শিকড়ই বিনিতার ডালপালা বিশ্বজুড়ে মেলে দিয়েছে

0

কলকাতার মেয়ে বিনিতা জৈন। ছোটবেলাটা কেটেছে ‌আসাম আর দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি এলাকায়। সেইসময়ে তিনি লক্ষ্য করেছিলেন, বাড়ির বড়রা কারও অসুখ করলে স্থানীয় জরিবুটির টোটকাই কাজে লাগাতেন। কাজও হত দারুন। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতেন কীভাবে গাছের পাতা, চন্দন, মধু আর নানান জরিবুটি দিয়ে তৈরি হত একেকটা কঠিন ব্যামোর নিরাময়। শর্দি কাশি, জ্বর এসবে কখনও ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজনই পড়েনি। আয়ুর্বেদের প্রাচীন পন্থাতেই ভরসা ছিল বিনিতার। ছোটবেলার আগ্রহের এই ক্ষেত্রটি ক্রমে তাঁকে বিশ্বজোড়া সাফল্য এনে দিয়েছে। এটাই পরবর্তীকালে পেশাগত জীবন বাছতে গিয়ে কাজে লেগে গেছে বিনিতার। ফলে বিনিতার সাফল্যের নেপথ্য কাহিনি লুকিয়ে আছে ওর দাদি ঠাকুমার দৈনন্দিন কিস্সায়।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক স্তরের লেখাপড়া শেষ করে বিনিতা উচ্চশিক্ষার জন্যে ১৯৯০ সালে পাড়ি দিয়েছিলেন সুইৎজারল্যান্ডে। সেখানে তিনি বায়োটেকনোলজি নিয়ে লেখাপডা করেন। পরে কিছুদিন গবেষণাও করেছেন। এরপরে ১৯৯৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে মার্কেটিং নিয়ে একটি কোর্স করেন।

তবে বরাবরই তাঁকে টেনেছে ৫০০০ বছরের পুরনো আয়ুর্বেদ। বিনিতা বললেন, উদ্যোগপতি হওয়ার জন্যে আমি কোথাও কোনও প্রশিক্ষণ নিইনি। আয়ুর্বেদের প্রতি ভালোবাসার টানে ৯০ দশকেই নিজের সংস্থা Biotique এর জন্ম দেন। প্রাথমিক পুঁজি ছিল ১০ কোটি টাকা। আর গোড়া থেকেই তাঁর সঙ্গে ছিলেন একঝাঁক চিকিৎসক।

বর্তমানে সারা পৃথিবী জুড়ে ব্যবসা করছেন বিনিতা। Biotique এর আয়ুর্বেদিক প্রোডাক্টগুলি তৈরি করা হচ্ছে হিমাচল প্রদেশে সংস্থার নিজস্ব কারখানায়। গবেষণা শাখাটি রয়েছে সুইৎজারল্যান্ডে। Biotique এ তৈরি আয়ুর্বেদিক প্রোডাক্টগুলি রফতানি করা হচ্ছে আমেরিকা, স্পেন, ফ্রান্স, নে্দারল্যান্ড, ইটালি, বেলজিয়াম ছাড়াও নেপাল, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং শ্রীলঙ্কাতে।

ব্যবসায়িক লাভালাভ নিয়ে বলতে গিয়ে ৪৭ বছরের মহিলা উদ্যোগপতি বিনিতা বলেন, সংস্থার বর্তমান টার্নওভার ৬০০ কোটি টাকা। সংস্থার মোট ব্যবসার ভিতর ৬৫ শতাংশ ব্যবসাই হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে।

বিনিতার সংস্থায় এখন মোট কর্মী রয়েছেন ৩০০০ এর বেশি। মোট কর্মীদের ভিতর ৭৫ শতাংশই মহিলা। সেই প্রমীলা বাহিনীর সহায়তাতে বিশ্বজোড়া ব্যবসায় সফল তিনি।

Related Stories