ব্রেকিং নিউজ! ছোট খবরে Veooz

0

খবরের কাগজে পাতার-পর পাতা লেখা। খবর, ব্যাখ্যা, সম্পাদকীয়, উত্তর-সম্পাদকীয়। এর সঙ্গে সাপ্লিমেন্ট। টিভি নিউজ চ্যানেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই খবর আর ছবি। ডিজিট্যাল মিডিয়াতেও এসে গিয়েছে হরেক পোর্টাল, ওয়েবসাইট, ব্লগ। 24x7-এর সেই দুনিয়ায় আপনার প্রয়োজন কী মিটছে? কে কী পড়বে বা দেখবে বা আদৌ দেখবে কি না সেটা কোনও একজনের ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু বর্তমান জেটগতির দুনিয়ায় সময় সত্যিই একটা ব্যাপার। ডিজিট্যাল মিডিয়ায় সেই মহার্ঘ সময়কে মাথায় রেখে short format content-এ জোর দেওয়া হচ্ছে। এ যেন অনুগল্প বা স্বল্পদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্রের মতো ব্যাপার। ছোট-ছোট জরুরি খবর। চোখের পলক ফেলার আগেই পড়া শেষ। ভারতে ইতিমধ্যেই এই দুনিয়ায় পা ফেলে নজর কেড়ে নিয়েছে In Shorts, Way2News -এর মতো মোবাইল অ্যাপ। কোনও খবরই ৬০ শব্দের বেশি নয় বা সর্বাধিক চারশো কারেক্টার।মোটামুটি এমন একটা ফর্মাটই সেট করা হয়েছে।

News আর Views নিয়েই খবরের দুনিয়া। খবরকে হাতিয়ার করে সেই খবরের দুনিয়াতেই সাড়া ফেলে দিয়েছে ভিউজ (Veooz). ডিজিট্যাল প্ল্যাটফর্মে ভিউজ গড়ে তোলার মূল কারিগর তিনজন। একজন শ্রীনি কৃপালু, যিনি একসময় Microsoft, India-র MD ছিলেন। দ্বিতীয়জন বাসুদেব ভার্মা, হায়দরাবাদ IIT-র প্রোফেসর এবং একইসঙ্গে Neuro-linguistic programming (NLP)-র একজন বিশেষজ্ঞ। আর ডক্টর প্রসাদ পিঙ্গালি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অধিবাসীদের বিভিন্ন ভাষায় খবর দিয়ে থাকে বলে ভিউজের দাবি। মাইক্রোসফ্‌টে দীর্ঘ ২১ বছর যুক্ত ছিলেন শ্রীনি। এরপর বেশ কয়েকটি স্টার্টআপেও অংশীদার ছিলেন। এই পর্বেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ হয় বাসুদেব এবং প্রসাদের। এই দু'জনই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে Veooz ডেভেলপ করেন।পুরো বিষয়টি জানার পরে যোগ না দিয়ে পারেননি শ্রীনি কৃপালু। কী করে ভিউজ? শ্রীনির কথায়," খবরের দুনিয়ায় প্রতিদিন অজস্র ঘটনা। খবরের সমুদ্র বলাই ভালো। বিভিন্ন নিউজ প্ল্যাটফর্ম এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আমরা সেই খবর সংগ্রহ করি। এরপর ঝাড়াইবাছাই করে জরুরি খবরগুলিকে অত্যন্ত সংক্ষেপে পাঠকের কাছে পৌঁছে দিয়ে থাকি"।


কীভাবে কাজ করে এই প্ল্যাটফর্ম?

খবরের কাগজ, টিভি, সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়াও বিভিন্ন সূত্র মারফত দিনভর অসংখ্য খবর আর পাহাড়প্রমাণ তথ্য। এ থেকে ঝাড়াইবাছাই হয় কীভাবে? কাজে লাগান হয় অ্যালগোরিদমস ও অনু্সন্ধানবিদ্যা (Heuristics). অসংখ্য ডেটা পাঠ করে জরুরি ও প্রাসঙ্গিক খবর বাছাই হয়। খবরের বিভিন্ন ক্যাটেগরি (রাজনীতি, বাণিজ্য, খেলা ইত্যাদি) অনুযায়ী সেই ডেটাকে নিউজ স্টোরিতে ভাঙা হয়। এরপর নিউজ ফিড বা খবর হিসাবে তা পৌঁছে দেওয়া হয় পাঠকের দরবারে। নিয়মিত কোনও একজন পাঠক বা কোনও একটি ভৌগোলিক অঞ্চলের লোক কোন খবর বেশি পড়ছেন তা ফের অ্যালগোরিদমের মাধ্যমে প্রসেস করা হয়। এবার সেই অনুযায়ী সংবাদ সরবরাহ। Veoos মানেই অনু-খবর এমনটা কিন্তু নয়। পাঠকের মূল্যবান সময়ের কথা ভেবে সবরকম ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।কেউ চাইলে শুধু শিরোনাম বা হেডলাইন্স পড়তে পারেন। রয়েছে কম শব্দের খবর। আবার বিস্তারিত খবরও রয়েছে। পাঠক যেটা ভালো বুঝবেন সেটাই পড়তে পারবেন। এরসঙ্গে রয়েছে ছবি ও ভিডিও সহযোগে ইন ডেপ্‌থ কভারেজ।


এই দুনিয়ার চ্যালেঞ্জ

পাহাড়প্রমাণ তথ্য আর প্রযুক্তির সমন্বয়। দুটোকে মেলানোর এই জটিলতাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন শ্রীনি কৃপালু। প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক কাজে লাগাতে হয়। রিয়েল টাইম বেসিসে সেই সবগুলির সমন্বয় (Sync) না হলেই বিপত্তি। আর খবরের পরিমাণ? ওই যে আগেই বলেছি, পাহাড়প্রমাণ। একদিন নয়, রোজ-রোজ এই পাহাড় থেকে খুঁজে বের করতে হয় পাঠকের জন্য জরুরি খবরটিকে। তবেই না পাঠক পড়ে খুশি হবেন।

বাজার কী বলছে?

একই ফর্মাটে কাজ করে বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলে দিয়েছে দুই বিদেশি সংস্থা Circa ও Zite. ভারতে এখনও পর্যন্ত জনপ্রিয়তায় প্রথম সারিতে রয়েছে In Shorts, Way2News. লগ্নির প্রশ্নে In Shorts-এর পাশে দাঁড়িয়েছে Tiger Global. চলতি বছরে ফান্ডিং বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে Veooz-ও। বিজ্ঞাপন ভিত্তিক রেভিনিউ মডেলের কথাও ভাবছে সংস্থাটি।