KashmirOneStop.com- অনলাইনে কাশ্মীরে শপিং

0

রোহিত ও তাঁর বৌদি মীনাক্ষি একদিন গল্পের ছলেই আলোচনা করছিলেন কাশ্মীরি জিনিসের এই জনপ্রিয়তার কথা। এগুলি পাওয়া যে কত কঠিন মীনাক্ষি বলছিলেন সে কথা। অথচ কাশ্মীরের মানুষ যাঁরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছেন তাঁরা এই জিনিসগুলি চান। এই আলোচনার পর থেকেই ভাবনাটা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল, কাশ্মীরি এইসব জিনিস যদি নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা যায় তাহলে অনেক মানুষই তা কিনবেন। রোহিত, তাঁর দাদা রাকেশের সঙ্গে আলোচনা করেন বিষয়টা। রাকেশ থাকেন মুম্বইতে। দুইভাই মিলে আলোচনা করে ঠিক করে ফেলেন একটি ই-কমার্স সাইট খুলবেন, কাশ্মীরি সব জিনিস পাওয়া যাবে সেখানে। নাম, KashmirOneStop । এই উদ্যোগে সঙ্গে থাকেন মীনাক্ষিও।

ডোমেন বেছে নেওয়া

যেহেতু এই পোর্টালে যাবতীয় কাশ্মীরি জিনিস পাওয়া যায়, রাকেশের মনে হয়েছিল KashmirOneStop ই উপযুক্ত নাম। “আমরা এমন একটা নাম ভাবছিলাম যেটার একটা বিশ্বব্যাপী আবেদন রয়েছে, জানালেন মীনাক্ষি। সৌভাগ্যজনকভাবে ডটকম ডোমেনটিও পেয়ে যান তাঁরা। আজকাল ভারতীয় ভাষার নাম ও ভারতীয় ভৌগলিক কোনো এলাকাভিত্তিক নামের ক্ষেত্রে ডটকম ডোমেন পাওয়াটা সহজ।

সবচেয়ে সহজে কীভাবে একটা ওয়েবসাইট বানানো যায় সেবিষয় খোঁজ খবর শুরু করেন মীনাক্ষি। আরও দু একজন ডেভেলপারের সঙ্গে মিলে ওয়েবসাইট তৈরির কাজে লেগে যান মীনাক্ষী। প্রত্যেকেই প্রযুক্তির কিছু নির্দিষ্ট দিক শিখে নেওয়ার চেষ্টা করেন যাতে সব বাইরে থেকে করাতে না হয়। প্রথমদিকে ব্যাপারটা কঠিন ছিল, তবে খুব সচেতনভাবেই তাঁরা ঠিক করেন ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্টের কাজ বাইরের কাউকে দিয়ে করাবেন না। অনলাইনে শিখে ও নিজেদের পূর্ব অভিজ্ঞতার সাহায্যে একটি ভাল ওয়েবসাইট তৈরি করতে সক্ষম হন তাঁরা। অনলাইন ব্যবসার সিদ্ধান্তটা নিশ্চত ছিল। “আমরা অফলাইনেও ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু অনলাইন ব্যবসার প্রচুর সুবিধা রয়েছে, এক তো এতে পুঁজি লাগে কম, অন্যদিকে প্রচুর মানুষের কাছে পৌঁছনো যায়”, বললেন রোহিত।

মীনাক্ষি ভাট
মীনাক্ষি ভাট

ব্যবসার মডেল

কাশ্মীরওয়ানস্টপ.কমে কাশ্মীরি জাফরান, কাশ্মীরি কেহওয়া, রাজমা ইত্যাদি নানা খাদ্যদ্রব্য পাওয়া যায়। এছাড়াও কাশ্মীরি পন্ডিতদের জন্য প্রার্থনার উপকরণ ইত্যাদি বিক্রি করে কাশ্মীরওয়ান স্টপ। কাশ্মীরের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের থেকে জিনিস সংগ্রহ করে তারা। “কাশ্মীরি মশলা ও অন্যান্য জিনিস অন্যত্রও পাওয়া যায় কিন্তু তার গুণমান ভরসাযোগ্য নয়। আমরা সব থেকে ভাল জায়গা থেকে এগুলো আনাই”, বললেন রোহিত।

মাল তুলে রাখার খরচ বাঁচাতে কোনো জিনিসই কিনে রাখে না কাশ্মীরওয়ানস্টপ। অর্ডার পেলে আনানো হয় সেই দ্রব্য। “আমাদের অনেক জিনিসই উপযুক্ত তাপমাত্রায় না রাখলে নষ্ট হয়ে যায়। তাই জিনিসের অপচয় রুখতে একটি দক্ষ সরবরাহ ব্যবস্থা রাখতে হয় আমাদের”, বললেন রোহিত।

দামের লড়াইয়ে যায় না কাশ্মীরি ওয়ানস্টপ বরং পণ্যকেই গুরুত্ব দেয় তারা। বিনিয়োগহীন ই-কমার্স সাইটের সাফল্যের চাবিকাঠি এটাই. সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ করতে না পারলেও পণ্যের গুণমান ও স্বতন্ত্রতাই কাশ্মীরওয়ানস্টপ.কমের মতো ব্যবসাকে চালু রাখে।

তাঁরা বর্তমানে পাঁচজনের দল, বিনিয়োগ প্রায় পুরোটাই এসেছে বন্ধু ও পরিবারের কাছ থেকে। আপাতত শুধু ভারতেই পণ্য সরবরাহ করে তারা তবে ভবিষ্যতে বিদেশেও ব্যবসা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

“প্রতিদিন তিনটি করে অর্ডার পাই আমরা, কোনো কোনোদিন সেটা পাঁচ হয়”, রোহিত বললেন। ই-কমার্সের বড় বড় কোম্পানিগুলির তুলনায় সংখ্যাটা কম মনে হতে পারে, কিন্তু এধরণের উদ্যোগ জম্মু-কাশ্মীরের মতো জায়গায় উদ্যোগ তৈরিতে সহায়ক হবে। এইসব জায়গার অর্থনীতির উন্নতিতে সাহায্য করবে ফলে ব্যবসা বাড়বে। সাবেকি ব্যবসার অনলাইনে প্রবেশের এক অসাধারণ উদাহরণ কাশ্মীরওয়ানস্টপ।

কয়েকবছর আগেও কেউ এধরণের কিছুর কথা ভাবতেও পারত না। কিন্তু কাশ্মীরওয়ানস্টপ দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে ইন্টারনেট সমতা আনতে সাহায্য করছে। এখন যে কেউ অনলাইনে তাঁর উপস্থিতি রাখতে পারে।

আপনিও এখন একটি ডোমেন নাম রেজিস্টার করে, ওয়েবসাইট তৈরি করে শুরু করে দিতে পারেন আপনার ব্যবসা। ডটকমের মাধ্যমে বেড়ে উঠুন।

(অনুবাদ-সানন্দা দাশগুপ্ত)