উপযুক্ত কর্মী খুঁজে দেয় PiQube

0

আড্ডা, কফি অথবা পানীয়ের আসরেই সম্ভবত সবচেয়ে বেশি স্টার্টআপের জন্ম। PiQube ও তার ব্যতিক্রম নয়। জয়দেব মহালিঙ্গমও আরেক স্টার্টআপ কর্নধারের সঙ্গে পানীয়র আড্ডায় বসেছিলেন। তিনিই বলছিলেন, রিক্রুটমেন্ট কনসালটেন্টদের সঙ্গে কাজ করার চাইতে তাদের বিরুদ্ধে কাজ করে ভালো ফল পেয়েছেন। ওই সময় জয়দেব নিজের স্টার্টআপ নিয়ে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন। স্টার্টআপের সবে প্রথম বছর। সাত মাস মাইনে না পেয়েও লেগেছিলেন কর্মীরা। ‘বন্ধুর নতুন পরামর্শে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ‘উবের ফর রিক্রুটমেন্ট কনসালটেন্ট’ নিয়ে আসি যার পেছনে ছিল আমাদের জটিল মেশিন লার্নিং অ্যালগোরিদম এবং মানুষকে বোঝার নেটওয়ার্ক। এরফলে সংস্থার ইনবক্সে যা প্রোফাইল রয়েছে তার মান নিশ্চিত করা যায়’, বলেন জয়দেব।

এখন PiQube হল মেধার সমন্বয় ঘটানোর একটি মঞ্চ, যা ডাটা সায়েন্স এবং মানুষের মেধার সহাবস্থান তৈরি করে। যে মেধা ইতিমধ্যে সংস্থায় রয়েছে বা যে মেধা দরকার তার ওপর বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে। এটা একধরনের হায়ারিং টুল (চাকরি দেওয়ার উপায়)। এর মাধ্যমে শুধু সামাজিক অবস্থানই বিচার করা যায় না, নতুন চাকরির ক্ষেত্র তৈরি করে, কোনও চাকরির জন্য চাকরি প্রার্থীর প্রোফাইল দেখা যায়, তার থেকে সীমিত সংখ্যককে বেছে নেওয়া সম্ভব হয়, যারা অকৃতকার্য হয় তাদের বাতিল করে দেওয়া, ইন্টারভিউর সময় স্থির করা, চাকরিপ্রার্থী যাচাই, এমনকী সঠিক প্রার্থীকে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া সম্ভব হয়। PiQube এর ৩০০ রিক্রুটমেন্ট কনসালটেন্ট নেটওয়ার্ক রয়েছে। এবং এফিসিয়েন্সি লেভেল ১:৮ বলে দাবি করে যা বর্তমান যে কোনও কলসালটেন্সির দ্বিগুন প্রায়। ঠিক কর্মী বাছাই করা আধুনিক সংস্থাগুলির জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ। কারণ তারা জানে না কীভাবে নিজেদের ট্যালেন্ট সার্চ প্রসেসের মাধ্যমে দক্ষতার সমন্বয় ঘটাবে, ডোমেন এক্সপারটাইজ এবং মন জয় করে নেবে এমন ব্যক্তিত্ব খুঁজে বের করবে। PiQube এর লক্ষ্য হল, কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সবরকম অবিশ্বাস সরিয়ে দেওয়া। তার জন্য প্রয়োজন নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মানুষ বিচার করার দক্ষতা।

জয়দেব মনে করেন, ভারতে এবং সারা বিশ্বে এইচআর টেক স্পেসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় চলছে। তিনি জানান, প্রোডাকটিভ অ্যানলিটিকস, বিগ ডাটা এবং ক্লাউডের মাধ্যমে নিয়োগ সংক্রান্ত নানা সমস্যা মেটান। তবে আমাদের দেশে চালু এই ব্যবস্থাগুলি কোনওটাই সম্পূর্ণ নয়। তাঁর দাবি, PiQube এমনভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সামলায় যার ফলে রেজিউমের কড়কড়ে শব্দ, স্প্রেডশিট, একগাদা কাগজপত্রের কাজ এবং সময় নষ্ট হওয়ার কোনও জায়গা থাকে না। ‘সবে ২৫ জন গ্রাহকের ল্যান্ডমার্ক পেরিয়েছি আমরা। ১৭টি সংস্থায় আমাদের পজিশনিং ৫৫র কাছাকাছি। তিনশোর বেশি রিক্রুটমেন্ট কনসালটেন্সির বোর্ডে রয়েছি’, বলেন জয়দেব।

কোনও সংস্থা PiQube এ কোনও পদ পোস্ট করা হলে, এটি কমপ্লেক্স স্কোরিং সিস্টেমের মাধ্যমে দেখে নেয় কারা উপযুক্ত। কনসালটেন্ট এরপর কাজশুরু করে এবং সিস্টেমে প্রোফাইল আপলোড করতে থাকে। ইন্টারনাল অ্যলগোরিদম প্রোফাইল দেখে নিয়ে দক্ষতা, ডোমেন এবং ব্যক্তিত্বের ওপর নম্বর দেয়। এসএমই অথবা এইচআর-রা প্রোফাইলে চোখ বুলিয়ে নেয়। যদি ৩ জনের মধ্যে দুজন ক্রিনার প্রোফাইল অ্যাপ্রুভ করে দেয় তাহলে সেটা সংস্থার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। একটা বাটন ক্লিকেই ইন্টারভিউ ফিক্স হয়ে যায়। ক্যালেন্ডার ইনভাইটিস হায়ারিং ম্যানেজার এবং চাকরিপ্রার্থীর কাছে চলে যায়। ফাইনাল অ্যাকসেপটেন্সও পোস্ট করে দেওয়া হয়।

জয়দেব একাই সংস্থার ভিত গড়েছেন। এয়ারক্রাফট উইং ডিজাইন এবং রিক্রুটমেন্টে পারদর্শী জয়দেব বলেন, তিনি অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছেন। কো-ফাউন্ডার না থাকায় সুবিধাও হয়েছে। কোর টিম নিয়ে যা চেয়েছেন তাই করেছেন। রাজেশ্বর রাজারত্নম PiQube এর টেকনিক্যাল হেড। তিনি হলেন প্রাক্তন PayPal এবং আর্কিটেকচারেও অভিজ্ঞতা রয়েছে। জগদীশ নটরাজন প্রোডাক্ট হেড, কাজ করতেন অ্যামজনে। প্রভা রাজাগোপালন সংস্থা যাতে নির্বিঘ্নে চলে তা নিশ্চিত করেন। ১০ জন থেকে সংস্থার কর্মী সংখ্যা এখন আড়াইশো জন।

সংস্থা ইতিমধ্যে ৫ লক্ষ ডলার সংগ্রহ করেছে ৫০-৬০ জন এইচআরের একটি সংস্থা এইচআর ফান্ড থেকে। শিগগিরই PiQube এর অ্যানরয়েড এবং আইফোন অ্যাপ লঞ্চ হবে।