বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে আসবে ‘Practo’-র অ্যাপ!

0

দেশের মাটিতেই রয়েছে বিশাল বাজার। বিদেশে কর্মরত ভারতীয় উদ্যোগপতিরা এবার ‘ঘরে ফেরো’। সম্প্রতি বিদেশে গিয়ে এমনটাই বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সাড়াও পেয়েছেন বিপুল। নরেন্দ্র মোদির ডাকে ভারতমুখি হয়েছেন বহু অনাবাসী ভারতীয় উদ্যোগপতি। তবে ব্যতিক্রমও থেকে গিয়েছেন কেউ কেউ। দেশে থেকে বিদেশে ব্যবসার বিস্তারকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বেশ কিছু সংস্থা। কেন উল্টো পথে, প্রশ্ন করলে তারা বলছেন, দেশীয় নয়, বিশ্বমানের পণ্য উৎপাদনই তাঁর কোম্পানির লক্ষ্য। আপন হতে বাহির হওয়ার মন্ত্রেই দীক্ষিত ‘প্র্যাক্টো’।

শিল্পের ভাষায় এখনও নবীন তকমা ঘোচেনি হেল্থ অ্যাপ ‘প্র্যাক্টো’-র। ব্যবসায় বয়স মাত্র দু’বছর। এরই মধ্যে দেশের বাইরে জমিয়ে ফেলেছে প্র্যাক্টো। সিঙ্গাপুরে পাড়ি দিয়েছে এই সংস্থা। অল্পদিনেই স্বাস্থ্য পরিষেবার এই অ্যাপ বুঝিয়ে দিয়েছে তারা লম্বা রেসের ঘোড়া। টেকস্পার্কের মঞ্চে কোম্পানির কর্ণধার শশাঙ্ক এনডি জানালেন, ‘বিশ্ব বাজার ধরতে সিঙ্গাপুরই ছিল তাঁদের প্রথম গন্তব্য। মূলত, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার প্রাণকেন্দ্র হওয়ায় প্রথম থেকেই সিঙ্গাপুরের দিকেই নজর ছিল তাদের।’

সে কারণে দু’বছর কোম্পানির ভিত মজবুত করেই সিঙ্গাপুরের বাজার ধরতে ছোটা। শশাঙ্কের মতের সঙ্গে গলা মিলিয়েছেন অনেকেই। শুরুয়াতি এই উদ্যোগপতির ধারণা, কোনও বিদেশের বাজার ধরার এটাই আদর্শ সময়। বিশেষ করে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় ব্যবসা করাটা যেখানে অনেকটাই সহজ। এখানে দীর্ঘদিন লালফিতের ফাঁসে আটকে থাকে না কোনও প্রকল্প। চাহিদা থাকায় ক্রেতা ধরতে খুব একটা সময় লাগে না। তাই বিদেশের নামী কোম্পানি বাজারে নামার আগে ভারতীয় কোম্পানিগুলির এই বাজার ধরে ফেলা উচিত।

সুযোগ বুঝে ইতিমধ্যেই উন্নয়নশীল দেশের বাজার দখল করতে সক্ষম হয়েছে ‘প্র্যাক্টো’। তাদের পরিষেবার পণ্য এরই মধ্যে সিঙ্গাপুরে পরিচিতি পেয়েছে। মূলত, ইন্টারনেটের ওপর ভিত্তি করেই স্বাস্থ্য পরিষেবা দিয়ে থাকে ‘প্র্যাক্টো’। আগামী দিনে সিঙ্গাপুর ছাড়িয়ে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলির দুই-তৃতীয়াংশ বাজার ইন্টারনেটের ওপর ভিত্তি করেই চলে। অর্থাৎ অনলাইনে বেশিরভাগ কেনাকাটা করেন এই দুনিয়ার ক্রেতারা।

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় দেশের উন্নতিতে কাজে লাগে এমন কোনও পণ্য বিক্রি হচ্ছে না অফলাইনে। সেক্ষেত্রে ‘প্র্যাক্টো’-র স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নয়নশীল দেশের এই ফাঁকা বাজার ধরতে পারবে। তথ্য বলছে, মোবাইল নির্ভর বাজারের বিষয়ে ইতিমধ্যেই উন্নত দেশগুলিকেও ছাপিয়ে গিয়েছে উন্নয়নশীল দেশগুলি। কিন্তু কয়েক বছর আগেও মোবাইল বা ইন্টারনেট ভিত্তিক বাজারে সমানে সমানে টক্কর দিচ্ছিল দুই বিশ্ব। ব্রাজিল, ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশিয়ায় ‘মোবাইল ফার্স্ট’ ভিত্তিক বাজার শুরু হতেই ছবিটা বদলাতে শুরু করে।

এই বাজারটাই পাখির চোখ ‘প্র্যাক্টো’-র । কোম্পানির পরিকল্পনা, বিশ্বমানের স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী অ্যাপলকিশেন তারা তৈরি করছে। দেশে বদলালেই অ্যাপসের নামও বদলে যাবে। যদিও কোম্পানির অ্যাপ-এর নাম বদলানোর যুক্তিতে রাজি নন অনেকেই। তাঁদের মতে দু’বছরে কোম্পানির যে ব্র্যান্ডভ্যালু তৈরি হয়েছে তা নষ্ট করা উচিত নয়। যা শুনে মুচকি হাসছেন শশাঙ্ক। কেউ হাসার কারণ জানতে চাইলে বলছেন নামে কী আসে যায়। পরিষেবাটাই আসল।