দুর্গাপুরের মিষ্টিমেলায় ডায়েট ডিশ সুপারহিট

0

ভাপা সন্দেশ, ক্ষীরের পাটিসাপটা, গাজরের হালুয়া, জলভরা তালশাস, ক্ষীরের পান্তুয়া, রসগোল্লা, ভ্যানিলা অথবা চকলেট স্বাদের টু ইন ওয়ান- মিষ্টিপ্রিয় বাঙালির আর কী চাই? রাস্তার ধারের দোকানে কাঁচের রেকাবে সাজানো মিষ্টিতেই জিভ সামলানো দায়, আর মিষ্টির মেলা বসলে কী অবস্থা হবে বুঝুন। যেদিকে তাকাবেন লোভনীয় সব মিষ্টির পসরা। মিষ্টিসুখের উল্লাসে মাততে পারলেই কেল্লা ফতে!তার খানিকটা আন্দাজও মিলেছে দুর্গাপুরের মিষ্টিমেলায়।

মকর সংক্রান্তির আর দিন কয়েক বাকি। সংক্রান্তি আর বাঙালির পিঠে পার্বণ একই মুদ্রার যেন এদিক ওদিক। অবশ্য এবার তেমন শীত পড়েনি। জবুথুবু শীতে মকর স্নান শেষে ভাজা পিঠের সেই অতীতচারণ এবার বোধহয় তেমন জমবে না। তাতে খাদ্য বিলাসি বাঙালি কবে দমেছে? দমেনি, আর দমেনি বলেই একমাত্র বাঙালিরই রয়েছে প্রিয় খাবার নিয়ে উৎসবের মাতামাতি। আর সেই রীতি ধরেই যেন গান্ধিমোড় ময়দানে মিষ্টিমেলা। মাঘ ছুঁইছুঁই পৌষ শেষে দুর্গাপুরের মিষ্টিমেলায় ভিয়েন বসিয়েছেন রাজ্যের সব জেলার সেরা মিষ্টির কারিগররা। জলপাইগুড়ির বেলাকোবার চমচমই হোক কিম্বা মুর্শিদাবাদের রসবড়া। বর্ধমানের ল্যাংচার সঙ্গে দাপটে রাজ করছে মিষ্টি মেলায়। মেলায় ভিড়ও তেমন। তেত্রিশটি স্টলে মিষ্টিমুখ করছেন মিষ্টি রসিকরা।

শীতের খামখেয়ালীপনায় এবার মাথায় হাত পড়েছিল নলেনগুড়ের কারিগরদের। তবু আশা ছাড়েননি। শীত পড়ুক আর নাই পড়ুক বাঙালির মিষ্টি নিয়ে আদিখ্যেতা যে কমবে না সেই ভরসা ছিলই। মেলার আয়োজনে হাতে যেন চাঁদ পেলেন মিষ্টি ব্যবসায়ীরা। নলেনগুড়ের তৈরি হরেক মিষ্টি, সন্দেশ, রসগোল্লা দেদার বিকিয়েছে মিষ্টিমেলায়। মিষ্টির এমন রকমারি সম্ভারে খেই হারিয়েছেন কতজন। ডায়বেটিস, ফ্যাট চুলোয় যাক বলে চোখ বুজে ডুব দিয়েছেন জলভরা তালশাসে, কেউ স্ব-ইচ্ছেয় গিয়ে পড়লেন তাঁতিপাড়ার জিলিপির প্যাঁচে! মেলার দাঁড়িয়ে ইচ্ছেমতো মিষ্টিভোজ সেরে বাড়ির জন্য বেঁধে নিতে ভুলেলন না সিউড়ির হরেক কিসিমের মোরব্বা। মেলায় এলে জয়নগরের মোয়ার দোকান মিস হবে ভাবাই যায় না। বর্ধমানের সীতাভোগ-মিহিদানা, শক্তিগড়ের ল্যাঙচা, কৃষ্ণনগরের সরপুড়িয়া-এ বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায় দেখ! শুধু বাঙালি কেন, মেলায় অবাঙালিদেরও মিষ্টি চাখার ভিড় ছিল দেখার মতো।

গীতাঞ্জলি নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গত তিন বছর ধরে দুর্গাপুরের গান্ধীমোড় ময়দানে মিষ্টিমেলার আয়োজন করছে। দুর্গাপুর তো বটেই, আশেপাশের জেলার মানুষও সাদরে বরণ করেছে এই মেলাকে। প্রতিদিন সকালে গেট খুলতেই ভিড় লাগে খাদ্যরসিকদের। পেট ভরে মিষ্টি খাওয়ার সঙ্গে বাড়ির জন্য বেঁধে নিয়ে যাওয়াতো মাস্ট! ডায়াবেটিস রোগীদের মন খারাপের কিচ্ছু নেই। কারণ প্রায় প্রতিটি স্টলেই তাদের জন্য সুগার-ফ্রি রসগোল্লা, সন্দেশ সহ নানা ধরনের মিষ্টি রাখা ছিল। এমন মেলার আয়োজনে খুশি মিষ্টি ব্যবসায়ীরাও। মিষ্টির চিরাচরিত আইটটেমের বাইরে গিয়ে কিছু এক্সপেরিমেন্টও সেরে নিয়েছেন কারিগররা। নতুন ধরনের মিষ্টিতে কেমন সাড়া তাও বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। দুর্গাপুরেরই এক মিষ্টি বিক্রেতা বিমল ঘোষ জানান, মিষ্টির তিন রকম নতুন আইটেম নিয়ে এসেছিলেন মেলায়।ভালই সাড়া পেয়েছেন। এবার থেকে তাঁর দোকানেই পাওয়া যাবে মিষ্টিগুলি।

মেলায় বাড়তি পাওনা ছিল পুরুলিয়ার ছৌনাচ থেকে পুতুলনাচ, নামী শিল্পীর গান। শীতের আমেজ মেখে মিষ্টিসুখ আর মেঠো নাচ-গান, শহুরে ছুটে চলা জীবনের ফাঁকে ওইটুকুন পাওনা হাতে আসা একফালি চাঁদ যেন!