যেসব আশ্চর্যময়ীর কাহিনি ষোলোয় আলো দিল

1

নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে কতদূর পর্যন্ত আত্মত্যাগ করত হয় কিংবা কী ধরনে্র বাধাবিপত্তির ভিতর যেতে হয় মেয়েদের – তারই এক-একজন নজির বর্তমানে এ দেশের কয়েক জন শীর্ষস্থানীয়া মহিলা উদ্যোগী। নিজের নিজের সংস্থাকে কেন্দ্র করে কীভাবে ওঁরা গড়ে তুলেছেন নিজেদের সাম্রাজ্য সেও এক শিক্ষণীয় বিষয়। বাধাবিপত্তি রুখতে পারেনি ওঁদের কাউকেই। উপরন্তু ওঁরা সকলেই উদ্যোগী হিসাবে সফল হয়েছেন।

দেখা যাক, সাফল্যের স্পৰ্শ পাওয়ার পরে কী বলছেন ওঁরা

প্রথম য়খন আমি কাজ শুরু করি সেইসময় অনেকেই আমায় নিরুত্সাহিত করেছেন। তাছাড়া, তখন উদ্যোগী হিসাবে আমি কাজ শুরু করি, সেইসময়ে এ দেশে মেয়েরা সেক্ষেত্রে তেমনভাবে ছিলেন না। অনেকেই আমায় ব্যর্থতার ভয় দেখিয়েছেন। কিন্ত আমি জানতাম, আমি যা করতে চলেছি তা এদেশে আমার আগে কেউ করেননি। আর আমার কাজটাও অভিনব। - বন্দনা লুখরা, ভিএলসিসি

আমি যে সময়ে কাজ শুরু করি সে্ইসময়ে সোস্যাল মিডিয়া বলতে কোনও কিছুর অস্তিত্ব ছিল না। আমি ডোর টু ডোর সেল করে বেড়াতাম। ভিলে পার্ল ইস্টে প্রতিবেশীদের বাড়ি বাড়ি যেতাম। শেষপর্যন্ত আমি নিজের জায়গা খুঁজে পেয়েছি। - নাদিয়া চৌহান, পার্লে অ্যাগ্রো

আমার তেমন কিছুই ছিল না। আসলে আমি জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নেমেছিলাম। আমরা হাতে হাতে প্ল্যামফ্লেট বিলিয়েছি, স্টিকার লাগিয়েছি আর প্রচুর মানুষের কাছে গিয়েছি। - নীতু সিং, টোটাল যোগ

উদ্যোগী হওয়ার চেয়েও বড় ব্যাপার হল তুমি যা করতে চাও, তুমি যা বিশ্বাস করো সেইমতো তোমার আইডিয়াকে প্রয়োগ করতে পারছ কিনা। - গরিমা ত্রিপাঠী, কেয়ার ২৪

যখন আমি ৫০ লাখ টাকার কেরিয়ার হেলায় ছেড়ে কর্মক্ষেত্র পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সৌভাগ্যবশত সেদিন আমার বাবা-মা আমার পাশে ছিলেন। ওঁরা উত্সাহ দিয়ে বলেছিলেন, আমি অনেকদূর পর্যন্ত উন্নতি করতে পারি। ওঁদের এই মনোভাব আমায় সুখী করেছিল। তবে ওঁরা এও জানিয়েছেন, আমার ব্যবসায় বিনিয়োগ করাটা ওঁদের পক্ষে সম্ভব হবে না। সেই টাকা ওঁদের হাতে নেই। তবে ওঁদের অনুমোদনই সেদিনে যথেষ্ট ছিল। - সৌম্যা গুপ্তা, টেন অন টেন

ব্যবসা দাঁড় করাতে হলে্ যে কোনও সময়েই বিনিয়োগে্র দরকার হতে পারে। তবে সে ব্যাপারে আমার তেমন কোনও পরিক‌ল্পনা ছিল না। এদিকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা তখন ই-কর্মাসের ব্যবসায় টাকা ঢালতে চাইছিলেন। আমি ব্যবসা করার জন্যে আমার গয়না বেচে টাকার জোগাড় করেছিলাম। - মণীষা আহলাওয়াট, ভিভাফিট

ইনফোসিস যাঁরা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন একটা সময় ছিল যখন তাঁরা তাঁদের সঞ্চয়ের সব টাকা কম্পানিতে ঢেলে দিয়েছিলেন। ওঁরা তখন ন্যূনতম বেতন নিয়ে কাজ করেছেন। আমার মঙ্গলসূত্রটিও বন্ধক রাখতে হয়েছিল সেইসময়ে। সেইসময়ে আর্থিক সঙ্কট ছিল। তবে শেষপর্যন্ত কঠিন পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে খারাপ অবস্থা কাটানো গিয়েছে। - কুমারী শিবুলাল, এস ডি ফাউন্ডেশন

আমরা এখনও ব্যক্তিগত মালিকানাধীন একটি সংস্থা। বরাবর অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগে সংস্থাটি চলছে। এর ফলে বাজারে কোনও ধারও নেই। অনেক বিনিয়োগকারী বিনিয়োগ করতে চেয়েছেন। তবে আমরা বরাবরই তা থেকে নিবৃত্ত থেকেছি। ভারতীয় সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে এ হিসাবে আমরা বিশেষত্বের দাবি রাখি। - বিনিতা জৈন, বায়োটিক

আমার উদ্যোগটি ছোট হলেও একান্তভাবেই এটা আমার নিজের। আমি এই সুযোগটুকু পেয়ে্ ধন্য। তবে সংস্থার যে কোনও কাজের জন্য আমিই প্রধানত দায়ী। এটা আমার নিজের উদ্যোগ এমন ভেবেও আমি ভিতর থেকে চালিকাশক্তি পাই। সেইসঙ্গে পাই সৃজনশীল তৃপ্তি। - নিশিতা বিয়ানি, ওয়াফলিস্ট

আমি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে যা শিখতে পেরেছি তা ভাগ করে নিতে চাই। ইগো আজকালকার দিনে একটা বড় সমস্যা। ইগোটা একপাশে সরিয়ে রেখে কাজ করে যাওয়াটাই মঙ্গলের। - অর্চনা গণপতি পুনাচা, পিঙ্কঅ্যাপেল

কঠিন পরিশ্রম করতে হবে। আর সেইসঙ্গে এও মনে রাখতে হবে জ্ঞানী হলেই সম্মান মিলবে। একজন উদ্যোগীর উচিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে ফলাফলের আশা না করে সেইমতো কাজ করে চলা। - পূজা প্রভাকর, বিসিপি অ্যাসোসিয়েটস

আমাকে অনেক বাধা পেরোতে হয়েছে। এজন্যে বাড়ির বাইরে অনেক লড়তে হয়েছে। অনেকেই আমায় বলেছিলেন, একজন মেয়ে হিসাবে স্টার্ট আপ দাঁড় করানো সোজা কথা নয়। তাছাড়া, আমি বিদেশের ভালো চাকরি ছেড়ে স্টার্ট আপ গড়তে এসেছিলাম। - অনুষ্কা আডিয়া, লজ্জা ডায়েরিজ

আমরা সংস্থার কর্মীদের হাতে সিদ্ধান্ত নিতে পারার মতো ক্ষমতা তুলে দিয়েছি। নিশ্চেষ্ট হয়ে থেকো না। বরং কাজ করে যদি অসফলও হও - সেও ভালো। সেজন্য তোমাদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তি্মূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। - রাধিকা আগরওয়াল, শপ ক্লুজ

মহিলা উদ্যোগীদের চলবার পথটা কুসুমাস্তীর্ণ নয়। বরং চলার পথটা কঠিন। কিন্ত পথে অনেক আনন্দও আছে। তোমার ব্র্যান্ডের বাড়বৃদ্ধির সঙ্গেসঙ্গে তোমার নিজেকেও শিখতে হবে। তবে শক্তিশালী সাপোর্ট সিস্টেম থাকাটা কার্যকরী। - শ্রুতি শিবুলাল, টামারা গ্রুপ

প্রথম দিকে আমায় যখন সংস্থার অর্থনৈতিক দিকটা সামলাতে হত, সেইসময়ে আমি বেশ আঘাত পেতাম অডিটর, বিনিয়োগকারী কিংবা ব্যাঙ্কারদের কাছ থেকে। একজন মহিলা হিসাবে টাকাপয়সার ব্যাপারটা আমায় সামলাতে দেখে ওঁরা অনেকে অবাক হতেন। ওঁরা এনিয়ে কাজ করতেন চাইতেন কোনও পুরুষের সঙ্গে। এটাই আমার খারাপ লাগত। - উপাসনা টাকু, মোবিউইক

ভারতে এরকম রীতি আছে বাবার ব্যবসা থাকলে তাঁর অবসরের পরে সেটি দেখভাল করবেন ছেলে। কিন্ত এ যুগে মেয়েরা আরও আরও বেশি করে শিক্ষিত হয়ে উঠছেন। সেইসঙ্গে স্বাধীনও। এটাও আমায় উচ্চাকাঙ্ক্ষী করে তুলেছে। আমি সে কারণেও পৌঁছতে পেরেছি, আজ যেখানে আমি আছি। - অনুশা জৈন, বনজুর

যখন আমি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হই সেইসময়ে উদ্ভাবনী শক্তির ওপর বেশি জোর দিয়েছি। এভাবেই বাড়তে চেয়েছি। আর কর্মীদের অন্তর থেকে সুখী করতে চেয়েছি। পাশাপাশি নিজের অধিকারের গ্রহণযোগ্যতাও ছিল আমার তরফে ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ। এটা কিন্ত আমি সংস্থার মালকিন হিসাবে চাইনি। - অণু আগা, থারম্যাক্স