কারওয়ালের সঙ্গে কারট্রেডের গাঁটছড়া

0

অটোমোবাইল ব্যবসা আকছার ঘটছে গাঁটছড়া। এরকমই উল্লেখযোগ্য একটি সংযুক্তিকরণ হল ‘কারওয়ালে’ ও ‘কারট্রেড’ এর। কারণ কারওয়ালের বিনিয়োগকারী সংস্থা অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গার তাদের বিনিয়োগ সরিয়ে নিচ্ছে। অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গার তাদের ৯১ শতাংশ ‘হোল্ডিং’ ‘কারওয়ালে’র কাছে বিক্রি করে দেবে। ইন্ডিয়া টুডে ও অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গার – এই দুই সংস্থা ২০১০ এ মিলিতভাবে কারওয়ালের মালিকানা নিয়েছিল।

পরে ইন্ডিয়া টুডের থেকে তাদের সমস্ত শেয়ার কিনে নিয়ে অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গার হয়ে ওঠে ‘কারওয়ালে’র একচ্ছত্র লগ্নি সংস্থা। কারওয়ালে ‘ইয়োরিস্টোরি’কে অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গারের বিনিয়োগ প্রত্যাহারের খবর জানিয়েছে। তবে সংযুক্তিকরণ হলেও উভয় সংস্থাই পৃথকভাবে, স্বাধীনভাবে নিজেদের ব্যবসা চালাবে।

একটি ই-মেল মারফত ‘কারওয়ালে’ সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে যে – “চুক্তির কাঠামো বা অর্থ বিনিময় সংক্রান্ত কোনো তথ্য দেওয়ার মত অবস্থায় আমরা এইমুহুর্তে নেই। অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গার বাস্তবিকই তাদের বিনিয়োগ তুলে নিচ্ছে, যেটা অনেকটা মালিকানা হস্তান্তরের মত শোনাচ্ছে। কিন্তু ঘটনা হল এই দুই সংস্থা যুক্ত হচ্ছে বাজারের একচ্ছত্র দখল নেবার পরিকল্পনাকে মাথায় রেখেই।”

পুরানো সংস্থা ‘কারওয়ালে’র ইতিহাসে এটা হল ‘সংযুক্তিকরণ/অধিগ্রহণ’ এর দ্বিতীয় ঘটনা। ইতিপূর্বে অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গার ও ইন্ডিয়া টুডে সম্মিলিত ভাবে এই সংস্থা অধিগ্রহণ করেছিল। এবং এবারে এই সংস্থা সংযুক্ত হল ‘কারট্রেড’ এর সাথে। অনলাইনে নতুন গাড়ির ব্যবসায় কারওয়ালে একটি প্রথম সারির নাম। অন্যদিকে, কারট্রেড মূলত ব্যবসা করে পুরানো গাড়ির উপর।

২০০৯ সালে তৈরি হওয়া সংস্থা ‘কারট্রেড’ ২০১৪ তে ওয়ারবার্গ পিঙ্কাস, টাইগার গ্লোবাল এবং কানান পার্টনার্স এর থেকে ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার লগ্নি সংগ্রহ করেছে। এই সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুসারে, তাদের তালিকাভুক্ত ব্যবহৃত গাড়ির সংখ্যা হল ১০০,০০০। এবং প্রত্যেকমাসে ৪০ লক্ষেরও বেশি ‘ইউনিক ভিসিটর’ তাঁদের ওয়েবসাইট দেখেন। ‘কারট্রেড’ সম্প্রতি আমেরিকা নির্ভর শ্রেণীবদ্ধ অটোমোবাইল ব্যবসার সংস্থা ‘অটো ট্রেডার’ এর প্রাক্তন সিইও চিপ পেরির কাছ থেকেও বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে। যদিও সে বিনিয়োগের পরিমাণ কত, তা জানা যায়নি।

‘কারওয়ালে’ তাদের বক্তব্যে আরো জানিয়েছে যে “উভয় সংস্থার কাছেই এটা নিজেদের ব্যবসাকে অনেকগুণ বাড়িয়ে তোলার একটা বড় সুযোগ। এই সংযুক্তিকরণের ফলে আমরা আধুনিক গুণমানের পণ্য যোগান দিতে পারব এবং সেটাকে অনেক ভালোভাবে অর্থমূল্যে রুপান্তরিত করা সম্ভব হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে অটোমোবাইল ব্যবসা্র পরিসর বর্তমানে তার ব্যবসায়িক পরিক্রমার দ্বিতীয় পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং বিগত ১৮ মাসে সংস্থাগুলি মোট ১২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। অনলাইন পর্যটন ব্যবসার পাশাপাশি কয়েকবছর আগে শ্রেণীবদ্ধ ব্যবহৃত গাড়ির ব্যবসাকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বলে মনে করা হলেও কিছুদিন আগে অবধিও এই সংস্থাগুলি লগ্নি টানতে পারছিলনা।

‘কারট্রেড’ এর ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী ‘কারদেখো’ সম্প্রতি রতন টাটার সাথে যুক্ত হয়েছে এবং চীনা ফান্ড হিলহাউস ক্যাপিটাল ও টাইবোর্ন ক্যাপিটাল এর সাহায্যে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার লগ্নি টানতে পেরেছে। এবছর জানুয়ারি মাসে সংস্থার ‘পোস্ট-মানি ভ্যালুয়েশান’ ছিল ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সিরিয়াল আন্তপ্র্যানর সন্দীপ আগরওয়ালের সাহায্যে লাইটবক্স পরিচলিত ‘Series A’ ফান্ডিং থেকে ‘ড্রুম' ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার(ভারতীয় টাকায় যার পরিমান ১০০ কোটি) সংগ্রহ করেছে।

ইয়োস্টোরি’র মতামত -

ইতিপূর্বেই আমরা উল্লেখ করেছি যে অটোমোবাইল ব্যবসার পরিসর বর্তমানে সংস্থাদের পারস্পরিক সংযুক্তিকরণ/অধিগ্রহণের জন্য উপযুক্ত অবস্থায় রয়েছে। ‘কারদেখো’ এর জিগহুইল্‌স্‌’ অধিগ্রহণ এবং ‘কারট্রেড’ এর ‘কারওয়ালে’ অধিগ্রহণ সেটারই সাক্ষ্য বহন করছে। একটি কনসালটেন্সি ও মার্কেট রিসার্চ সংস্থা ‘ফ্রস্ট অ্যান্ড সালিভান’ এর থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, গত বছর ভারতে বিক্রয় হওয়া নতুন গাড়ির সংখ্যা ছিল ২৫ লক্ষ’র কাছাকাছি, যেখানে এই একই সময়পর্বের মধ্যে বিক্রি হয়েছিল ৩০ লক্ষ ব্যবহৃত গাড়ি।

এই অধিগ্রহণ কারট্রেডের পক্ষে যথেষ্ট লাভজনক হয়েছে, কারণ এটা নতুন গাড়ির ব্যবসা বাড়াতে সাহায্য করবে। ‘ কারওয়ালে’র সাথে সংযুক্তিকরণের ফলে নতুন গাড়ি ও পুরানো গাড়ির ব্যবসায় ‘কারট্রেড’ অন্যান্যা সংস্থার সাথে স্বচ্ছন্দভাবে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা চালাতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।

‘কারট্রেড’ এর প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থাগুলি হল ‘কারদেখো’, ‘ড্রুম’ এবং একইধরনের কিছু শ্রেণীবদ্ধ পোর্টাল ‘কুইকার ও ওএলএক্স’। ব্যবহৃত গাড়ির ব্যবসায় প্রবেশ করার জন্য কুইকার এই বছর আগস্ট মাসে ‘কুইকার কার্‌স’ চালু করেছে।

অদুর ভবিষ্যতে অটোমোবাইল ও শ্রেণীবদ্ধ ব্যবসার পরিসরে এরকম আরো একাধিক সংযুক্তিকরণ/অধিগ্রহণের ঘটনা ঘটতে পারে। ওএলএক্স বা কুইকারের মত বৃহৎ সংস্থাগুলি আগামীতে রিয়েল এস্টেট এবং অটোমোবাইলের ব্যবসায় জোর দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সংক্রান্ত আরো তথ্য পাওয়ার জন্য চোখ রাখুন আমাদের ওয়েবসাইটে।

(লেখা - জয় বর্ধন, অনুবাদ – সন্মিত চ্যাটার্জী)