অলঙ্কারে অনলাইনের বাজারে দাপট শুচির

হাজারও প্রশ্ন৷ একাধিক সমস্যা৷ পদে পদে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি৷ সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে লড়াই চালিয়ে গেলে আসতে পারে সাফল্য৷ আর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে না পারলে মুখ থুবড়ে পড়তে হয়৷ গায়ে লেগে যায় ব্যর্থর তকমা৷ আর শুচি পান্ডেয়া বেছে নিয়েছিলেন প্রথম পথটাকেই৷ চ্যালেঞ্জটা নিয়েছিলেন৷ কম বয়স, তাঁর এগিয়ে যাওয়ার পথে কোনও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি৷ নিজেই খুলে ফেলেছেন আস্ত একটি অনলাইন বাণিজ্যিক সংস্থা৷ তা-ও নিজের সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে নয়৷ হাজারও প্রশ্ন, এমন কী কিছু ব্যক্তিগত প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েও সব সামলে নিয়েছেন শুচি পান্ডেয়া। বিনিয়োগকারীদের থেকে কোটি কোটি টাকা আনতে পেরেছেন এই তরুণী৷ খুলেছেন নিজের অনলাইন সংস্থা ‘পিপা প্লাস বেলা’৷ সম্প্রতি সিঙ্গাপুরের লিওন রক ক্যাপিটাল থেকে ৬ লক্ষ ৫০ হাজার ডলারের বিনিয়োগ টানতে পেরেছে এই কোম্পানি৷

0

কিন্তু, কী পাওয়া যায় এই অনলাইন স্টোরে? পুরনো ও হালফিলের বিভিন্ন ধরনের গয়না৷ আর এই স্টোরের নাম পিপা প্লাস বেলা কেন? এই রহস্য নিজেই ফাঁস করেছেন শুচি৷ তিনি বলেন, ‘‘ ‘পিপা’ একটি স্প্যানিশ শব্দ অর্থাৎ, যে ঝুঁকি নিতে পারে, রোমাঞ্চকর অভিযানে নামতে পারে৷ আর ‘বেলা’ একটি ইতালিয়ান শব্দ, যার অর্থ সুন্দর৷ আমরা চাই আমাদের ব্র্যান্ড ও গয়না এই দু’টি জিনিসকেই যাতে ঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারি৷’’


মুম্বইয়ে এই সংস্থার সদর দফতর হলেও সিঙ্গাপুরেও ছড়িয়ে পড়েছে তাদের ব্যবসা৷ শুধুমাত্র ভারতই তাদের লক্ষ্য বলে জানিয়ে দিয়েছেন শুচি৷ তিনি বলেন, ‘‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবসা ছড়িয়ে দেওয়া আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে থাকলেও প্রাথমিকভাবে আগামী এক বছর ভারতই লক্ষ্য৷’’



তবে, হঠাৎ করেই গয়নার ব্যবসা করার পরিকল্পনা শুচির মাথায় আসেনি৷ এই ব্যবসা তাঁর রক্তে রয়েছে৷ মুম্বইয়ে এক গয়না ব্যবসায়ীর ঘরেই বড় হয়ে উঠেছেন তিনি৷ যেখানে খাওয়ার টেবিল হয়ে উঠত ব্যবসার গতিপ্রকৃতি নিয়ে আলোচনার টেবিলে৷

এর পর নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটিং নিয়ে পড়াশোনা করার সময় শুচির মধ্যে এই ব্যবসার প্রতি আকর্ষণ আরও বাড়তে থাকে৷ সেখানে ব্যবসার খুঁটিনাটি সম্পর্কে জানতে পারেন তিনি৷ যা পরবর্তীতে তাঁকে অনেকটাই সাহায্য করেছিল৷ আর ২০১০ সালে এমবিএ পড়ার সময়ই ‘পিপা প্লাস বেলা’র ভাবনা তারঁ মাথায় আসে৷কিন্তু, এটি খোলার পর তাঁকে যাতে কোনও সমস্যায় পড়তে না হয়, তার জন্য অ্যাকাউন্ট ও ফিনান্সের ক্লাসেও ভর্তি হন তিনি৷

অনেক বড় বড় কোম্পানির সঙ্গে লড়াই করে বাজারে টিকে থাকতে গেলে নতুন কিছু করার যে প্রয়োজন তা প্রথমেই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন তিনি৷ আর তাই, প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০০টি করে নতুন ডিজাইন বাজারে আনার পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য ওয়েবসাইটে একটি বিভাগও রাখা হয়েছে৷ যেই বিভাগে গ্রাহকরা নিজেদের পছন্দমতো ডিজাইন তৈরির করার অর্ডার দিতে পারবেন৷ কিন্তু, গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জন করাটাই প্রথমদিকে একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলে জানিয়েছেন শুচি৷ কিন্তু, তা অনেকটাই অর্জন তাঁরা করতে পেরেছেন বলে তাঁর মত৷ আর ব্যবসা করতে এসেও সৎ থাকতে পেরেছেন বলেই এই সাফল্য এসেছে বলেও এই তরুণী জানিয়েছেন৷ এর পাশাপাশি, ছোট ছোট উদ্যোগপতিদের কিছু পরামর্শও দিয়েছেন তিনি৷ শুচির কথায়, ‘তাড়াতাড়ি শুরু করুন৷ কারণ আপনি যা ভাবছেন তার থেকেও যাত্রাটা অনেক দীর্ঘ৷ বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বচ্ছ থাকুন৷ আর কী সমস্যা হচ্ছে তা তাদের খুলে বলার চেষ্টা করুন৷ আপনি কেন অর্থ জোগাড় করছেন এবং কীভাবে তা খরচ করবেন, তা ঠিক করে নিন৷ যে কেউই আপনার সংস্থায় বিনিয়োগ করতে রাজি হয়ে যেতে পারে৷ কিন্তু, তার থেকে অর্থ নেওয়ার আগে যাচাই করে নিন৷’’ আর এভাবেই এখন সাফল্যের মুখ দেখেছেন কম বয়সী এই তরুণী৷ রাঘব বোয়ালদের সঙ্গে লড়াই করেও অনলাইনের বাজারে টিকে রয়েছেন শুচি পান্ডেয়া ও তাঁর সংস্থা পিপা প্লাস বেলা৷

Related Stories