্রী রয়েছে তার ১৩ থেকে ১৪ শতাংশই লার্নিং ডিসেবিলিটি বা শিক্ষাগ্রহণগত অক্ষমতার শিকার। সাম্প্রতিককালে অবশ্য সচেতনতা অনেকটাই বেড়েছে। আগামী প্রজন্মকে কীভাবে এর থেকে রক্ষা করা যায় তা নিয়ে একটা চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে গেলে অনেকটা পথ যেতে হবে আমাদের।

আর্লি লার্নিং ডিসঅর্ডার বা প্রাথমিক পর্যায়ে শেখার অস্বাভাবিকতা। ব্যাপারটা ঠিক কী বা কীভাবে সচেতনতা বাড়ানো যায় তা নিয়ে আমাদের ধারণা খুবই সীমাবদ্ধ। ঠিক এই জায়গা থেকে হর্ষ সোঙ্গরা সিদ্ধান্ত নেন একটি অ্যাপ তৈরির, My Child App, যা বাবা মায়েদের সন্তানের লার্নিং ডিসঅর্ডার বা অন্যরকম অস্বাভাবিকতা থাকলে তা নির্ধারণে সহায়তা করবে।

পড়াশোনায় খুব খারাপ না হলেও ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় একটি বিষয়ে কম নম্বর পান হর্ষ। ডাক পড়ে অভিভাবকদের। পাশে দাঁড়ানোর বদলে উপহাস করা হয় হর্ষকে। এমনকী হর্ষকে প্রতিবন্ধীদের স্কুলে ভর্তির পরামর্শও দেওয়া হয়। এই ঘটনায় ভেঙে পড়েন হর্ষের বাবা-মা। এই ঘটনা নাড়া দিয়ে যায় হর্ষকে। বড় হয়ে সে এমন কিছু করবে যাতে যে কোনও বাবা-মা তাঁদের সন্তানদের মধ্যে কোনও অস্বাভাবিকতা থাকলে তা খুঁজে বের করতে পারবেন। সেই বয়সেই সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেলে হর্ষ। প্রযুক্তির মধ্যেই যে সমাধান লুকিয়ে রয়েছে তা উপলব্ধি করে ষোলোতে পা দেওয়ার আগেই অ্যান্ড্রয়েড প্রোগ্র্যামিং শিখে নেয় হর্ষ। ব্যাপারটা নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে শেষপর্যন্ত অ্যাপটা বানিয়েই ফেলে সে। হর্ষর কথায়, "এই অ্যাপের মাধ্যমে যে ডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডার নির্ধারণ করতে ৪৫ সেকেন্ড লাগে, তা আমার ক্ষেত্রে জানতে বাবা-মায়ের লেগে গিয়েছিল ৯ বছর।"

কীভাবে কাজ করে এই অ্যাপ?

ব্যাপারটা খুবই সহজ। বাবা-মায়ের থেকে সন্তানের ব্যাপারে কিছু তথ্য নেওয়া হয়। বয়স, উচ্চতা, ওজন ইত্যাদি। সঙ্গে হ্যাঁ বা না-বাচক আরও কিছু প্রশ্নের উত্তর। সেইসব উত্তর বিশ্লেষণ করা হয়। কোনও শিশুর ক্ষেত্রে উদ্বেগের কোনও জায়গা থাকলে তা তখনই তার বাবা-মা'কে জানিয়ে দেওয়া হয়। কীভাবে এই সমাধান করা যায় বা কোন পথে চলা উচিত তাও বাতলে দেওয়া হয়।

দিনটা বেছে নেওয়া হয়েছিল ২৬ জানুয়ারি। ২০১৫ সালের ওই দিনেই প্লে স্টোরগুলিতে জায়গা করে নেয় My Child App. এখনও পর্যন্ত ওই অ্যাপ ডাউনলোড হয়েছে প্রায় হাজারখানেক। Facebook Start Bootstrap Programme-এও নির্বাচিত হয়েছে অ্যাপটি। মিলেছে ২৫ হাজার ডলার অনলাইন ক্রেডিট।

সব বাবা-মাই চান তাঁদের সন্তান সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠুক। কিন্তু বাস্তব বলছে সবসময় সেটা হয় না। অকূল পাথারে পড়েন দিশাহারা বাবা-মা। হর্ষ মনে করেন, এই অ্যাপের মাধ্যমে বাবা-মা অন্তত এটুকু বুঝতে পারবেন তাঁদের কী করা উচিত বা করা উচিত নয়। ফলে ভবিষ্যতের রোডম্যাপটা তখনই ঠিক করে নেওয়া যায়। তবে এখানেই থেমে যাওয়া নয়। ভবিষ্যতে বিষয়টাকে আর একটু এগিয়ে নিয়ে যেতে চান হর্ষ। এই ধরনের বাবা-মায়েদের নিয়ে একটা কমিউনিটিও গড়ে তুলতে চায় সে। সেই অ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসক বা অন্য অভিভাবকদের সঙ্গে কোনও সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন তাঁরা।

Related Stories