স্টার্টআপদের সাফল্যের দশটি বীজমন্ত্র

0

ব্যবসা শুরু করতে তো অনেকেই চায়। কিন্তু সাফল্য ক'জন পায়? সবাই কি আর মার্ক জুকেরবার্গ কিংবা ল্যারি পেজ হয়, যে ফেসবুক কিংবা গুগলের মত ইমারত দাঁড় করাবেন? একটা কথা তো স্বীকার করতেই হবে যে, তাঁরা এক একজন সফল ব্যবসায়ী। ব্যবসার সকল নিয়ম পুঙ্খানুপুঙ্খ পালন করেছেন বলেই তাঁদের এই সাফল্য। ঠিক কী নিয়ম? সুচি আগরওয়াল আমাদেরকে দেখিয়েছেন সেই রাস্তাই। নিজে মার্কেটিং-এর দুনিয়াটা চষে খেয়েছেন, কিন্তু ব্যবসায় ঠোক্কর খাওয়া কাকে বলে, তাও তিনি জানেন। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই তিনি ভাগ করে নিয়েছেন। তিনি এই অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছিলেন ভারতের সিলিকন ভ্যালি বেঙ্গালুরু থেকে। তাই ব্যবসা বাঁচিয়ে রাখার এই টিপসগুলি মনে রাখলে আখেরে লাভ কিন্তু উঠতি ব্যবসায়ীদেরই।


তখন নতুন নতুন ব্যবসা শুরু করেছে সুচি। কাজ করার উৎসাহ তুঙ্গে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই বুঝতে পারলেন ব্যবসাকে দাঁড় করাতে হলে শুধু উৎসাহ থাকাটাই যথেষ্ট নয় সঙ্গে থেকে যায় বেশ কিছু ফ্যাক্টর।তা সিইও-র সঙ্গে সম্পর্কই হোক, কিংবা কর্মীদের সঙ্গে, ব্যবসা দাঁড় করাতে গেলে 'প্রফেশনালিজম' শব্দটার দরকার পড়ে ভীষণ ভাবে। সেই সঙ্গে সুচি উল্লেখ করেছেন দশটি বীজমন্ত্র-

প্রথমত: ব্যবসা ক্ষেত্রে প্রথম যে জিনিসটি মনে রাখা দরকার, সেটি হল, বন্ধুদের বন্ধুর জায়গাতেই রাখতে হয়, সহকর্মীদের সহকর্মীর জায়গায়। ব্যবসার ক্ষেত্রে বন্ধু এবং সহকর্মী গুলিয়ে না ফেলাই ভালো। অনেক সময়ই বন্ধুরা একসঙ্গে ব্যবসায় যোগ দেয়। কিন্তু অন্যান্যদের মত তাঁরাও কিন্তু আখেরে নিজেদের লাভটাই দেখবে।

দ্বিতীয়ত: ব্যবসা নতুন করলে অনেক সময় সব কিছু গুছিয়ে ওঠা যায় না। কিন্তু আইনি ব্যবস্থা অবশ্যই পালন করে নেওয়া উচিত। বন্ধুবান্ধবরা হয়তো কোনও কাগজপত্র না-ও চাইতে পারে। কিন্তু যে কর্মীরা কাজ করতে আসছেন, তাঁদের প্রয়োজনীয় কাগজ দিতে হবে। এতে তাঁরাও কাজটা করার উৎসাহ পাবে।

তৃতীয়ত: যে কর্মীদের কাজ করার জন্য নেওয়া হয়েছে, তাঁদের সম্মান দিতে হবে। সব সময় তাঁদের কাজ করার একটা সুযোগ দিতে হবে। কোনও ভুল হলে তাঁদের কথা মন দিয়ে শুনতে হবে। আগেই তাড়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্তে না আসাই ভালো। তাঁদেরকেও সময় দিতে হবে এই প্রতিষ্ঠানটিকে বোঝার, যাতে এখানকার সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেদের তাঁরা মানিয়ে নিতে পারে। তাঁদের কাজের ওপর ভরসা রাখতে হবে ।তাঁরা যদি মনে করে কিছু পরিবর্তন প্রতিষ্ঠানে প্রয়োগ করতে হবে, তাহলে তা বিবেচনা করে দেখতে হবে। পণ্যকে উন্নত করতে গেলে এই পরিবর্তন দরকার।

চতুর্থত: কর্মস্থানের সংস্কৃতি এমন গড়তে হবে, যাতে কাজের প্রচন্ড চাপের মধ্যেও স্বস্তির ছাপ থাকে। কর্মীরা যাতে হাসিখুশি থাকে। তবে তা যেন মাত্রাতিরিক্ত জায়গায় না পৌঁছয়। সব কিছুর মধ্যে যেন একটা নিয়মানুবর্তিতা থাকে।

পঞ্চমত: কোম্পানি যত বড় হবে, ততই বেশ কিছু নতুন নিয়ম আনতে হবে, যাতে কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কর্মজীবন এবং কাজের মধ্যে একটা ব্যালেন্স রাখা উচিত। কাজটাকে আরও সহজ ভাবে যাতে করা যায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। যেমন মহিলা কর্মীদের জন্য কিছু বাড়তি সুবিধা প্রদান করা কিংবা বাড়ি থেকে কাজ করার সুবিধা রাখা।


ষষ্ঠত: প্রত্যেক কর্মীর মধ্যে কিছু না কিছু গুণ থাকেই। আবার প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু দুর্বলতা থাকে। মালিকের কাজই হল কর্মীদের মধ্যে সেই গুণটিকে চিহ্নিত করে কোম্পানির ভালোর জন্য ব্যবহার করা।

সপ্তমত: কোনও প্রতিষ্ঠান চালাতে গেলে সবসময় সকলের কাছে বিনয়ী হয়ে থাকতে হবে। কখনও কোম্পানির আয় নিয়ে বেশি উল্লসিত না হওয়াই ভালো।

অষ্টমত: নিজের ক্ষমতার প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে। তাঁকে আরও বৃদ্ধি করতে হবে। একজন সিইও হয়ে যখন তুমি একটা ব্যবসা শুরু করেছ, মনে রাখতে হবে তখন তুমি নিজের প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে সব কিছু করতে প্রস্তুত আছো। যদি তুমি কিছু না জানো, তাহলে জেনে নাও। না বুঝে, আমি সব কিছু বুঝি-জানি, এমন মানসিকতা নিয়ে না চলাই ভালো। সব সময় এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা দরকার, যার থেকে কর্মীরা কিছু শেখে। কারণ তাঁরাও যখন দেখবে প্রতিষ্ঠানের সিইও কিছু শেখার জন্য উদগ্রীব, তখন তাঁরাও নতুন কিছু শেখার দিকে মনযোগী হবে।

নবমত: কর্মক্ষেত্রে ব্যবহারের একটা বিশাল ভূমিকা থাকে। যখন, তখন কর্মীদের বকাঝকা করা কিংবা অন্যদের সামনে অপমান করা, এগুলো কর্মীদের মধ্যে বিরুদ্ধ ভাব তৈরি করে। যা কোম্পানির আয়ের ওপর প্রভাব ফেলে। কর্মীরা তাঁদের মতামত নিয়ে সামনে আসতে ভয় পায়, যেটা কোম্পানির উন্নতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

দশমত: কোম্পানির মালিককে সবসময় কর্মীদের প্রতি সহানুভূতিপ্রবণ হতে হবে। তাঁদের সাহায্যের জন্য সবসময় পাশে থাকা জরুরি। যদি কোনও কর্মীকে ছাঁটাই করতে হয়, তাহলে তা সম্মানের সঙ্গে হওয়া দরকার।

ভারতে ছত্রাকের মত বিভিন্ন ব্যবসা তৈরি হচ্ছে। তাঁদের মালিকও এক-একজন, এক-একরকম। তাঁদের টাকার বিনিয়োগও এক-একরকম। কিন্তু ব্যবসা চালানোর জন্য এই প্রাথমিক শর্তগুলি না মানলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা মুশকিল।


লেখক-সুচি অগ্রবাল

অনুলেখক-চন্দ্রশেখর চ্যাটার্জী