কলকাতার হৃদয়ের খোঁজ রাখে Cacophony

0

কেউ কেউ বলেন কলকাতা নাকি ঝিমিয়ে পড়ছে। বয়স বাড়ছে শহরের। শহরের মানুষের। আর কেমন যেন নিষ্প্রাণ নিষ্প্রভ। এই শহরটা দিনে দিনে নির্বোধ বেরসিক দুর্বৃত্তদের হাতে চলে যাচ্ছে। শিল্প নেই। সাহিত্য নেই। শান্তি নেই। চাকরি নেই। ভবিষ্যত অন্ধকার। কিন্তু এই সমস্ত হতাশ স্বরকে ভেঙচি কেটে কলকাতাকে খুঁজে পাবেন কলকাতাতেই। কী সেই প্রাণ ভোমরা? কারা এই শহরটাকে প্রাণ চঞ্চল করে রেখেছে। সে খোঁজ করতে করতে দেখা হল অঙ্কিতার সঙ্গে। সেন্ট জেভিয়ার্সের ছাত্রী অঙ্কিতা চক্রবর্তী। ও কলকাতার die hard fan! কলকাতা বলতে ও একটা শহর বোঝে না। বোঝে একটা জ্যান্ত অনুভুতি। ওদের হাতেই শহরের আসলি জীয়ন কাঠি। ও আর ওর বন্ধু ঋষি রাজ ঘোষ খুলে ফেলেছে একটা ফেসবুক পেজের কমিউনিটি। কলকাতার প্রেমে যারা মশগুল তাদের নিয়ে তৈরি হয়েছে এই দল। যাঁরা মনে কারেন শহরটা এখনও তলিয়ে যায়নি। যাঁরা এখনও কলকাতার ভালো মন্দে প্রতিক্রিয়া দেন। এখনও সমস্বরে প্রতিবাদ করতে সাহস পান। ফিস ফিস করে কথা বলেন না। মনের কথা ওরা সোশ্যাল মিডিয়ার ওয়ালে ফলাও করে তুলে ধরেন। আর কলকাতার মুখ রাজনীতি দুর্নীতির কালো ছায়ায় যখন ঢাকা পড়ে যায় তখন ওরাই ওদের প্রাণ শক্তি দিয়ে, স্বচ্ছ সাবলীলতা দিয়ে ঘসে মেজে সাফ করে দেন। ওরা Calcutta Cacophony... কলকাতার তরুণ প্রজন্মের ঠেক মারার সোশ্যাল মিডিয়ার পেজ শুধু নয়। ক্যালকাটা ক্যাকোফোনি শহরের সৃজনশীল ছেলেমেয়েদের এমন একটা স্বর যা আড়াই লক্ষ মানুষের কাছে প্রতি সপ্তাহে পৌঁছবার ক্ষমতা রাখে। ১৩ হাজার মানুষ ওদের পাশে থাকেন সব সময়। প্রতিদিন প্রতিটি পোস্টে ভুঁড়ি ভুঁড়ি কমেন্ট পরে। ওঁরা কী বলছেন তা দিয়েই তৈরি হয় এই শহরের তরুণ প্রজন্মের জনমত। এই দল কোনও রাজনৈতিক দল নয়। প্রেম, আবেগ, সাহিত্য, সংস্কৃতির ভীতে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি দল। মূল ভিত্তি সৃজনশীলতাই।

কিন্তু কবে কিভাবে গড়ে উঠল Calcutta Cacophony? প্রশ্নটা মাথার ভিতর ঘুরপাক খাচ্ছিল। জিজ্ঞেস করতেই অনাবিল অঙ্কিতা গল গল করে বলতে শুরু করলেন। সেন্ট জেভিয়ার্সের এই ছাত্রীর সবে প্রথম বছর। স্যোশিওলজি অনার্স। ক্যাকোফোনির বয়সও এক। ২০১৪ সালে প্রথম শুরু হয় ক্যাকোফোনির যাত্রা। ইনস্টাগ্রামে। ক্যালকাটা ক্যাকোফোনি আদপে কি বুঝিয়ে ওঠার আগেই ৪মাসে ওদের ফলোয়ারের সংখ্যা পৌঁছায় প্রায় ২০ হাজার। সেই উৎসাহেই এপ্রিল, ২০১৫ সালে ওদের ফেসবুক পেজ শুরু। সেখানেও ফলোয়ারের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩৫ হাজার। কলকাতা নিয়ে নিজের ভাবনা প্রকাশ করতে যেকেউ জয়েন করতে পারবেন ওদের ফেসবুক পেজে। ভাগ করে নিতে পারবেন কলকাতাকে নিয়ে বানানো কবিতা, গান ও নানা আড্ডার মুহূর্ত। 

অঙ্কিতা নিজে নৌটাঙ্কি কোম্পানি বলে একটি নাটক দলের সঙ্গে যুক্ত। ঋষি সেখানে অভিনয় করেন। ঋষি রাজ ঘোষ। ওর কথা আগেও বলেছি। ও আইটিসি হোটেলে শিক্ষানবিশ।  ওদের দুইজনের সবচেয়ে বড় সাফল্য বলতে ওরা ছিল ২০১৫ সালের কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার ইন্সটাগ্রাম স্পনসর। সেই শুরু। কলকাতা বইমেলার সাতদিনে চূড়ান্ত সাফল্য পেয়েছেন। তার পর একের পর এক ইভেন্ট করেছেন ওরা। কোনও কোনও ইভেন্টে সহযোগী হিসেব যুক্ত থেকেছেন। গান, নাটক, কবিতা, আড্ডা, ইনস্টলেশন আর্ট, কিছুই বাদ যায়নি। জাবোৎসব ২০১৬-য় দ্য নৌটাঙ্কি নাইটসের মূল চালিকা শক্তিই ছিল অঙ্কিতা-ঋষির এই উদ্যোগ। প্রচারের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন স্মরণিক ব্যানার্জি আর ওদেরই বন্ধু অংশুমান ঝুনঝুনওয়ালা। ইতিমধ্যে গাঁটছরা বেঁধেছেন The Nautanki Company, Folk Mantra, Khowabnama, HumanFOX, Economy Decoded এবং Kolkata Bloggers এর সঙ্গে। খুব সম্প্রতি ট্রাম টেল নামে একটি ইভেন্টের প্ল্যানিং পাকা। কলকাতার হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস কলকাতার ট্রামের নস্টালজিয়া নিয়ে একটা অভূতপূর্ব ইভেন্টের প্ল্যান করে ফেলেছেন ঋষি-অঙ্কিতারা।

সবে তো এক বছর। এর মধ্যেই ৩৪ হাজার পেরিয়ে গিয়েছে ওদের পেজের লাইক। ঠিকঠাক চললে গোটা কলকাতার সৃজনশীল সবমানুষকেই পাশে পাবেন ওরা। অঙ্কিতা বলছিলেন, কলকাতাকে কেন্দ্র করে আরও অনেক কবিতা,গান,নাটক লেখার ইচ্ছা রয়েছে। নানা জায়গায় আরও ইভেন্ট, আড্ডা সেশন করতে চাই। কথা শেষে ওদের ফেসবুক পেজে নজর পরে লেখা ‘Kolkata is a city, Calcutta is an emotion’। 

---

Read More
যেন হাজার বছর ধরেই হাঁটবেন কলকাতার স্ট্রিট ফটোগ্রাফাররা
কলকাতায় প্রোগ্রামিং সংস্কৃতি আনতে অনুরাগের CodeBlix
কলকাতায় 'ব্যবসার বাস্তুতন্ত্র' তৈরি করে দিতে চায় KSA