সবুরে মেওয়া ফলে বলেছিলেন অর্চনার বাবা

0
স্বামীর প্রভিডেন্ট ফান্ডের ২৫ হাজার টাকা মূলধনে ব্যবসা শুরু করেছিলেন বেঙ্গালুরুর মেয়ে অর্চনা গণপতি পুনাচা। এখন অর্চনা একজন সফল মহিলা উদ্যোগী। ওঁর সংস্থার মাম PinkApple। এই সংস্থাটির কাজ করে থাকে স্পেস ডিজাইন, প্রোডাক্ট ইনোভেশন এবং ডিজাইন সার্ভিস স্টুডিও নিয়ে।

উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পরে নিজের পছন্দের বিষয় নিয়ে পড়তে অর্চনা ভর্তি হন সৃষ্টি স্কুল অব ডিজাইনে। এখানে পাঁচটি বছর পড়াশোনার শেষে অর্চনা একাধিক সংস্থায় চাকরি করেছেন। অর্চনা বললেন, সৃষ্টি স্কুল অব ডিজাইন আমার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। এখানে আমি কেবলমাত্র ডিজাইন করা সম্পর্কেই শিখিনি, সেইসঙ্গে শিখেছি কীভাবে বাঁচতে হয়।

চাকরি করাকালীন অর্চনার বারংবার মনে হচ্ছিল, তিনি নিজে যেভাবে কাজ করতে চাইছেন, সেই সুযোগ চাকরিতে পাচ্ছেন না। ফলে নিজেই কম্পানি তৈরির ব্যাপারে পরিকল্পনা করেন। অর্চনার সংস্থা PinkApple এখন কাজ করছে গল্ফ ক্লাব কিংবা তাজ গ্রুপের মতো নামী সংস্থার সঙ্গেও।

অর্চনা নিজের সঞ্চিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েছেন অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে। সম্প্রতি তাঁর সংস্থার তরফে বেঙ্গালুরুতে খোলা হয়েছে একটি বুটিক রেস্টুরেন্ট। ব্যবসায়িক সাফল্যের জেরে ২০১২ সালে অর্চনার সংস্থা প্রাইভেট লিমিটেড কম্পানিতে পরিণত হয়েছে। বেঙ্গালুরুর অভিজাত এলাকায় এখন ওঁদের ১৪০০ স্কোয়ার ফুটের নিজস্ব অফিস। আর সংস্থায় স্থায়ী কর্মী হিসাবে কাজ করছেন মোট ১৮জন কর্মী।

ডিজাইনের কাজের পাশাপাশি টেলরিংয়ের কাজও করছেন অর্চনা। অর্চনা জানিয়েছেন, এ কাজের জন্যে কাজে লাগানো হচ্ছে মেয়েদের। তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যেমন, রামানগরমের বাসিন্দা মুসলিম সম্প্রদায়ের মেয়েদের এমব্রয়ডারির প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের দিয়ে টেলারিংয়ের কাজ করানো হচ্ছে।

নিজের ব্যবসায়িক সাফল্য প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অর্চনা বলেছেন, আমার বাবা বলতেন যদি তুমি কঠোর পরিশ্রম করো এবং ধৈর্য বজায় রাখো, তাহলে তুমি সফল হবেই। আর একটি জিনিসও দরকার। বর্জন করতে হবে ইগো। এই ধরনের টোটকাই প্রতিষ্ঠিত হতে বিশেষভাবে সহায়তা করেছেন বলে জানালেন অর্চনা।