পথের সারমেয়দের সেবায় PAWS

0

ঘটনা ১ ... ভালোবেসে রাস্তার এক কুকুরকে ফ্ল্যাটে নিয়ে এসেছিলেন দূর্বা ঘোষ। কিন্তু দূর্বা দেবীর ফ্ল্যাটে নতুন অতিথির আগমনে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন ফ্ল্যাটের অন্য বাসিন্দারা। রাস্তার কুকুরকে ওই ফ্ল্যাটে রাখার ব্যাপারে আপত্তি জানায় তাঁরা৷ এতেই চটে যান দূর্বা দেবী৷ কুকুরের সঙ্গে এই অবিচার সহ্য করতে না পেরে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করে বসেন। তাঁর অভিযোগ, কুকুরটিকে মারধর করতেন ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা। তারপর .....

ঘটনা ২ ... ব্যস্ত বাইপাসের পাশে আহত অসহায় এক কুকুরকে পড়ে থাকতে দেখে, চুপ করে বসে থাকতে পারেননি তিয়াসা। ব্যস্ত হাইওয়ের মধ্যে দিয়ে পারাপারের সময় গাড়ী দূর্ঘটনায় আহত হয় কুকুরটি। কুকুরটি এতটাই আহত ছিল যে, তার পক্ষে রাস্তা পার হওয়া বা এগিয়ে আসা সম্ভব ছিল না। আহত কুকুরটিকে উদ্ধার করেন তিয়াসা।

এরপর ..... পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার প্রসেনজিৎ দত্ত একদিন অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে দেখতে পান একটি কুকুর একপায়ে আঘাত পেয়েছে.. খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাঁটছে..। তখন প্রসেনজিৎ বাবু কুকুরটিকে বাড়িতে নিয়ে আসেন, সেবা শুশ্রূষা করেন বেশ কয়েকদিন ধরে। প্রসেনজিৎ বাবু যখন বাড়ি ফিরতেন দেখতে পেতেন ভোলু বাড়ির সামনে বসে .... নিজে হাতে রোজ খাবার খাওয়াতেন ভোলু কে। সেই থেকে ভোলু যে কবে বাড়ির একজন হয়ে গেছে টেরই পাননি প্রসেনজিৎবাবু। তখনই তাঁর মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে ... রাস্তার কুকুরদের জন্য যদি কিছু করা যায়। সেটা আজ থেকে দশ বছর আগের কথা। সে সময় প্রসেনজিৎ দত্ত পাশে পয়েছিলেন বেশ কয়েকজনকে। সারমেয়দের সেবায়, রাস্তার অসুস্থ, আহত কুকুরদের জন্য তাঁদের সহয়োগিতায় গড়ে উঠল পশুপতি অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। ভাবনার রূপকার প্রসেনজিৎ দত্ত।দমদম অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির সিকিউরিটি অফিসার নিবেদিত বাসু সংস্থার সভাপতি। গত তিন বছর ধরে পশুদের সেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিনেত্রী তিস্তা দাস। তিনিও এই সংগঠনের সঙ্গে। পাশে পেয়েছেন ব্যারাকপুরের জয়তী চৌধুরীকে। জয়তী দেবীর তো আবার তো পোষ্যদের জন্য বিশাল পসার। পেট শপ থেকে ক্লিনিক এমনকি তিনি ক্রেস ওনারও। বোর্ড মেম্বারদের মধ্যে রয়েছেন সুতপা ঢালি, নিলাঞ্জন রায়।পশুপতি অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি মূলত স্ট্রিট ডগদের আস্তানা বলা যায়। আবার আস্তানা বললে ভুল হবে। রাস্তার কুকুরদের কথা আর কে ভাবে। খাবার না পেয়ে বেশি চিৎকার করলে পাড়ার রকবাজদের ঠ্যাঙানি খেতে হয়। কিংবা পাথরের আঘাত। আর তাতেই সারমেয় শরীরে ক্ষত। তখন আর কেউ দেখার থাকে না। প্রসেনজিৎ বাবুরা পাড়ার, রাস্তার সেই সব আহত কুকুরদের পশু চিকিৎসালয়ে নিয়ে গিয়ে সেবা করেন। সারিয়ে তোলেন। আসলে কুকুর প্রভুভক্ত গৃহপালিত পশু হিসেবেই পরিচিত আমাদের কাছে। সারমেয়দের সততা নজরকাড়ে। তাই জীবে প্রেম করে রায়।পশুপতি অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। রাস্তার আহত অসুস্থ কুকুরদের অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে পশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন ওঁরা। সঠিক চিকিৎসা পেলে সেরেও ওঠে। এখানেই থেমে নেই।

বাড়িতে কুকুর পুষে, তাদের ওপর অত্যাচার করেন অনেকে।এমন মানুষও নাকি পাওয়া যায়। সম্প্রতি সল্টলেকের এক বাসিন্দার বিরুদ্ধে কুকুর হত্যার অভিযোগে আইনি পদক্ষেপও করেছে এই সংগঠন। আপনি যোগাযোগ করতে চান পশুপতি অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সঙ্গে ... ওদের ফেসবুক পেজ রয়েছে । সেখানে আপনি যোগাযোগের সব সুলুক সন্ধানই পেয়ে যাবেন। সহানুভূতিশীল, পশুপ্রেমীরা ডোনেশনও দিতে পারেন । ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর সবকিছুই সবিস্তানে লেখা রয়েছে। গতবছরই তো ওরা একটা হোয়াটস আপ গ্রুপও তৈরি করে ফেলেছে। যাঁর নাম দিয়েছেন জীব বন্ধু। সত্যিই তো ওরা বন্ধুর মতো পাশে থাকতে চায় পথের কুকুরদের।