সরকার দেবে পরিকাঠামো, স্টার্টআপ দেবে সমাধান

1

যদি আপনি ভেবে থাকেন সরকার এবং সরকারি আমলারা আম আদমির সঙ্গে স্বাস্থ্যকর তর্ক এড়িয়ে চলেন, তাহলে বলতেই হচ্ছে আপনি পঞ্চম মোবাইলস্পার্কে কিনোট অ্যড্রেসটা মিস করেছেন। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব রাজীব বনসলের আধ ঘণ্টার ভাষণটাই ছিল স্পেল ব্রেকার। ঘর ভর্তি উদ্যোগপতি, দেশের মোবাইল ইকোসিস্টেমের দিকপালেরা ঘর আলো করে বসে আছেন। দিল্লির ইন্ডিয়া হ্যাবিটেটের অডিটোরিয়াম তখন ঝকমক করছে। রাজীব বনসল বলতে উঠলেন। তিরিশ মিনিটে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার ভিশনটা এমনভাবে মেলে ধরলেন গোটা হল মন্ত্রমুগ্ধ।

তাঁর ভাষণে ফুটে উঠল গভীর প্রত্যয়। বললেন, দেশের ডিজিটাল নাগরিক এবং দেশের মোবাইল ইকোসিস্টেমের প্রত্যেকের জন্যেই দুর্দান্ত একটি আগামীকাল অপেক্ষা করছে।

বক্তব্যের সারমর্ম

1. ডিজিটাল ভারতের ছবিটা বদলাচ্ছে- ইন্ডিয়াস্ট্যাক, ডিজিটাল ইন্ডিয়া এবং স্টার্টআপ ইন্ডিয়ার মত প্রকল্পের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে ভারত। এখন কথার কথা নয় সত্যিকারের পরিবর্তন চোখে পড়ছে। ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল উদ্যোগপতিদের সে তিনি মোবাইল ইকোসিস্টেমে উৎপাদক হোন কিংবা ফিনটেক অথবা মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপার। দুর্দান্ত ভবিষ্যৎ আধারের সঙ্গে সংযুক্ত ব্যবসারও।

2. একশ কোটি ফোনের ভারত- একশ কোটি মোবাইল ফোনের মধ্যে ৩০ শতাংশে স্মার্টফোন আছে। আগামী তিন চার বছরে স্মার্ট ফোনের বিক্রি এতটাই বাড়বে যে অনুপাত দাঁড়াবে ৭০:৩০।

3. মেক ইন ইন্ডিয়া, মেক ফর দ্য ওয়ার্ল্ড- আমরা বছরে ১৫ কোটির ওপর স্মার্টফোন তৈরি করছি এবং অ্যাসেম্বলিং এর কাজ করছি। যার অধিকাংশই বিক্রি হচ্ছে পশ্চিম এশিয়া এবং আফ্রিকায়। আগামী তিন বছরে ৫০ কোটি স্মার্টফোন তৈরি করতে পারব। যার পাখির চোখ হবে বিদেশের বাজার।

4. মোবাইলই ভবিষ্যতের অস্ত্র- ডেস্কটপ থেকে ল্যাপটপ হয়ে ট্যাব এবং মোবাইল। সবকিছুর আয়তন কমছে। আর শক্তি বাড়ছে। গতি বাড়ছে এবং ক্ষমতাও বাড়ছে। এবং এই ট্রেন্ড থেকেই বোঝা যাচ্ছে মোবাইলটাই টিকে থাকবে।

5. ইন্টারনেট পেনেট্রেশন-১২৫ কোটির দেশে ৪৫ কোটি মানুষের হাতে ইন্টারনেট আছে। যদিও সংখ্যাটা বেশ কম কিন্তু সুখের কথা হল প্রতি বছর আমরা দশ কোটি নতুন কানেকশন জুড়ে যাচ্ছি। আগামী তিন চার বছর এই গতিতেই চলবে। গতি বাড়তেও পারে। গত এক দশকে দশ কোটি থেকে একশ কোটি মোবাইল ফোন গ্রাহক পেয়েছি আমরা। একই গতিতে ইন্টারনেট কানেকশন নেওয়ার সংখ্যাও বেড়েছে।

6. ভারত নেট- কেন্দ্রীয় সরকার দেশের ছ লক্ষ ষাট হাজার গ্রামের মধ্যে ২০১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে আড়াই লক্ষ গ্রামকে অপটিকাল ফাইবার দিয়ে জুড়ে দেবে। এটা উদ্যোগপতিদের জন্যে দুর্দান্ত সুযোগ কারণ তাঁরা পেয়ে যাবেন প্রচুর পরিমাণে নতুন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী।

7. আঞ্চলিক ভাষায় সুযোগ- দেশের অধিকাংশ মানুষই ইংরেজি বলতে পারেন না। নতুন করে যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে শিখবেন তাদের জন্যে তো বটেই এখনও যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন তাদের জন্যেও আঞ্চলিক ভাষায় অ্যাপ্লিকেশনের প্রচুর পরিমাণ চাহিদা তৈরি হতে চলেছে। নিত্য নতুন পরিষেবা দেওয়ারও অবকাশ রয়েছে। আগামী বছর পয়লা জুলাই থেকে সমস্ত মোবাইল প্রস্তুতকারী সংস্থা তিনটি ভাষায় যাতে লেখা যায় এরকম মোবাইল তৈরি করবেন। হিন্দি, ইংরেজি ছাড়াও থাকবে একটি আঞ্চলিক ভাষা। আর দেশের ২২টি ভাষাই যাতে সব মোবাইলে পড়া যায় সেইমত তৈরি হবে ফোন।

8. আধার যেন একটি সুপ্ত বিপ্লব- ১০৭ কোটি ভারতীয়। ৯৮ থেকে ৯৯ শতাংশ নাগরিকের কাছে রয়েছে আধার কার্ড। আগামী দু তিন বছরে ভারতে থাকবে ৭০ থেকে ৮০ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। যাদের মধ্যে ৫০ কোটির কাছে থাকবে স্মার্টফোন। আধারের শক্তিকে জুড়লে সুযোগের কোনও সীমা নেই।

9. ইউনিফায়েড পেমেন্ট ইন্টারফেস- গত কয়েক দশকে দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার খোল নলচে বদলে গিয়েছে। সুদে টাকা খাটানো মহাজনি থেকে পোস্ট অফিস, সরকারি এবং বেসরকারি ব্যাঙ্ক, এটিএম প্রযুক্তি কী দেখেনি ভারত। এই তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতির দৌলতে, মোবাইল ব্যাঙ্কিং, ক্যাশলেস ট্ৰ্যান্সাকশন, ওয়ালেট সবই এখন চেখে দেখেছে ভারতীয় অর্থনীতি। ইউপিআই হল এমন একটি ইন্টারফেস, যার মারফত ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট যাদের নেই তাদেরও ব্যাঙ্কিংয়ের সমস্ত সুযোগ দেওয়া সম্ভব যাচ্ছে। এবং সেটা দেওয়া যাচ্ছে মোবাইলের মারফতই।

রাজীব বনসলের মতে ভবিষ্যতে আরও দুর্দান্ত কাজ করার সুযোগ রয়েছে যেমন ধরুন ডিজিটাল লকার, ইন্টারনেট অব থিংগস, এবং ডিজিটাল লিটারেসির মত ক্ষেত্রগুলিতে। উদ্যোগপতিদের কাছে তাঁর বিনীত অনুরোধ, আগে খারাপটা ধরে নিয়ে এগোবেন না। সরকার সাধারণ মানুষের থেকে অনেক বেশি আমাদের তথ্য নিয়ে বেশিই চিন্তিত। এবং পরিকাঠামো দেওয়ার ব্যাপারে তুলনায় বেশিই আগ্রহী।