মোবাইলে আর্থিক লেনদেন, পথ দেখাচ্ছে পেনিয়ার

0

চমকে দিল পেনিয়ার সলিউশনস প্রাইভেট লিমিটেড নামের এক সংস্থা। বছর দুয়েক আগে তাদের বানিজ্য ময়দানে আবির্ভূত হতে দেখে অনেকের মনে হয়েছিল – এ নেহাতই এলেবেলে। এলি আর গেলি। স্বপ্নের ফানুস ফাটতে মাত্র কয়েক মাস। খুব জোর হলে একটা বছর। কিন্তু বানিজ্যদেবী বোধহয় চিত্রনাট্য লিখেছিলেন অন্যভাবে। একটু একটু করে বাড়ল পেনিয়ার-এর ব্যবসা। দিন কয়েক আগে তো ১৬ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করে নীতেশ মাজিছিয়া নামের এক বিনিয়োগকারী ঢুকে পড়লেন পেনিয়ার-এর পরিচালন বোর্ডে। কে নীতেশ? বানিজ্য জগৎ বলে মানুষটার চোখ জহুরির চেয়েও প্রখর। কোথায় টাকা ঢালা উচিত, কোনটাই বা সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র তা নাকি নীতেশ বহু আগে থেকে টের পেয়ে যান। আমেরিকা কিংবা ভারত। যেখানে‌ই টাকা ঢেলেছেন, সেখানেই টাকা ফলেছে। নীতেশের দাবি, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে টাকা লেনদেনের ব্যবসা অতিসম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। এটা আগামী দিনের ব্যবসা। হয়তো বছর দুয়েকের মধ্যে তা ফুলে-ফেঁপে উঠবে।


একটু ভেঙে বলা যাক। আপনার হাতে যে স্মার্ট ফোন, তা শুধু নামেই স্মার্ট নয়। কাজেও স্মার্ট। আপনি ডেবিট কিংবা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে টাকা মেটাতে চান তবে সেটা স্মার্ট ফোনের মাধ্যমেও করা সম্ভব। ধরা যাক, ওষুধের দোকানের বিল আপনি কার্ডে দিতে চাইছেন। মাধ্যম হতে পারে আপনার তালুবন্দি মোবাইল ফোন। সৌজন্যে পেনিয়ার সলিউশনস প্রাইভেট লিমিটেড। সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রভু রামের কথায়, দোকান কিংবা ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে এখনও মোবাইল ফোনে আর্থিক লেনদেন নিয়ে রক্ষণশীলতা রয়ে গিয়েছে। তারা এখনও এধরনের লেনদেনে ভয় পাচ্ছেন। কিন্তু ভবিষ্যতে মোবাইল ফোন হয়ে উঠবে আর্থিক লেনদেনের ‌অন্যতম প্রধান মাধ্যম।

প্রভু রামের কথা অনুযায়ী দেশের ২০টি শহরে ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে পেনিয়ার সলিউশনস। তাদের পরিষেবা ব্যবহার করছেন কম করে চার হাজার উপভোক্তা। কিন্তু চার হাজার সংখ্যাটা নগণ্য, পেনিয়ার কর্তাদের বক্তব্য সুনামি আসন্ন। আগামী দু বছরের মধ্যে উপভোক্তার সংখ্যা পৌঁছে যাবে এক লক্ষে।

পেনিয়ার-কে নীতেশও আশাবাদী। তাঁর মতে স্মার্ট ফোন, ট্যাবলেট কিংবা পিসি-কে ব্যবহার করে ২৪ ঘণ্টা ক্রেডিট এবং ডেবিট কার্ড ব্যবহার করা যায় তবে সচল থাকবে ব্যবসা। আরও চাঙ্গা হবে দেশের অর্থনীতি। অতএব নজর সামনের দিকে। পেনিয়ার সাফল্য পেলে হয়তো খুলে যেতে পারে ব্যবসার নতুন দিগন্ত। স্বপ্নের ফেরিওয়ালা নীতেশের কথায় আজ যেটা পেনিয়ার ভাবছে হয়তো কাল সেটা ভাববে গোটা ভারত।

অনুবাদ — তন্ময় মুখোপাধ্যায়