আপনার স্বাস্থ্যের কথাই আগে ভাবে ক্যাফে অরগ্যানিকা

0

কী কেলেঙ্কারি বলুন তো! শাক-সব্জি হাইব্রিড! তাতে কড়া কীটনাশক! খাবারে ভেজাল! মাছে-মাংসে রোগ। ভারতে এসব ব্যাপারে একটু দেরিতেই টনক নড়ে। কিন্তু ইউরোপ বা অন্য এগিয়ে থাকা দেশে তো খাঁচায় বন্দি পল্ট্রির ডিমও ব্রাত্য সেখানে মুক্ত পাখির ডিম চড়া দামে বিক্রি হয়, লোকে কম্পিটিশন করে কেনে। এখন প্রশ্ন হল শরীর নিয়ে তো ছেলেখেলা করা যাবে না। কী খাবেন আর কী খাবেন না। এই ভেবে নাজেহাল। এবার ভাবার সময় শেষ। কলকাতায় এবার ভেষজ খাবারের হদিস দিচ্ছে ক্যাফে অরগ্যানিকা। বার্গার থেকে পুডিং। কিংবা হাতে গরমে ইডলি। সবেতেই আছে নলেন গুড়ের ছোঁয়া। অবাক হচ্ছেন? রয়েছে আরও অবাক হওয়ার পালা। কলকাতায় বাড়িতে বসেই পাবেন হিমালয় পাহাড়ের সালফার-মুক্ত নুন।

শুরু থেকে এই যাত্রা পথটা মসৃণ ছিল না। কাজের ভিন্ন গ্রহের চারজন প্রথমবারের জন্য শুরু করেছিলেন ভেষজ খাবারের সন্ধান। তখনও হয়ত তাঁরা ভেবেই উঠতে পারেননি এর থেকেই জন্ম নেবে ক্যাফে অরগ্যানিকা। এই চারজনের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কমলিকা ভট্টাচার্য। কমলিকা নিজে এক সময় দীর্ঘদিন দূরদর্শনে সঞ্চালিকার কাজ করতেন। নিজেও জানেন ফিটনেসের গুরুত্ব ঠিক কতটা। পরে যোগার সঙ্গে যত যুক্ত হন বুঝতে পারেন শুধু এক্সারসাইজ নয়, পাশাপাশি সুস্থ থাকতে একান্তভাবেই দরকার ভালো খাবার। পাশে পেয়েছিলেন রেনবো হোল্ডিং প্রাইভেট লিমিটেডের অপর দুই মালিক হেমেন দোশী এবং নিশিথ আগারওয়ালকে। আর ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের যোগাবিদ্যা প্র্যানিক হিলিং ফাউন্ডেশনের সদস্য দেবেন দোশীও। চারজনের প্রথম পদক্ষেপ ছিল ২০১১ সালে। তখনই এলগিন রোডে প্রথমবারের জন্য খোলা হয় ক্যাফে অরগ্যানিকার শো-রুম। যদিও ব্যবসার সূত্রপাতের অনেক আগে নিজেদের হেলদি লিভিং এর ক্ষেত্রে প্রথম ধাপ বলেই মনে করেন এই চার জুটি। তারপরে ২০১২ সালে ল্যান্সডাউন এবং ২০১৪ সালে সানি পার্কে খোলা হয় ক্যাফে অরগ্যানিকার আরেকটি শো-রুম। অরগ্যানিক প্রোডাক্টের বিক্রির পাশাপাশি এখানে রয়েছে হাতে গরম নানা ভেষজ রেডিমেড খাবার। তবে মশলা খেকো বাঙ্গালির জিভে শাক-পাতার গুণগান সোজা ছিল না। 

দেবেন বলেন , ‘সকলকে বোঝানো কঠিন ছিল যে অরগ্যানিক নানা খাবারও সুস্বাদু হতে পারে। তাই আমাদেরকেই দায়িত্ব নিতে হয় সুস্বাদু ভেষজ খাবার নিয়ে প্রচার প্রসারের। আর এই বিষয়েই ক্যারিশমা দেখান ক্যাফে অরগ্যানিকার শেফরা। নিত্যনতুন পদ্ধতিতে ভোজন রসিকদের অর্গ্যানিক খাবারের সন্ধান হয়ে ওঠে ক্যাফে অরগ্যানিকা’। হিমাচল থেকে চেন্নাই , গুজরাট থেকে ওড়িশার বিভিন্ন প্রোডাক্ট নিয়ে আসা হয় কলকাতার ক্যাফে অর্গ্যানিকায়। যার ফলে নানা ধরনের ভাত,ডাল কিংবা নলেন গুড় থাকে এই তিনটি শপে। 

কর্ণধার দেবেন দোশী বলছেন মধ্যবিত্তরা যাতে এই খাবার কিনতে পারে তাই নাগালের মধ্যেই রাখা হয়েছে দাম। এটা আসলে একটি ভালো অভ্যেসের বিষয়। দেখা গেছে, এই খাবার খেয়ে অনেকেই কম অসুস্থ হচ্ছেন। ওষুধের খরচও কমছে। এখানে শুধু প্রোডাক্টের কেনা ও খাওয়া নয়। ক্রেতারা চাইলে হাতে তুলে দেখেও নিতে পারেন প্রোডাক্টের উপকরণ। ফলে নালে-ঝোলে-অম্বলে বাঙালি এবার স্বস্তিতে। ক্যাফে অরগ্যানিকায় চব্য চোষ্য লেহ্য পেয় সবই পাবেন। কিন্তু এই রেস্তোরাঁ আপনার স্বাস্থ্যের কথাটাই আগে ভাবে।