ডেটিং অ্যাপের ছড়াছড়ি, কোন পথ যে ধরি

0

ইস্কুলেতে প্রথম দেখা, টিউশনিতে প্রেম। কলেজে উঠে চুমুর দাপট, কলেজ শেষে shame। বেশ কিছু বছর আগেও এই জীবন পাঁচালিতে অভ্যস্ত ছিল দেশ। স্কুলের মনের মানুষ কলেজে যেতেই ফিকে লাগত। মনে হত, ‘বিশ্বাস পদবি হলেও সবাইকে বিশ্বাস করা যায় না’। সে কারণে সামান্য কিছু সময়ের পরই ‘হাত ধরা‌ধরি’ বদলে ‌যেত ‘হাত ছাড়াছাড়ি’-তে। দিন বদলেছে। পছন্দের মানুষ খুঁজতে সরস্বতী পুজোয় স্কুল-কলেজে হানার দিন শেষ। এসে গিয়েছে ‘’ডেটিং সাইট। কিন্তু তাতেও বিপত্তি। ডেটিং অ্যাপের ছড়াছড়ি, কোন পথ যে ধরি?


বিশ্বায়নের যুগে ভারতে ডেটিং-এর ভাবনাটা নতুন নয়। মাউসের এক ক্লিকেই মনের মানুষের পরিচয় দেবে ডেটিং অ্যাপ। দেব-দেবীর পছন্দ মিললেই ব্যাস, কেল্লা ফতে। ‘উ‌ইন্ডস্ক্রিনে তুমি, আর এই স্ক্রিনে আমি। মাঝখানে প্রেম ওই বয়ে চলে যায়।’ তবে গন্তব্য এক হলেও ডেটিং অ্যাপের পথ কিন্তু ভিন্ন। কেউ চলেন অ্যান্ড্রয়েডে তো কেউ হাঁটেন আইওএস-এ। সংখ্যাতত্বের বিচারে ভারতে ডেটিং সাম্রাজ্যে বিরাজ করছে টিন্ডার, অ্যাসলে.কো, ট্রুলিম্যাডলি.কম, থ্রিলের মতো অ্যাপগুলি। চরিত্র ও আদলগত দিক থেকে এরা একে অন্যের থেকে আলাদা।

অ্যাসলে.কো

বিশ্বের সকল ‘যোগ্য’ ভারতীয়কে এক ছাতার তলায় আনাই এদের লক্ষ্য। পুরুষের ক্ষেত্রে ফেসবুক লগ ইন দিয়ে ঢোকার অনুমতি রয়েছে এই সাইটে। তবে পুরুষ প্রবেশের আগে চলে অ্যাকাউন্ট যাচাই পর্ব। মহিলাদের ক্ষেত্রে অবশ্য সেরকম বাধ্যবাধকতা নেই। মূলত ‘গর্ভগৃহে’ ঢোকার আগে নিজের পঞ্জি তৈরি করতে হয় সবাইকে। পছন্দ, অপছন্দ ছাড়াও বিশ্বস্ততার প্রমাণ রাখতে হয়ে এই পঞ্জিেতে। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে আর্থিক মূল্য থাকায় ডেটিং-এর বিষয়ে সিরিয়াস লোকজন এই সাইটে ঢুঁ মারেন। তিনবার কানেকশনের খরচ পড়ে দু হাজার টাকা। আপনার বন্ধুত্বের প্রস্তাবে অপর পক্ষ রাজি হলে এই টাকা কাটা হয়। প্রস্তাব নাকচ হলে ব্যাঙ্কে ফেরত চলে আসে আপনার ‘প্রেমের ধন’। অনেক সময় জটিলতার জন্য এই সাইটে অনেকেই যেতে চান না। তবে নির্ভরযোগ্যতার দিক থেকে অন্যান্য ডেটিং সাইটকে পিছনে ফেলে দিতে পারে অ্যাসলে।

ট্রুলিম্যাডলি.কম

শাদি. কমের নবতম সংস্করণ বলা যেতে পারে এই সাইটটিকে। অভিভাবকরা যেভাবে পাত্র-পাত্রীর আবেদনপত্র ভর্তি করেন, ঠিক সেভাবে কর্তৃপক্ষের প্রশ্নের লিখিত উত্তর দিতে হয় আপনাকে। ফেসবুকের মাধ্যমে প্রবেশের অনুমতি আছে এই সাইটে। তবে ফর্ম ফিলাপের পরই মেলে ‘সুযোগ’। এই সাইটের ইউএসপি পছন্দের মানুষ খোঁজার লম্বা তালিকা। আবেদনপত্র পূরণের ভিত্তিতে প্রতিদিন মাত্র দশ জনের সঙ্গে আলাপ জমাতে পারবেন আপনি। হাজারের মধ্যে ঝাড়াই-বাছাই করে আপনার প্রিয়তম মানুষটিকে তুলে ধরতে চায় এরা। যদিও এই অল্প সংখ্যক আলাপচারিতায় মন ভরে না অনেকের। সেকারণেও এই সাইট নিয়ে বিরূপের মনোভাব রয়েছে ‘কেষ্টকূলের’।

woo

এটা কোনও ডেটিং সাইট নয়, এটা ডেটিং অ্যাপ। ফেসবুক থেকে আপনার সম্যক ধারণা নেয় এই অ্যাপ। বাদ বাকিটা চলে প্রশ্নোত্তর পর্বে। যেখানে পছন্দের গান, অভিনেতা, খেলাধূলা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। ইউজার ইন্টারফেস সহজ-সরল হওয়ায় এই অ্যাপ ইতিমধ্যেই বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। প্রথম মাসে বিনামূল্যে এই অ্যাপ ডাউনলোড করা যায়। তবে মাসিক পা্সের জন্য চাঁদা লাগে ২৫০টাকা। বছরের জন্য সেক্ষেত্রে ১৫০০ টাকা।

ওকেকিউপিড

ডেটিং অ্যাপের দুনিয়ায় সবথেকে খারাপ পারফরমেন্স এই অ্যাপের। মূলত গোপনীয়তা না থাকায় আপনার মেসেজ সহজেই দেখে নিতে পারেন অন্যজন। এছাড়াও মনের মানুষ বাছতে গিয়ে অনেক সময়ই জটিলতার কারণে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় ব্যবহারকারীকে।

আর লুকিয়ে কিছু করার দরকার নেই। নাগালের মধ্যে সব ঠিকানা এসে গিয়েছে। ভাল-মন্দ বুঝে এবার নেমে পড়লেই হল। তৈরি তো এযুগের রাধা-কেষ্টরা?