ভবিষ্যৎ দেখায় বিজনেস ব্রাইও

0

ধরুন আপনার একটা খুচরো বিপণী সংস্থা রয়েছে। তার যত আউটলেট রয়েছে তাতে মাসে কত দুধের প্যাকেট, কত পাউরুটি, চাল, ডাল, মসলা এবং অন্য সব পণ্য লাগবে তার একটা হিসেব করতে চান। খুব বেশি মাথা না ঘামিয়ে আপনি ব্যবসায় মন দিন। কারণ, আপনার সংস্থার গত কয়েক বছরের ডাটার ভিত্তিতে নির্ঝঞ্জাটে আপনার এই কাজ করে দেবে বিজনেস ব্রায়ো-একটি সিআইআই এবং নেসকমের সদস্য সংস্থা, যারা মার্কেট রিসার্চ, সংস্থা চালানোর খরচ এবং পর্যালোচনা করে থাকে। শুধু বড় বড় রিটেল সংস্থা নয়, দেশে এবং বিদেশের টেলিকম জায়েন্ট, মাস ট্রান্সপোর্টেশন অর্থাৎ রেলওয়ে, বিমান এই সব সংস্থাও যদি এমন কোনও পূর্বাভাস পেতে চায়-যেমন ওয়েটিং লিস্টে থাকা টিকিট কতগুলি নিশ্চিত হতে পারে সেই হিসেব পেতে চাইলে বিজনেস ব্রায়োর সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর এক বাঙালি উদ্যোক্তা, নাম গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশ্লেষক হিসেবে ঝুলিতে ১৭ বছরের অভিজ্ঞতা। এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রদেশ, পূর্ব আফ্রিকা এবং অষ্ট্রেলিয়ার নানা সংস্থায় কখনও ব্যবস্থাপনা, কখনও সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বাঙালি এই তরুণ উদ্যোক্তা। শুধু নিজের সংস্থাই নয়, গৌতম একাধারে এনালিস্টিকস অ্যান্ড ডাটা সায়েন্স কাউন্সিল অব ন্যাসকম ইস্টের চেয়ারম্যান, সিআইআই-এর আইসিটিই সাবকমিটির সদস্য এবং ডাটা সায়েন্স ফাউন্ডেশন নামের একটি অলাভজনক সংস্থার প্রেসিডেন্টও। নিজের ভেঞ্চার শুরুর আগে ফিডেলিটি ম্যনেজমেন্ট রিসার্চের ক্লায়েন্টের পোর্টফোলিও চালাতেন যার মধ্যে ৫টি ফরচুন ফিফটি সংস্থাও ছিল। আর এই সব কাজের প্রশংসার স্মারক হিসেবে পেয়েছেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০১০ এবং ফিডেলিটিতে ২০১১য় রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পান। অ্যাকসেনচিউর এ নানা পদে কাজ করেছেন। কখনও জেনারেল ম্যানেজার, কখনও কাজ করেছেন অপারেশনাল একসেলেন্স ফর গ্লোবাল ডেলিভারি সেন্টার নেটওয়ার্কে।

অমরাবতী ইউনিভার্সিটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় বিআইটিএস পিলানি থেকে সফটওয়ার সিস্টেমে এমএস গৌতম আইআইএম বেঙ্গালুরু থেকে ম্যানেজমেন্ট করেছেন। ইন্ডিয়ান স্টাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউট বেঙ্গালুরুর লিন এবং সিক্স সিগমায় মাস্টার ব্ল্যাক বেল্ট পেয়েছেন। তাছাড়া মোটোরোলা ইউনিভার্সিটি ইউএস-এর সিক্স সিগমা ব্ল্যাক বেল্ট অনুমোদন রয়েছে তাঁর।

২০১৩য়র অগস্টে চলা শুরু হয় বিজনেস ব্রাইওর। গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গত দু বছরে বিজনেস ব্রাইও শুধু কর্পোরেট সেক্টরের নামী ক্লায়েন্ট নয়, সরকারি সংস্থার সঙ্গেও কাজ করেছে। যার স্বীকৃতি হিসেবে ন্যাসকম এনালিস্টিক অ্যাওয়ার্ড ২০১৫ এবং এনগেজ ২০১৫ ইভেন্টে বেস্ট প্র্যাকটিস অ্যাওয়ার্ড ইন অ্যানালিস্টিকস ইন্ডাস্ট্রিও লাভ করেছে। সামাজিক উন্নয়নে ডেটা সায়েন্সের অবদানের ওপর কাজ করে বিজনেস ব্রাইও ন্যাশনাল পিআর ডে অ্যাওয়ার্ড পায়। ডাটা সায়েন্সের জগতে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৪ সালে ন্যাসকমের ২৫ বছরে সংস্থার প্রেসিডেন্ট আর চন্দ্রশেখর গৌতমকে সংবর্ধিত করেন।

শুধু দেশে নয়, কিছুদিন আগে মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু ক্লায়েন্টের কাজও করেছে বিজনেস ব্রাইও। শুরু থেকে বাজারে কোনও ঋণ নেই এই সংস্থার। প্রথম অফিস কলকাতার রাসবিহারিতে। এবার দিল্লি এবং সিঙ্গাপুরেও শাখা অফিস খোলা হয়েছে।

ডাটা সায়েন্স ফাউন্ডেশন নামে একটা অলাভজনক সংস্থাও চালান গৌতম। তিনি জানান, ‘গবেষণা এবং উদ্ভাবনের জন্য মঞ্চ তৈরি করে দেওয়াই এই ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য। অ্যানালিস্টিক সংস্থাগুলির মধ্যে সহযোগিতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে ডিএসএফ ’। গত দু বছর ধরে কলকাতায় ন্যাসকমের সহযোগিতায় ইন্টারন্যাশনাল ডাটা সায়েন্স সামিট করছে ডিএসফ। এই বছর ডিএসএফ ডাটা এস্ট্রোনাট নামে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করে। বিশ্বে প্রথম ডাটা সায়েন্স ইন্টারনেট রেডিও চালু করেছে ডাটা সায়েন্স ফাউন্ডেশন।